শ্রেষ্ঠ ও সফল মানুষ হওয়ার সেরা আমল মুক্তার চেয়ে দামী সাহাবীদের বিষ্ময়কর ১০টি ঘটনা
শ্রেষ্ঠ ও সফল মানুষ হওয়ার সেরা আমল, মুক্তার চেয়ে দামী সাহাবীদের বিষ্ময়কর ১০টি ঘটনা
(খাইরুন
ন্নাসি মান এয়ান ফাউন নাস)
সেই উত্তম মানুষ যে মানুষের উপকার
করে।
অন্যের জন্য কিছু করা মানবিক গুণ। মানবতার ধর্ম ইসলামে এই গুণটি বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এই মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে বিপদে অন্যের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের শিক্ষা। নিজের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে পারে সবাই, কিন্তু পরের জন্য কিছু করার মতো উদারতা ও মহত্ব ক’জনের আছে। যারা অন্যের উপকার কারে তারা আল্লাহর প্রিয়। আল্লাহ যেমন উদার ও মহামহিম তেমনি এই গুণ যার মধ্যে আছে তাকে পছন্দ করেন। পরোপকার দ্বারা সহজেই আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যায়।
-রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের সঙ্গে সদয় ব্যবহার ও দয়া করে না, আল্লাহ তায়ালাও তার সঙ্গে সদয় ব্যবহার এবং দয়া দেখাবেন না।’
-অন্য হাদিসে আছে, ‘আমার উম্মতের বহু লোক নামাজ ও রোজার আধিক্যের কারণে জান্নাতে যাবে না। বরং আল্লাহ তায়ালা তাদের অন্তরের পরিশুদ্ধতা, আন্তরিকতা, দানশীলতা ও সব মুসলমানের প্রতি দয়ার্র্দ্র হওয়ার কারণে তাদের প্রতি করুণা করবেন। ফলে তারা জান্নাতে যাবে।’
-হাদিসে আছে, যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দুঃখ-কষ্ট দূর করবে, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তার বিপদগুলোর কোনো একটি বিপদ দূর করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবে, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন।’ এ জন্য এই মহৎ গুণটি প্রত্যেক মুসলমানের মধ্যে থাকা চাই।
-(আবু দাউদ, হাদিস : ১৭৫২) মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে মুসলমান অপর কোনো মুসলমানকে বস্ত্রহীন অবস্থায় বস্ত্র দান করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে সবুজ বর্ণের পোশাক পরাবেন, খাদ্য দান করলে তাকে জান্নাতের ফল খাওয়াবেন, পানি পান করালে জান্নাতের শরবত পান করাবেন।’
-চমৎকার হাদীস হজরত আবু হুরায়রা (রা:) ও হজরত ইবনে ওমর (রা:) থেকে বর্ণিত, তারা বলেন, রাসূল (সা:) বলেছেন, কোনো মুসলমান যখন অন্য মুসলমানের উপকারের জন্য অগ্রসর হয় এবং উপকারটি সম্পন্ন করে, তখন আল্লাহ তার মাথার ওপর ৭৫ হাজার ফেরেস্তা ছায়া সৃষ্টি করে দেন। এ ফেরেশতারা তার জন্য আল্লাহপাকের কাছে দোয়া করতে থাকে। উপকার টা সকালে করা হলে বিকাল পর্যন্ত দোয়া চলে, আর বিকালে করা হলে ফেরেশতারা সকাল পর্যন্ত দোয়া করতে থাকে। আর সে ব্যক্তির প্রত্যেক কদমে একটি করে গোনাহ মাফ হয় এবং একই সাথে একটি করে মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। [ইবনে হিব্বান মুনজিরি:৩৮৬৮]।
