রাতে গুনাহকারীর চেহেরায় সকালে কি হয় জানেন? Islamic Video Bangla | Ja al haq
রাতে
গুনাহ কারীর চেহেরায় সকালে কি হয়। গোপন গুনাহের আযাব। গোপন গুনাহ থেকে বাঁচার
উপায়।
বর্তমান সময়ে গোপন গোনাহের সরঞ্জাম অনেক বেশি, আর উপকরণগুলোও সহজলভ্য। তাই সমাজের মানুষ দিন দিন গোপন গোনাহে বেশি জড়িয়ে পড়ছে। সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া দ্বিনদার শ্রেণির মানুষ থেকে শুরু করে আলেমরাও বাদ পড়ছেন না।
আল্লামা ইবনে জাওজি (রহ.) বলেন, ‘সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও ক্ষতিগ্রস্ত সে, যে মানুষের সামনে ভালো আমল করে, কিন্তু যে মহান সত্তা তার শাহ রগ থেকেও অধিক নিকটবর্তী, তার সামনে বদ আমল করে।’ বলা হয়, ‘গোপন গোনাহ ও অবাধ্যতার কারণে মানুষের খারাপ মৃত্যু (অপমৃত্যু) হয়।
বহু মানুষ এমন রয়েছে, যারা অন্যদের কাছে ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত। নিয়মিত নামাজ পড়ে, দ্বিনদার, ধার্মিক, আলেম কিংবা আল্লাহওয়ালা হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। প্রকাশ্যে তাকে পাপ কাজ করতে দেখা যায় না। কিন্তু গোপনে গোপনে তিনি নানা ধরনের গোনাহের কাজে লিপ্ত। অনেকে তো প্রকাশ্যে ভালো মানুষ হলেও গোপনে কবিরা গোনাহ করে। এটি একদিকে মুনাফেকি, অন্যদিকে ধীরে ধীরে তার আমল ও ইবাদত নষ্ট করে দেয়। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন,
وَذَرُواْ ظَاهِرَ
الإِثْمِ وَبَاطِنَهُ إِنَّ الَّذِينَ يَكْسِبُونَ الإِثْمَ سَيُجْزَوْنَ بِمَا
كَانُواْ يَقْتَرِفُونَ
তোমরা প্রকাশ্য ও প্রচ্ছন্ন গোনাহ পরিত্যাগ কর। নিশ্চয় যারা গোনাহ করেছে, তারা অতিসত্বর তাদের কৃতকর্মের শাস্তি পাবে। [ সুরা আন’য়াম ৬:১২০ ]
প্রকাশ্য গোনাহের চেয়ে গোপনে করা গোনাহ বেশি ভয়াবহ। কেননা যখন কেউ গোপনে গোনাহ করতে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তখন অন্তর থেকে আল্লাহর ভয় বিদায় নিয়ে নেয়। ক্রমাগত সে ধ্বংস ও অধঃপতনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। অবস্থা কখনো এত ভয়ানক হয় যে তার ঈমান পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায় এবং ঈমানহীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন
قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ
رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ
আপনি বলে দিনঃ আমার পালনকর্তা কেবলমাত্র অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন যা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য [ সুরা আরাফ ৭:৩৩ ]
সুফিদের ইমাম ইমামে
হাসান বসরী এমন একজন খতিব যার ব্যপারে হযরত আলী (রা) বলেন যদি বসরাতে খুতবা দেয়ার কেহ
হকদার হয়ে থাকেন তিনি হলেন হযরত হাসান বসরী (রহ)
আল্লাহর নাফরমানদের
উদ্দেশ্যে হাসান বসরী বলেন যে আল্লাহর নাফরমানি করবে আল্লাহ তাদের কোন দোয়া শুনবেন
না মানবেন না, এবং তাদেরকে আযাবে গ্রেফতার করবেন, এবং তাদের দুনিয়াতে শাস্তি
দিবেন।
হযরত হাসান বসরী (রহ)
বলেন - বান্দাদের আল্লাহকে ভয় করা উচিত এবং তার
আযাব বা শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য চেষ্টা করা উচিত। কেননা যখন মানুষ রাতের
অন্ধকারে আল্লাহর ভয় ভুলে গিয়ে গুনাহে লিপ্ত হয়, সকালে সে গুনাহগারের চেহেরায় তার
গুনাহের অন্ধকার প্রকাশ করে দেন। তার চেহেরাই বলে দিবে রাতের আঁধারে সে কি করেছে।
হাসান বসরী (রহ) বলেন
জাহান্নামে যাওয়ার আগে কেঁধে কেঁদে আল্লাহকে রাজি করে নাও, কেননা জাহান্নামের
ফয়সালা হয়ে গেলে তখন আর কান্নাকাটি আল্লহর কাছে কবুল হবেনা।
হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, মহানবী (সা.) বলেন, ‘আমি আমার উম্মতের কিছু মানুষ সম্পর্কে জানি, যারা কিয়ামতের দিন তিহামার (বিখ্যাত পাহাড়) শুভ্র পর্বতমালা সমতুল্য নেক আমল নিয়ে উপস্থিত হবে। কিন্তু আল্লাহ সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করবেন। হজরত সাওবান (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! তাদের পরিচয় পরিষ্কারভাবে আমাদের কাছে বর্ণনা করুন। যাতে অজ্ঞাতসারে আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত না হই। তিনি বললেন, তারা তোমাদেরই ভ্রাতৃগোষ্ঠী এবং তোমাদের সম্প্রদায়ভুক্ত। তারা রাতের বেলা তোমাদের মতোই ইবাদত করবে। কিন্তু তারা এমন লোক, যারা একান্ত গোপনে আল্লাহর হারামকৃত কর্মে (গোপন গোনাহ) লিপ্ত হবে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৪১৮)
এই গোপন গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য এ চিন্তা করা, গোনাহরত অবস্থায় যদি আমার মৃত্যু হয়, তাহলে কিভাবে আমি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করব? মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেক ব্যক্তিকে (কিয়ামতের দিন) ওই অবস্থায় ওঠানো হবে, যে অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করেছে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২২০৬)
গোপন
গোনাহ থেকে বেঁচে থাকতে একাকী না থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন আলেম-উলামারা। ভালো মানুষের
সান্নিধ্যে থাকা, অবসর সময়ে বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও ইসলামী বই বেশি
বেশি অধ্যয়ন করা। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং
সত্যবাদীদের সঙ্গী হও।’ (সুরা : তওবা, আয়াত : ১১৯)
মহান
আল্লাহ আমাদের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য পাপ থেকে দূরে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

কোন মন্তব্য নেই