বেনামাজির উপর আল্লাহর ২৫টি আযাব। বেনামাজির শাস্তি।কবর আজাব। namaz na po...

বেনামাজির উপর আল্লাহর ২৫টি কহর ও গজব



বনি ইসরাইলের এক নারী হযরত মুসা (আ) এর খেদমতে হাজির হয়ে আরজ করে, হে আল্লাহর নবী আমি অনেক বড় একটা গুনাহ করে ফেলেছি, আর আমি আল্লাহ তায়ালার দরবারে তওবাও করেছি, আপনি দোয়া করুন আল্লাহ তায়ালা যেন আমার তওবা কবুল করে নেন।

হযরত মুসা (আ) ফরমালেন তোমার গুনাহ কি? সে বলল হে আল্লাহর নবী আমি যেনা করে ফেলেছি। যার ফলশ্রুতিতে একটি বাচ্চা জন্মলাভ করে, আর আমি সে বাচ্চাটিকেও হত্যা করে ফেলি।

হযরত মুসা (আ) বললেন- হে ফাসেকা ফাজেরা নারী এখনই এখান থেকে দুর হও, তোমার এই গুনাহের কারনে আল্লাহ আসমান থেকে আগুন বর্ষন করে আমাদের সকলকে জ্বালিয়ে দিবেন।

একথা শুনে সে নারী দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে সেখান থেকে চলে যায়, এরই মধ্যে সেখানে হযরত জিবরাইল নাজিল হলেন আর ফরমালেন হে মুসা (আ) আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন তওবাকারী ঐ নারীকে আপনি ফিরিয়ে দিলেন কেন? আপনি তার চেয়েও বড় অপরাধী কাউকে দেখেননি? হযরত মুসা প্রশ্ন করলেন? হে জিবরাইল এর চেয়ে বড় গুনাহগার আর কে হতে পারে? এতো জেনাও করেছে আর মাসুম বাচ্চাটিকেও হত্যা করেছে, এর চেয়ে বড় গুনাহগার আর কে হতে পারে?

হযরত জিবরাইল বলেন- হে মুসা জেনা কারী নারী ও বাচ্চাকে হত্যাকারী নারীর চেয়েও বড় গুনাহগার ঐ লোক যে ইচ্ছাকৃত নামাজ ছেড়ে দেয়। (সুত্র- ইমাম মুহাম্মদ বিন আহমদ জাহাবি রহঃ তার কিতাব কিতাবুল কাবায়ের এ নকল করেন)

আজ যারা জেনাকে বড় অপরাধ মনে করেন মনে রাখবেন নামাজ ছেড়ে দেয়া জেনার চেয়েও বড় গুনাহ। সুদ খাওয়াকে গুনাহ মনে করা হয় কিন্তু নামাজ ছেড়ে দেয়া সুদ ঘুষের চেয়েও বড় অপরাধ। হত্যা করাকে মানুষ বড় অপরাধ মনে করে অথচ নামাজ ছেড়ে দেয়া হত্যার চাইতেও বড় অপরাধ।

শয়তান ১টি সিজদা করতে অস্বীকার করেছিল, সেকি কোন জেনা করেছিল? কোন হত্যাকান্ড করেছিল? শয়তান কি মদ পান করেছিল? সেকি কোন শিরিককরেছিল? শয়তান সিজদা করতে অস্বীকার করেছে, শুধু একটি সিজদার অস্বীকার করে সে সারা জীবনের জন্য মরদুদ হয়ে গেল। আজ সে সব মুসলমান ভাই বোনের কি হুস নাই যারা প্রতিদিন ৫ ওয়াক্তে ৪০ সিজদা থেকে বিরত থাকে আর নিশ্চিন্তে আল্লাহর দেয়া রিজিক ভক্ষন করে? নিশ্চিন্তে টিভি দেখে? নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়ায়।

এক সিজদা না করে যে জীন্দেগীর জন্য মরদুদ হয়ে গেল। আর যে ফজরের সিজদায় অনুপস্থিত। যুহরের সিজদার সাথে মশকরা করল। আসরের সিজদায়ও অনুপস্থিত। মাগরীব এশারের সিজদার সাথেও অবহেলা করল তার কি হবে?

হাদীস শরীফে আছে বেনামাজিকে যখন কবরে রাখা হবে কবরে এক বিশালাকারের সাপকে নিয়োগ দেয়া হবে যার নাম সুজায়ে আকরা অর্থ্যাৎ বাহাদুর সাপ। টাক মাথা ওয়ালা বাহাদুর সাপ তার নাম। এটা সে সাপ যদি তা কাউকে একবার দংশন করে তার বিষক্রিয় তার সারা শরীরে ৭০ বছর পর্যন্ত ক্রিয়া করবে। এই সাপের বিষ এতই বিষাক্ত যদি এর বিষ দুনিয়াতে নিক্ষেপ করা হয় তাহলে সারা পৃথিবীর সব মানুষ এর বিষে মৃত্যু মুখে পতিত হবে। একবারের বিষে যদি সারা দুনিয়ার মানুষ ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে এই সাপ কাল কবরে যে ফজর ছেড়েছে তাকে ফজর থেকে জোহর পযন্ত, যে জোহর ছেড়েছে তাকে জোহর থেকে আসর পযন্ত, আসর ছাড়লে মাগরীব পযন্ত, মাগরীব ছাড়লে এশা পযন্ত আর এশা ছাড়লে সারা রাত দংশন করতে থাকবে। আল আমান আল হাফিজ।