-দারুন হাদীস- হজরত ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা:) বলেছেন, একজন মুসলমান যখন অপর মুসলমানের উপকারের জন্য গমন করে, তাকে ১০ বৎসর নফল ইতিকাফ করার চেয়েও বেশি সওয়াব দেওয়া হয়। আর আল্লাহপাকের সন্তুষ্টির জন্য যে ব্যক্তি একদিন ইতিকাফ করে, জাহান্নামকে তার থেকে তিন খন্দক দূরে সরিয়ে দেয়া হয়। প্রত্যেক খন্দকের ব্যবধান হলো আসমান থেকে জমিনের দূরত্বের সমপরিমাণ {মুসতাদরাকে ইমাম হাকিম, চতুর্থ খন্ড, ২৭০ পৃ:}
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ
رَسُوْلُ اللهِ ﷺأفْضَلُ الأَعْمالِ أنْ تُدْخِلَ على
أخِيكَ المُؤمِنِ سُرُوراً أوْ تَقْضِيَ عنهُ دَيْناً أوْ تُطْعِمَهُ خُبْزاً
ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সর্বশ্রেষ্ঠ
আমল হল, (মু’মিন) মুসলিমের মনে তোমার আনন্দ ভরে দেওয়া, অথবা তার ঋণ পরিশোধ করে দেওয়া অথবা তাকে রুটি খাওয়ানো।
(বাইহাক্বী ৭৬৭৮,
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ
رَسُوْلُ اللهِ ﷺ
أحَبُّ النَّاسِ إِلَى اللهِ أنْفَعُهُمْ وأحَبُّ الأعْمَالِ إلى الله عَزَّ
وجَلَّ سُرُورٌ تُدْخِلُهُ على مُسْلِمٍ
ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়তম মানুষ সেই ব্যক্তি, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশী উপকারী এবং আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়তম আমল সেই আমল, যা ক’রে একজন মুসলিমকে আনন্দ দেওয়া যায়।
(ত্বাবারানী ১৩৪৬৮, ইবনে আবিদ দুনয়া, সহীহ তারগীব ২০৯০,
- দামী হতে হলে একে অপরের কল্যান কামনা
করতে হবে
মানুষ মানুষের কল্যান কামনা করা, ভাই ভাই এর কল্যান কামনা করা, পিতা
সন্তানের সন্তান পিতা মাতার কল্যান কামনা করা, ইমাম মুসল্লীদের মুসল্লীরা ইমামের কল্যান
কামনা করা।
- আমাদের নবী কাফেরেরও অকল্যান কামনা
করেনি
তায়েফের ময়দানে নবীজি কালেমার দাওয়াত নিয়ে গেলে তারা আমার নবীকে পাথর
মারতে মারতে রক্তাক্ত করে ফেললেন, হযরত জিবরাইল এসে বলে ওগো নবী আপনি যদি অনুমতি দেন
তাহলে এসব বেয়াদবদের দুই পাহাড়ের ঘষা দিয়ে ধ্বংস করে দিব, কিন্তু দয়াল নবী দুইহাত তুলে
দোয়া করেন ওগো আল্লাহ ওরা আমারে চিনে নাই আপনি যদি তাদের ধ্বংস করে দেন তাহলে আমি কাদের
কাছে কলমার দাওয়াত পৌঁছাবো?
-আমাদের দোয়া কবুল হয়না কারন অকল্যান
কামনা করি
নবী সাহাবাগনের চরিত্র ছিল অপরের কল্যান কামনা, কিন্তু আমাদের চরিত্র
হল নেতা অপর নেতার অকল্যান কামনা করে, ভাই অপর ভায়ের অকল্যান কামনা করা, চেয়ারওয়ালা
অপর চেয়ারওয়ালা অকল্যান কামনা করে। ব্যবসায়ী অপর ব্যবসায়ীর অকল্যান কামনা করে। চাকরীর
সহপাটি অপর সহপাটির অকল্যান কামনা করে। সে জন্য আমাদের দোয়া কবুল হয়না।
-কোরবানীতে গরু বিক্রেতারা ঠকছে
অনেক সময় গরুর ব্যবসায়ী কুরবানীর হাটে ধরা খায়, বেচারা গরু কিনা দামের
চাইতে কম দামে বিক্রী করে দেয়, যে কিনল সেতো মহাখুশী যে ৫ লাখ টাকা গরিু ২ লাখ দিয়া
কিনে জিতছি, আর ঐ ব্যবসায়ীর মাথায় হাত, সে কান্দে আর চোখের পানি ছাড়ে, আর সাহাবীদের
চরিত্র কেমন দেখুন-
-সাহাবীর ঘোড়া ৩০০ টাকা দিয়ে কিনে আরো
৩০০ টাকা দিয়ে আসল
এক সাহাবী ৩০০ টাকা দিয়ে একটি ঘোড়া কিনে আনল বউ বলে কত দিয়ে নিছ? সাহাবী
বলে ৩০০, বউ বলে কি বল এটাতো ৬০০ টাকার ঘোড়া, তখন সাহাবী ঘরে ঢুকে সিন্দুক থেকে আরো
