কথার যাদু। কথা বলার ১০টি সেরা কৌশল। কথা বলা আদব। জবানের হেফাজত। Bangla w...
সফল ও জনপ্রিয় হওয়ার জন্য কথা বলার ১০টি সেরা কৌশল
জনানের হেফাজত ও কথা বলার আদব কা’য়দা
مَا يَلْفِظُ مِن قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ
সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্যে তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে। [ সুরা ক্বাফ ৫০:১৮ ]
যেহেতু আল্লাহ তায়ালা আমাদের এক এক লফজের হিসাব নিবেন সেহেতু আমাদের জানা উচিত কিভাবে কথা বললে আল্লাহ রাজি হবেন আমরা দুনিয়াতেও অপমানিত হবনা আখেরাতেও অপদস্থ হবনা।
পবিত্র কুরআন ও হাদীস শরীফে এবং মহানবীর (দ) জীবন চরিত্রে কথা বলার অনেক আদব কায়দা পাওয়া যায় আজ আমি আল্লাহ পাক তৌফিক দিলে সে সব আদব কায়দা আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করব।
#মানুষ হল হাইওয়ানে নাতেক,
#বৈবাহিক বন্ধন জবানের দ্বারা হয়, ভেঙ্গেও যায় জবানের দ্বারা।
#জবানের দ্বারা মানুষ জান্নাতি হতে পারে
#জবানের দ্বারা জাহান্নামি হয়ে যেতে পারে
# (ইন্না আকসারা খাতায়া ইবনে আদামা বিলিসানিহি) মানুষের অধিকাংশ ভুল তার জিহ্বার দ্বারা হয়।
# হাদীস- সকালে শরীর প্রতিটি অঙ্গ জবানের কাছে দরখাস্ত করে - তুমি চুপ থাক, কেননা তোমার বেপরোয়া হওয়ার ফলে আমাদের শাস্তি ভোগ করতে হবে।
# হাদীস- (মান সামাতা নাজা) যে চুপ থাকল সে মুক্তি পেল।
ঘটনা- এক বাদশার ছেলে এক আলেমের মজলিশে বসে এই হাদিস শুনল (মান সামাতা নাজা) যে চুপ থাকে সে মুক্তি পায়, এখন শাহজাদা সেদিন থেকে একদম বোবা হয়ে গেল, কিন্তু বাদশা মনে করল শাহজাদার কোন রোগ হয়েছে, ডাক্তার ডাকা হল ডাক্তার পরামশ দিল তাকে প্রতিদিন সকালে শিকারে পাঠানোর জন্য, সে প্রতিদিন শিকারে বের হয় সাথে এক গোলাম ও যায়, যখন শিকার থেকে ফিরে আসে বাদশা প্রশ্ন করে শাহজাদা কোন কথা বলেছে কিনা? গোলাম জবাব দেয় না।
একদিন শিকারে বের হলে এক ঝোপের মধ্যে এক শিকার লুকিয়ে যেতে দেখা গেল গোলাম সে ঝোপ অনেক নাড়া দিল যাতে শিকার ঝোপ থেকে বের হয়, কিন্তু শিকার ঝোপের ভিতর চুপ বসা ছিল, তখন গোলাম মনে করল ঝোপের ভিতর কোন প্রাণী নাই, কিন্তু গোলাম যখন ফিরে আসছিল সে ঝোপের ভিতর কোন প্রাণীর আওয়াজ শুনল আর সে সেটাকে শিকার করে ফেলল, তখন শাহজাদা বলে উঠল সাদাকতা এয়া রাসুলাল্লাহ, এখন গোলাম বাদশাকে এসে সব ঘটনা বলল, শাহজাদা যে কথা বলেছে তাও বলল, তখন বাদশা জল্লাদকে বলল একে উল্টা লটকাও আর বেত্রাঘাত কর সে কেন চুপ থেকে আমাকে এত পেরেশান করছে, তাকে উল্টা লটকানো হল আর মারপিট আরম্ভ করল তখন সে আবার বলল সাদাকতা এয়া রাসুলাল্লাহ আপনি সত্য বলেছেন হে রাসুল (দ) কারন প্রাণীটি ঝোপের ভিতর আওয়াজ করে সে মারা পরেছে, আর আমিও আজ ১টি কথা বলেছি তার জন্য আমিও সাজা ভোগ করছি।
-হুজুর (দ) এর কথা বলা তরিকাঃ
(১) আল্লাহ প্রিয় হাবীব (দ) যখন কথা বলতেন তখন শ্রোতার বুঝার ক্ষমতার দিকে লক্ষ্য রেখে কথা বলতেন।
কাল্লিমুন নাস আলা কাদরি আকুলিহিম লা আলা আকুলিকুম
(যখন কথা বল তখন শ্রোতাদের বুঝ অনুযায়ী কথা বল, নিজের বুঝ অনুযায়ী কথা বলিওনা)