মান তারাকাস সালাতা মুতায়াম্মিদান ফাকাদ কাফার- যে নামাজকে অস্বীকার করে সে কাফের হয়ে যায়, আর এমন লোক যদি তওবা ছাড়া মৃত্যু বরণ করে তার ব্যপারে কিতাব কি বলে? (লা ইউগাচ্ছাল, ওয়ালা ইউকাফফান, ওয়ালা ইউসাল্লা আলাইহ, ওয়ালা ইউদায়া লাহু বিল মাগফিরাহ) এমন লোকের গোসল নাই, কাফন নাই, জানাযা নাই এবং এমন লোকের মাগফিরাতের জন্য দোয়া করারও প্রয়োজন নাই। হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ) ফরমান বেনামাজিকে মুসলমানের কবরস্থানে দাফন করিওনা।

হযরত সুলতানে বাগু (রহ) বলেন বেনামাজি থেকে হারাম প্রাণী শুকরও পানাহ চায়।

হযরত শেখ সাদী সিরাজি বলেন বেনামাজিকে কর্জ দিওনা। যে আল্লাহর কজ আদায় করেনা সে মানুষের কর্জ কিভাবে আদায় করবে?

হাদীস শরীফে আছে কেয়ামতের দিন বান্দার কাছ থেকে সবপ্রথম নামাজের হিসাব নেয়া হবে, যদি সে নামাজের হিসাব ঠিক দিতে পারে তাহলে সে সফল আর নাজাত পাবে আর যদি নামাজের হিসাব ঠিক না হয় তাহলে সে ব্যর্থ ও অপদস্থ হবে।

অপর হাদীসে আছে যে নামাজ ছেড়ে দেয় কেয়ামতের দিন তার হাশর হবে কারুনের সাথে, ফেরাউন হামান এবং ওবাই ইবনে খলফ এর সাথে হবে। যে কাতারে আল্লাহর দুষমন দাঁড়াবে বেনামাজিকে সে কাতারে দাঁড় করিয়ে দেয়া হবে।

মেরাজের রাতে হুজুর (দ) একদ’ল লোককে দেখলেন যাদের মাথা ভারি পাথর মেরে থেতলে দেয়া হচ্ছিল, সে পাথর পুনরায় কুড়িয়ে আনার আগেই সে মাথা আগের মত হয়ে যায়, আবার থেতলে দেয়া হয়, হুজুর (দ) হযরত জিবরাইল কে প্রশ্ন করলেন এরা কারা? জিবরাইল জবাব দিলেন এরা হল ঐ সব বদনসিব লোক যারা ৫ওয়াক্ত ফরয নামাজ পড়তেও অলসতা করত।

হযরত ইবনে হাজার (রহ) আজ্জাওয়াজের নামক কিতাবে এক রেওয়ায়েত লিখেন- যে লোক নামাজ ছেড়ে দেয় তার অনেক বিপদ- (১) তার হায়াতের বরকত চলে যায় (২) তার চেহেরা থেকে নুর চলে যায় (৩) বে নামাজি যে আমলই করুন তার সাওয়াব পায়না (৪) তার কোন দোয়া কবুল হয়না (৫) তার জন্য কোন নেককার লোক দোয়া করলে সেটাও কবুল হয়না (৬) যখন মৃত্যুর সময় হয় তখন সে ক্ষুধাথ অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে, (৭) পিপাসাথ অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে এবং  (৮) অপমান অপদস্থ হয়ে মরে। (৯) বেনামাজির কবর সংকীর্ণ হয়ে যায় কবর তাকে এমন চাপ দেয় ডানের হাড্ডি বামে বামের হাড্ডী ডানে চলে যায় (১০) বেনামাজির কবরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়(১১) বেনামাজির কবরে একটি সাপ নিয়োজিত করে দেয়া হয় যে তাকে দংশন করে যখন সে সাপ তাকে দংশন করে এক বার দংশন করলে সে ৭০ গজ জমিনে ধসতে থাকবে (১২) হাশরের মাঠে বেনামাজির হিসাব কঠিন হবে, (১৩) হাশরের মাঠে তার উপর আল্লাহর কহর ও গযব প্রকাশিত হবে (১৪) অবশেষে বেনামাজিকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

সহিহ ইবনে হিব্বানের হাদিস হুজুর (দ) এরশাদ করেন (মান ফাতাতহু সালাতুন ফাকায়ান্নামা উতিরা আহলুহু ওয়া মালুহু) যার এক ওয়াক্ত নামাজ ছুটে গেল সে এমন যেমন তার ঘরের সব লোক মাল দৌলত সব যেন ছিনিয়ে নেয়া হল।

