আল্লাহ যার উপর নারাজ হন তার সাথে এ ৫টি অঘটন ঘটে। Bangla Islamic video
আল্লাহ নারাজ হলে সে বান্দার সাথে এমন ৫টি কান্ড হয়
একটা কথা মনে
রাখবেন মাল আসা খোশনসিব হওয়ার লক্ষণ নয়, আমল করার তৌফিক মিলে যাওয়াই হল খোশনসিবির আলামত।
মাল ও দৌলত
আল্লাহ তায়ালা ফেরাউনকেও দিয়েছেন। কারুনকেও দিয়েছেন। হামানকেও দিয়েছেন।
আজকাল আমরা
কিছু সম্পদ পেলে এতই খুশী হই যে নিজেকে বড়ই সৌভাগ্যবান মনে করতে থাকি। নামাজ ছুটে গেল
তাতে কোন টেনশন নাই।
অথচ আল্লাহ
কোন বান্দার উপর নারাজ হন, তার কাছ থেকে রিজিক ছিনিয়ে নেন না, আল্লাহ যখন কারো উপর
নারাজ হন তখন তার কাছ থেকে সিজদার তৌফিক ছিনিয়ে নেন।
আল্লাহ যখন
নারাজ হন তখন তার জন্য অক্সিজেন বন্ধ করে দেন না, আল্লাহ যখন নারাজ হন তখন তার জন্য
সুর্য্যের কিরন বন্ধ করে দেন না।
আল্লাহ যখন
কারো উপর নারাজ হন তাকে হেদায়েতের নিয়ামত থেকে বঞ্চিত করেন
আল্লাহ যখন
কারো উপর নারাজ হন তার মনের শান্তি কেড়ে নেন।
আল্লাহ যখন
কারো উপর নারাজ হন তখন আল্লাহর ভয় ভীতি তার অন্তর থেকে ছিনিয়ে নেন।
মানুষ মনে
করে আমি নামাজ পড়ব না, তুমি কে যে নামাজে যাওনা? বরং মালিক তোমাকে তার ঘরে যাওয়ার তৌফিক
ছিনিয়ে নিয়ে জানান দিচ্ছে তিনি তোমার উপর নারাজ।
সামান্য
একজন মেম্বার, চেয়ারম্যান বা মন্ত্রী ডাকলে আপনি ফখর করে সকলকে বলেন আমাকে মন্ত্রী
ডেকেছে, আর ৫ ওয়াক্তে মসজিদের মিম্বর থেকে রাজাধিরাজ মহান অধিপতি রবের পক্ষ থেকে আহ্বান
আসে আর সে ডাকে তুমি যদি না যাও তাহলে বুঝে নাও তোমাকে মহান রব ডাকেনই নাই। সে আওয়াজ
সে আযান তোমার কান পযন্ত গিয়েছে ঠিকিই কিন্তু তোমার রুহ পযন্ত পৌঁছেনি। আল্লাহ বলেন
- আমি তাদের কানে পর্দা ঢেলে দেই, তাদের চোখে পর্দা ঢেলে দেই, তাদের অন্তরে পর্দা ঢেলে
দেই,
বান্দা
বলে আমি পড়বনা। তুমি কে না পড়ার? বরং তোমার মত নালায়েককে আল্লাহ তার সিজদার জন্য যোগ্যই
মনে করেননি।
সেজন্য
হযরত আবদুল্লাহ আলভি (রহ) এরশাদ করেন- যদি কারো ব্যপারে জানার ইচ্ছা হয় যে সে আল্লাহর
রহমতের নজর থেকে মাহরুম কিনা, তাহলে দেখ সে যদি গুনাহে ডুবে থাকে কিনা। যদি গুনাহে
ডুবে থাকে তাহলে বুঝে নাও, সে আল্লাহর রহমতের নজর থেকে বঞ্চিত।
আমার
প্রিয় আকা ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরে পেয়ারা দিওয়ানারা! যে হালতে আছেন সে হালতে
আল্লাহর শোকর আদায় করুন।
আপনি
মেহনত করছেন কষ্ট করছেন তারপরও যদি আপনার রিজিক খুবই কম হয় কামাই খুবই কম হয়, আপনি
এর জন্য আল্লাহর কাছে শেকওয়া করবেন না, বরং সন্তুষ্টী প্রকাশ করুন।
আমাদের
পেয়ারা নবী (দ) অত্যন্ত পেয়ারা একটি হাদীস এখানে প্রনিধানযোগ্য, সৈয়্যদেনা ফারুকে আজম
(রা) একদিন রাসুলে আকরাম (দ) এর কাছে সাক্ষাতের জন্য তশরীফ নিয়ে গেলেন, তখন সরকার
(দ) যে চাটাই এর উপর আরাম করছিলেন, সে চাটাই এর নিশানা হুযুর (দ) এর পিট মোবারকে স্পষ্ট
দেখা যাচ্ছিল, ফারুকে আজম (রা) কান্না জড়িত কন্ঠে হুজুর (দ) কে আরজ করলেন এয়া রাসুলাল্লাহ
(দ) কায়সার ও কিসরার বাদশারা বড় বড় মহলে আরামদায়ক বিছানায় ঘুমায় আর আল্লাহ যাকে মহব্বত
করেন সে রাসুল এমন চাটাই এর উপর ঘুমাচ্ছে? যে চাটাই এর নিশান হুজুরের শরীরে দেখা যাচ্ছে?
হুজুর
(দ) ফরমালেন হে ওমর কেন কাঁদছ ? তখন ফারুকে আজম আরজ করলেন কায়সার ও কিসরার বাদশা হল
দুশমনে খোদা, তারা এমন বিছানায় ঘুমায় যা নরম এবং আরামদায়ক, আর সরকার যে চাটাইতে ঘুমাচ্ছে
তার নিশান আপনার শরীরে ভেসে উঠেছে। তখন হুযুর (দ) বিছানা থেকে উঠে বসলেন আর ফরমালেন-
হে ওমর তাদের জন্য দুনিয়া আর আমাদের জন্য আখেরাত।
সেজন্য
আকলমন্দ সে যে দুনিয়ার জিন্দেগীর জন্য পাগল হয়না, সে বুঝতে পারে দুনিয়ার জিন্দেগী হল
ক্ষনস্থায়ী, আর এই ক্ষনস্থায়ী জিন্দেগীর কষ্ট সহ্য করে যদি আমরা আখেরাতের জন্য ভালো
শস্য বপন করতে পারি তাহলে চীরস্থায়ী জীন্দেগী সুখের হবে। আরামদায়ক হবে।।

কোন মন্তব্য নেই