৩০০ টাকা নিয়ে সে বিক্রেতা সাহাবীর কাছে গিয়ে বলে ওগো আমার ভাই তুমিতো ভুলে তোমার ৬০০
টাকা দামের ঘোড়া আমার কাছে ৩০০ টাকা দিয়ে বিক্রী করে দিছ, নাও আমার বউ সাক্ষি দিছে
তোমার ঘোড়াটি ৬০০ টাকা মূল্যের আমি তাই আরো ৩০০ টাকা নিয়া তোমার কাছে আসছি। বিকালে
যখন বন্ধুরা নিজ নিজ ঘোড়া নিয়ে আসল এই ঘোড়ার দাম জিহ্ঝেস করল বলল ৬০০ কিন্তু বন্ধুরা
বলে এটা ৯০০ টাকার কম হবেনা, তখন সে সাহাবী বন্ধুদের হাতে ঘোড়ার রশি দিয়া ঘরে গেলেন
আরো ৩০০ টাকা নিয়ে ঘোড়া বিক্রেতার ঘরে গেল তাকে আরো ৩০০ টাকা দিয়ে আসল। এটার নাম হল
খায়েরখাহি। কল্যাণ কামনা করা।
-সাহাবীদের আখলাকের কারনে বিশ্ববিজয়
সাদা জামা পড়লে, তাহাজ্জুদ পড়লে, মসজিদে সামনের কাতারে বসে নামাজ পড়লেই
আল্লাহর কাছে আপন হওয়া যায় না, বরং মনটাকে সাদা করে মানুষের কল্যাণ কামনা করার দ্বারা
চরিত্রটাকে ফুলের মত করার দ্বারাই আল্লাহর কাছে আপন হওয়া যায়, মুসলমানরা তাদের আখলাকের
কারনেই সারা বিশ্বকে বিজয় করেছে।
হাদীস খাইরুন ন্নাসি মান এয়ান ফাউন নাস
বাগদাদ এক সময় ছিল এলম
ও আমলের শহর, তাবেয়ীদের যুগে যখন সারা বিশ্বে মুসলমানদের জয়জয়কার চলছিল তখন এক
ইহুদী মুসলমানদের সম্পর্কে জানার জন্য বাগদাদে সফরে আসল, সে সন্ধ্যা বেলায় এক
মুসাফির খানায় উঠল আর মুসাফির খানায় থাকার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু জিনিষ কিনতে বাজারে
গেল এক দোকানে গেল দোকানদার বলল ভাই আমার কাছে জিনিষ গুলি আছে তবে তা আমি তোমার
কাছে বেচবনা তুমি আমার সামনে যে দোকানটি আছে তাতে যাও সে দোকান থেকে কিনে নিয়ে
যাও, ইহুদী সামনের দোকান থেকে সবকিছু কিনে আগের দোকানে আবার আসল আর বলল ভাই এসব
জিনিষ আপনা দোকানে ছিল কিন্তু আপনি আমার কাছে বিক্রী করলেননা কেন? দোকানি বলল ভাই
আমি সারাদিন অনেক বিক্রী করেছি, কিন্তু দেখলাম আজ সারাদিন আমার সামনের দোকানদার
আমার ভাই কোন কাস্টমার পায়নি তাই সন্ধ্যা বেলায় আমি আমার ভায়ের উপকার করার নিয়তে
আপনাকে তার দোকানে পাঠালাম কেননা আমাদের নবী বলেছেন (খাইরুন ন্নাসি মান এয়ান
ফাউন নাস) সেই উত্তম মানুষ যে মানুষের উপকার
করে।
একথা শুনে ইহুদী বলল
আমি বুঝে গেলাম আজ ইসলামের কেন এত বিজয়। আমি বুঝলাম কেন চারদিকে ইসলামের জয়জয়কার।
তুমি যদি পার তোমাদের ধর্মের কলমাটি আমাকে পড়াও আমি এখনই ইসলাম কবুল করব।
মহানবীর অপরের মনে খুশি পৌঁছানো
-মহিলার তৈরী সুন্দর উপহারের চাদর নবী সাহাবীকে দিয়ে দিলেন
বুখারী ১২৭৭ নং হাদীস
হযরত সাহল (রা) বয়ান করেন এক মহিলা নবী (দ) এর কাছে নিজ হাতে বুনে চাদর নিয়ে আসল,
নবীজির তখন চাদরের খুব প্রয়োজনও ছিল, হযরত সাহল বলেন নবীজি চাদরটি পরে যখন আমার
কাছে আসলেন তখন এক লোক এসে সে চাদরের প্রসংশা করতে লাগল আর তা চেয়ে বসল, নবীজি তা
তাকে দিয়ে দিলেন, সাহাবাগন তাকে ধমকাতে লাগল কেন চাইল, তখন সে বলল এ চাদর আমি
এজন্য নিয়েছি যা আমার নবীজির শরীর মোবারকে লেগেছে সে চাদর দিয়ে আমার কাফন হবে, আর
সত্যি সত্যি সে চাদর দিয়েই তার কাফন দেয়া হল।
-মাসায়ালাঃ হুজুর (দ) বলেন যে জিনিষ আপনার জরুরত তা যদি দান করেন তাই
আফযল দান (আবুদাউদ ১৬৭৭)