যারা প্রকৃত নামাজি হয় তার যদি এক ওয়াক্ত নামাজও ছুটে যায় তার জন্য সে দিন প্রকৃতই ট্রাজেডি ওয়ালা দিন।

বেনামাজির ব্যপারে আল্লাহ সুরা মারিয়ামের এরশাদ করেন

فَخَلَفَ مِن بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا

অতঃপর তাদের পরে এল অপদার্থ পরবর্তীরা তারা নামায নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুবর্তী হল সুতরাং তারা অচিরেই পথভ্রষ্টতা প্রত্যক্ষ করবেসুরা মারঈয়াম ১৯:৫৯ ]

إِلَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَأُوْلَئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ شَيْئًا

কিন্তু তারা ব্যতীত, যারা তওবা করেছে, বিশ্বাস স্থাপন করেছে সুতরাং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের উপর কোন জুলুম করা হবে নাসুরা মারঈয়াম ১৯:৬০ ]

হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বলেন এই আয়াতে নামাজ নষ্ট করার অথ এমন নয় যে তারা নামাজ অস্বীকার করে বরং নামাজ নষ্ট করার অথ হল তারা নামাজ সঠিক সময়ে আদায় করেনা। অর্থ্যাৎ যারা নামাজ কাজা করেন তাদেরকে নামাজ নষ্টকারী বলা হয়েছে। অথবা যারা নামাজ পড়েন কিন্তু নামাজের ওয়াজিব সুন্নত সমুহ রুকু সিজদা সুষ্ঠভাবে আদায় করে না তাদেরকে আল্লাহ জাহান্নামের গাই নামক গর্তের ভয় দেখিয়েছেন। আর এই গর্তের আযাব অত্যন্ত ভয়াবহ। এটি জাহান্নামের গভীরের এমন গত যেখানে জাহান্নামীদের পুঁজ জমা হয়। জাহান্নামের উপর থেকে পাথর নিক্ষেপ করা হলে এই গাই নামক গতে পৌঁছতে ৫০ বছর লাগবে।

ইমাম মুহাম্মদ বিন আহমদ জাহাবি রহঃ তার  কিতাবুল কাবায়ের  এ একটি ঘটনা লিখেন এক মহিলা মৃত্যু বরন করলে তার কবর দেয়ার পর কবরদানকারী ভাই বুঝতে পারল তার টাকার থলেটি তার বোনের কবরেই রয়ে গেছে সে টাকার জন্য সে কবর পুনরায় যখন খুলল তখন দেখল তার বোনের কবর আগুনে ভরে আছে, তাড়তাড়ি মাটি চাপা দিয়ে ঘরে এসে মাকে প্রশ্ন করে তার বোন কি পাপ করত? মা জবাব দিল তোমার বোন নামাজ পড়ত তবে দেরী করে কাজা করে পড়ত এটাই তার একমাত্র দোষ ছিল।

সুতরাং যারা নামাজ পড়েন কিন্তু অলসতা করে কখনো কখনো দেরী করে কাজা করে তাদের জন্য এই আযাব। আর যারা বিলকুল নামাজই না পড়ে তাদের কি অবস্থা হবে?

যারা নামাজ পড়ে না তাদের চেহেরায় ৩টি লাইন কিয়ামতের দিন লিখা থাকবে ১ম লাইনে লেখা হবে (হে আল্লাহর হককে নষ্টকারী) ২য় লাইনে লিখা হবে (হে আল্লাহর গজবের জন্য নির্ধারিত বান্দা) ৩য় লাইনে লিখা হবে (যেভাবে তুমি দুনিয়াতে আল্লাহর হককে নষ্ট করেছ তেমনি ভাবে আজ তুমি আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত)

যে সব মা বাবা ৫/৬ বছরের শিশুকে দুনিয়ার ৪০/৫০ বছরের জিন্দেগীর ক্যারিয়ারের জন্য সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠিয়ে দেন কিন্তু কখনো আখেরাতের ক্যারিয়ারের জন্য ফজরের আযান দিলে উঠাননি, সে সব সন্তানকে যখন আখেরাতে জাহান্নামের সাজা শুনানো হবে তারা সে মা বাবাকে পাকড়াও করবে আর বলবে হে আমার মা বাবা তোমরাতো আমাদেরকে দুনিয়ার ক্যারিয়ার গঠনের জন্য সব চেষ্টা করেছ আজকের এই মসিবত থেকে বাঁচার জন্য কেন আমাদেরকে  ফজরের সময় ডেকে তুল নাই। আজ যারা সন্তানকে ভালোবাসেন হাশরের মাঠে সে সন্তানের আযাব ও কজব কিভাবে বরদাশত করবেন? তাই আসুন শুধু ক্ষনস্থায়ী দুনিয়ার জন্য নয় বরং চিরস্থায়ী আখেরাতের জন্যও সদা নিজেরা প্রস্তুত থাকি এবং পরিবারের সকল আপনজনদেরকেও প্রস্তুত করি। আল্লাহ আমাদের সকলকে নামাজের আহমিয়ত বুঝার তৌফিক দান করুন। আমিন।    

 

কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.