তবে যা দান করে আপনি
ধৈর্য্য ধারন করতে পারবেন না, আবার অপরের কাছে হাত পাততে হবে তখন সে হকুম আপনার
জন্য না।
যেমন হুযুর (দ) যে
যতটুকু বরদাশত করতে পারবেন তার থেকে ততটুকু গ্রহণ করেছেন
হযরত আবু বকরের কাছ
থেকে সব নিয়েছেন কারন আবু বকর (রা) ধৈর্য্য ধারন করতে পারবে
হযরত ওমর থেকে অর্ধেক
নিয়েছেন
আর আবু লুবাবা যখন তার
পুরা মাল দিতে চাইল হুজুর (দ) তাকে ৩ ভাগের
১ অংশ দেয়ার অনুমতি দিলেন।
অপর হাদীসে আছে (উত্তম
সদকা হল তা যার পর অপরের মুখাপেক্ষি হতে হয়না)
-নবী
ও সাহাবীরা নিজের প্রয়োজনের চাইতে অন্যের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিতেন
-হযরত তালহার মেহমানদারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে একবার এক লোক এসে বলল, আমি খুবই ক্ষুধার্ত। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা শুনে তাঁর কোনো এক স্ত্রীর কাছে খাবারের জন্যে পাঠালেন। কিন্তু তিনি বলে দিলেন- যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন তাঁর শপথ, আমার কাছে পানি ছাড়া আর কিছুই নেই। এরপর আরেকজনের কাছে পাঠালেন। তিনিও একই উত্তর দিলেন। এভাবে একে একে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সব স্ত্রীই একই কথা বললেন- যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন তাঁর শপথ, আমার কাছে পানি ছাড়া আর কিছুই নেই। এরপর সাহাবায়ে কেরামের মজলিসে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগন্তুককে দেখিয়ে ঘোষণা করলেন, আজকের এই রাতে কে তার মেহমানদারি করতে পারবে? আল্লাহ তাকে দয়া করবেন! এক আনসারি সাহাবী দাঁড়িয়ে গেলেন- আমি পারব! এরপর তিনি তার মেহমানকে নিয়ে বাড়ি চললেন। বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে বললেন, তিনি আল্লাহ্র রাসূলের মেহমান, তার আপ্যায়নের ব্যবস্থা কর। স্ত্রী বলল, আমার কাছে যে বাচ্চাদের জন্যে রাখা সামান্য খাবার ছাড়া আর কিছুই নেই! সাহাবী বললেন, ঠিক আছে, তুমি ততটুকু খাবারই প্রস্তুত কর, বাতি জ্বালিয়ে দাও আর বাচ্চারা যখন রাতের খাবার চাইবে তখন তাদের ঘুম পাড়িয়ে দাও। মেহমান ঘরে এলে বাতি নিভিয়ে দেবে আর তার সামনে আমরা খাওয়ার ভান করব। তিনি যখনই খেতে যাবেন, তখনই তুমি বাতিটি ঠিক করার মতো কিছু একটা করতে গিয়ে তা নিভিয়ে দেবে।
এরপর এই পরিকল্পনা মোতাবেকই সবকিছু করা হল। খাবার প্রস্তুত করা হল। বাতি জ্বালানো হল। বাচ্চাদের ঘুম পাড়ানো হল। মেহমান যখন খেতে যাবেন এমন সময় ঘরনি গিয়ে কৌশলে বাতিটি নিভিয়ে দিল। আগন্তুক মেহমান দেখলেন, তার মেজবানও খাচ্ছে। তাই নিঃসঙ্কোচে তিনি খেয়ে নিলেন। কিন্তু আসলে তারা শুধু অন্ধকারে মেহমানের সামনে খাওয়ার ভান করছিল। পরিবারের সকলে সে রাতটি ক্ষুধার্তই কাটিয়ে দিল।
পরদিন সকালবেলা ওই সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে উপস্থিত হলেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখে বললেন, তোমাদের দুজনের কা- দেখে আল্লাহ মুগ্ধ হয়েছেন। তখন নাজিল হল পবিত্র কুরআনের এ আয়াত-
وَ یُؤْثِرُوْنَ عَلٰۤی اَنْفُسِهِمْ وَ لَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ ...
নিজেদের অভাব থাকা সত্ত্বেও তারা অন্যকে নিজেদের ওপর অগ্রাধিকার দেয়। নিজ মনের কার্পণ্য থেকে যারা বেঁচে রইল তারাই তো সফলকাম। (সূরা হাশর (৫৯) : ৯) -সহীহ বুখারী, হাদীস ৩৭৯৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস ২০৫৪
ইসলাম আমাদেরকে এ অতিথিসেবাই শিক্ষা দেয়। তিনি একজন আনসারি সাহাবী ছিলেন। নাম আবু তালহা। তার আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনের আয়াত নাযিল করলেন।
-সাহাবী মেহমানের জন্য নফল রোজাও ভঙ্গ করেছে
হযরত সালমান ফারসী রা. এবং হযরত আবুদদারদা রা.-এর মাঝে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভ্রাতৃত্ব-বন্ধন সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে হযরত সালমান ফারসী রা. একদিন তার ভাই হযরত আবুদদারদা রা.-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেন। আবুদদারদা রা. তখন ভাইয়ের জন্যে নিজ হাতে খাবার প্রস্তুত করলেন। তার সামনে খাবার পরিবেশন করে বললেন, আপনি খান, আমি রোযা রেখেছি। কিন্তু হযরত সালমান ফারসী রা. বললেন , আপনি না খেলে আমি খাব না। হযরত আবুদদারদা রা. তখন মেহমানের সম্মান রক্ষার্থে রোযা ভেঙ্গে তার সঙ্গে খেয়েছেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৬১৩৯
#মেহমানের
সাথে বসে খাওয়া সুন্নত,
#মেহমানকে একা বসিয়ে রাখা
সুন্নতের খেলাফ
#মেহমানকে হাসিমুখে রিসিপশন
দেয়া তার কুশলাদি জিজ্ঞেস করা তার সাথে কথা বলা, তাকে উত্তম খাবার খাওয়ানো,
সুন্নত।
-মেহমানের সম্মানে ভালো পোষাক পরাও সুন্নত
যখন বাইরের কোনো প্রতিনিধি দল নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসত, তখন তিনি তাঁর কাছে থাকা সবচেয়ে সুন্দর কাপড়টি পরতেন। সাহাবীদেরকেও তা করতে বলতেন। হযরত জুনদুব রা. বর্ণনা করেন, একবার কিন্দার এক কাফেলা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসেছিল। তখন তাঁর পরনে ইয়ামেনি এক জোড়া কাপড় শোভা পাচ্ছিল। হযরত আবু বকর ও হযরত উমর রা.-ও সেদিন ইয়ামেনি কাপড় পরেছিলেন। -সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ৬/২৫৯
বোঝা গেল, ভালো কাপড় পরাও মেহমানের প্রতি একপ্রকার সম্মান। এতে মেহমান অনুভব করবে- মেজবান তাকে গুরুত্ব দিচ্ছে, তাকে অনাকাক্সিক্ষত বিবেচনা করছে না।
-ভণ্ড নবী তুলাইহার বনাম খালিদ বিন ওলিদ
সাহাবাগণ নিজের চাইতে অন্যের প্রয়োজন কে অগ্রাধিকার দিতেন
যেমন- ভণ্ড নবী তুলাইহার বিরুদ্ধে হযরত খালিদ অভিযান পরিচালনা করেছেন। তুমুল লড়াই চলছে। প্রতিটি সংঘর্ষে তুলাইহার সঙ্গীরা পরাজয় বরণ করছে। একদিন তুলাইহা তার ঘনিষ্টজনদের কাছে জিজ্ঞেস করলো আমাদের এমন পরাজয় হচ্ছে কেন ? তারা বলল-কারণ আমাদের প্রত্যেকেই চায় তার সঙ্গীটি তার আগে মারা যাক। অন্য দিকে আমরা যাদের সাথে লড়ছি তাদের প্রত্যেকে চায় তাদের সঙ্গীর পূর্বে সে মৃতু্যবরণ করুক।
- ইয়ারমুকের ময়দানের আহত সাহাবীদের পানি পানের ঘটনা ( আহত হারিস , ইকরামা ও আয়্যাশ)
পিপাসায় কাতর হযরত হারিস (রাঃ) পানি চাইলেন। যখন তাকে পানি দেয়া হল এবং তিনি পানি পান করতে যাবেন তখন ইকরামা (রাঃ) তার দিকে তাকালে হারিস বললেন ইকরামাকে দাও। পানির গ্লাসটি যখন ইকরামার কাছে নিয়ে যাওয়া হল তখন আয়্যাশ (রাঃ) তার দিকে তাকালেন। তা দেখে ইকরামা বললেন আয়্যাশকে দাও। আয়্যাশের (রাঃ) এর কাছে পানির গ্লাসটি নিয়ে যাওয়া হলে দেখা গেল তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার পর গ্লাসটি হাতে নিয়ে তার অপর দুই সাথীর কাছে নিয়ে গিয়ে দেখা গেল তারাও একই পথের পথিক হয়েছেন। সবাই চেয়েছেন নিজের জীবনের উপর অন্যের জীবনকে প্রাধান্য দিতে
-এক খাবার ৭ ঘর ঘুরে প্রথম ঘরে
হযরত আনাস (রা) হতে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (দ)
এর সাহাবীদের মধ্যে এক সাহাবীর ঘরে কিছু খাবার এলো, সে তা পাশের ঘরে প্রয়োজন বেশী ভেবে
সেখানে পাঠাল, সে তার পাশের ঘরে পাঠাল এভাবে ৭ ঘর ঘুরে আবার তা প্রথম জনের ঘরে চলে
আসল। (শুয়াইবুল ইমান ৩২০৪)
নবীর অপরের প্রতি খেয়ালের
ঘটনা
জারির বসার নবী নিজের চাদর
দিলেন
অর্থ্যাৎ- হযরত জারির (রা) হতে বর্ণিত নবী করিম (দ) তার এক
গৃহে প্রবেশ করলেন। গৃহটি লোকে পরিপূর্ণ ছিল। তাই জারির বসার স্থান না পেয়ে বাহিরে
মাটিতে বসে গেল।নবী (দ) যখন তাকে বাহিরে বসতে দেখলে, তখন নিজের চাদরটি ভাজ করে জারিরের
দিকে ছুড়ে মারলেন। এবং বললেন এই চাদরটি বিছিয়ে তার উপর বস। হযরত জারির সে চাদরটি তুলে
তাতে চুমু খেলেন এবং চোখে লাগালেন।
ফায়দা- নবীর (দ) মত এমন সেরা চরিত্রের অধিকারীর পক্ষে এটা সম্ভব ছিলনা তিনি নিজে ভিতরে বিছানায়
বসেবন এবং জারির বাহিরে মাটিতে বসবে, তাই তিনি নিজের গায়ের চাদর জারিরের দিকে ছুড়ে
মারলেন। আর সাহাবী জারিরের পক্ষেও সম্ভব ছিলনা নবীর পবিত্র কাপড় বিছিয়ে তার উপর বসা।তাই
তিনি সে কাপড়টি বিছালেননা বরং তাকে চুমু খেলেন, চোখে লাগালেন। এটাই হল যেমন নবী তেমন
তার সাহাবার চরিত্র।
একদিন রাসুল (সঃ)
এর
একজন
মেহমান
আসলে
তিনি
বললেন
যে
আজ
এই
লোকটিকে
মেহমান
হিসেবে
নিয়ে
যাবে
আল্লাহ
তার
প্রতি
সদয়
হবেন। আবু তালহা
(রাঃ)
তাকে
সঙ্গে
করে
বাড়িতে
আসলেন
বাড়িতে
সেদিন
ছোট
ছেলে
মেয়েদের
খাবার
ছাড়া
অতিরিক্ত
কোন
খাবার
ছিল
না। তাই স্ত্রী
উম্মু
সুলাইমা
ভুলিয়ে
ভালিয়ে
সন্তানদের
ঘুম
পাড়ালেন। তারপর যে
সামান্য
খাবার
ছিল
তা
মেহমানের
সামনে
হাজির
করে
নিজেরাও
খেতে
বসলেন। মেহমান তা
বুঝতে
না
পেরে
পেট
ভরে
আহার
করলেন।
রাতে
শোবার আগে ১টি আমল দুনিয়াতে থাকতেই জান্নাতের সুসংবাদ (সাদ বিন আবি
ওয়াক্কাস----আবদুল্লাহ ইবনে আমর বিন আস)
কিনে থেকে বেঁচে থাকতে পারা কতযে নেয়ামত তা ১টি হাদীস শুনলে
বুঝতে পারবেন।
একদিন হুযুর (দঃ) মসজিদে বসে ছিলেন এমন সময় এক সাহাবী
প্রবেশ করলেন হুযুর (দঃ) অন্যান্য সাহাবীদের উদ্দেশ্য করে বললেন দেখ জান্নাতি আসছে
জান্নাতি আসছে। সে সাহাবীর নাম হল সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) । সাহাবায়ে কেরাম সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের ব্যপারে
হুযুরের এমন সু সংবাদ দেয়ায় খুবই আশ্চর্য্য হল। সাহাবাদের অভ্যাস ছিল কারো ব্যপারে
হুযুর যদি কোন সুসংবাদ দিত তাহলে সে সাহাবী কোন আমল করার কারনে এ সুসংবাদের
অধিকারী হয়েছেন তা জানতে চেষ্টা করেন যাতে তারাও সে আমলটি করে সৌভাগ্যবান হতে
পারেন।
২য় দিনও একই ঘটনা ঘটল হুযুর (দঃ) বসা ছিলেন সাদ বিন আবি
ওয়াক্কাস যখন প্রবেশ করলেন হুযুর বলতে লাগলেন দেখ জান্নাতি আসছে।
এক সাহাবী ছিল আবদুল্লাহ ইবনে আমর বিন আস (রাঃ) তিনি সাদ বিন আবি
ওয়াক্কাসের কাছে গেলেন আর উনাকে বললেন আমার ঘরে কিছু সমস্যা আছে আমি চাচ্ছি কয়েকটা
দিন আপনার ঘরে আপনার সাথে থাকতে, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রাজি হলেন,
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর সাদ বিন আবি ওয়াক্কাসের সাথে তার ঘরে চলে গেলেন,
তার সাথে তার ঘরে ৩ দিন থাকলেন আর এই ৩দিন তার সকল আমল খুবই মনযোগের
সাথে অবলোকন করতে লাগলেন, যে কোন সে আমল যার কারনে হুযুর
(দঃ) দুনিয়াতেই সাদ বিন আবি ওয়াক্কাসের ব্যপারে
জান্নাতের সুসংবাদ দিলেন। কিন্তু সাদ বিন আবি
ওয়াক্কাসারে তেমন কোন স্পেশাল আমল দেখতে পেলেন না, তখন তিনি সাদ কে প্রশ্ন করলেন ভাই আমি মুলত আপনার আমল সমুহ দেখার
জন্য আপনার সাথে ৩ দিন অতিবাহিত করেছি, কারন আপনার ব্যপারে আল্লাহর
হাবিব জান্নাতে সুসংবাদ দিয়েছেন, আমি চেষ্টা করেছি আপনার স্পেশাল
কোন আমল আছে কিনা তা খুঁজে বের করার, কিন্তু আমি আপনার কাছে তেমন
কোন স্পেশাল আমল দেখতে পেলাম না, আপনি দয়া করে বলেন আপনি এমন
কি আমল করেন যার কারনে আল্লাহর রাসুল আপনার ব্যপারে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়ে দিয়েছেন?
তখন হযরত সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস বলেন আমি স্বাভাবিক আমল সমুহই করি তবে
একটা আমল আমার আছে যেমন আমার সাথে যদি দিনে কারো সাথে কোন সমস্যা হয়, কেহ যদি আমাকে কোন কষ্ট দেয়, কারো কোন কাজে যদি আমি দুঃখ
পাই, যখন আমি রাতে শুতে যাই তখন আমি সকলকে অন্তর থেকে ক্ষমা করে
দেই, আর আমি একেবারে সাদা অন্তরে শুয়ে পড়ি। সুবহানাল্লাহ


কোন মন্তব্য নেই