(২) কথা বলার সময় কোন বিষয় গুরুত্বপূণ হলে তা ৩ বার রিপিট করতেন। যাতে মানুষের মুখস্থ হয়ে যায়
(৩) হুজুর (দ) অনেক দীর্ঘ কথা বলতেন না, তবে কম কথায় মানুষের কাছে প্রকৃত পয়গামটি পৌঁছে দেয়ার দক্ষতা হুজুর (দ) জানতেন। হুজুর নিজেই বলেন (আনা আফসাহুল আরব) আমি আরবদের মধ্যে সবচেয়ে ফসিহ।
(৪) হুজুর (দ) যখন বক্তব্য রাখতেন তখন আওয়াজ এ এতই বরকত হত লক্ষ লক্ষ লোক হলেও তাদের কানে সে আওয়াজ পৌঁছে যেত। আর তখন শ্রোতারাও এমন ভাবে আগ্রহের সাতে শুনত সে মজলিসে কিংপতন নিরবতা বিরাজ করত।
-নবীজি পাগলের কথাও মনযোগ দিয়ে শুনতেন
আমরা অনেক সময় কথা শুনি অত্যন্ত অহংকারী মন নিয়ে অনেক সময় মসজিদে আসি ইমাম সাহেব বক্তব্য রাখে আর আমরা মনে মনে ভাবি আরো ইমাম সাহেব কি জানে? আমি তার চেয়ে বেশী জানি, অথচ কথা যেই বলুক তার কথা মনযোগ দিয়ে শুনাও হল সুন্নত, আপনি অনেক বড় জ্ঞানী কিন্তু তারপরও সামনের কেহ যদি কোন কথা বলে তা মন দিয়ে শুনাও সুন্নত ও আদব।
আমার নবী মক্কার এক মহিলার কথা দীঘক্ষন যাবৎ রোদ্রে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুনছিলেন সাহাবারা সে মহিলাকে পাগল বলে কিন্তু আমার নবী সে মহিলার কথাও মনযোগ দিয়ে শুনতেন।
-মশকরা করার সময়ও মিথ্যা বলতেন না- যেমন এক বুড়ি এসে বলে এয়া রাসুলাল্লাহ আমি কি জান্নাতে যাব? হুজুর বলেন জান্নাতে কোন বুড়ি যাবে না, তখন বুড়ি কাঁদতে লাগল, তখন আল্লার রাসুল বললেন হে বুড়ি তুমি জান্নাতে যাবে তবে জান্নাতে যাওয়ার সময় তুমি আর বুড়ি থাকবেনা বরং জোয়ান হয়ে যাবে।
-সহজ যুক্তি দিয়ে সত্য বলা
আপনি যখন কাউকে ভুল রাস্তা থেকে সঠিক রাস্তায় আনতে চেষ্টা করবেন চাই সে আপনার স্ত্রী হউক, কিংবা সন্তান হউক কিংবা অন্য যে কেহ হউক তাকে এমন সহজ যুক্তি দিবেন যাতে তার বিষয়টি বুঝে আসে,
ঘটনা- যেমন মহানবীর প্রথম দাওয়াত
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সর্বসাধারণের কাছে দাওয়াত পেশ করার হুকুম দেয়া হলো এবং কুরআন মজীদে এ মর্মে নির্দেশ দেয়া হলো : “ সবার আগে আপনার নিকট আত্মীয়দেরকে আল্লাহর আযাবের ভয় দেখান । ” এ নির্দেশ পাওয়ার পর সকাল বেলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাফা পাহাড়ে উঠে বুলন্দ আওয়াজে চিৎকার করে বললেন ( হায় , সকাল বেলার বিপদ ! ) আরবে এ ধরনের আওয়াজ এমন এক ব্যক্তি দিয়ে থাকে যে ভোর বেলার আলো আঁধারীর মধ্যে কোন শত্রুদলকে নিজেদের গোত্রের ওপর আক্রমণ করার জন্য এগিয়ে আসতে দেখে থাকে। রসূলুল্লাহ ( সা) এ আওয়াজ শুনে লোকেরা জিজ্ঞেস করলো , কে আওয়াজ দিচ্ছে ? বলা হলো মুহাম্মাদ ( রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) আওয়াজ দিচ্ছেন। একথা শুনে কুরাইশদের সমস্ত পরিবারের লোকেরা দৌড়ে গেলো তাঁর দিকে । যে নিজে আসতে পারতো সে নিজে এসে গেলো এবং সে নিজে আসতে পারতো না সে তার একজন প্রতিনিধি পাঠিয়ে দিল। সবাই পৌঁছে গেলে তিনি কুরাইশের প্রত্যেকটি পরিবারের নাম নিয়ে ডেকে ডেকে বললেন : হে বনী হাশেম ! হে বনী আবদুল মুত্তালিব ! হে বনী ফেহর ! হে বনী উমুক ! হে বনী উমুক ! যদি আমি তোমাদের এ কথা বলি , এ পাহাড়ের পেছনে একটি সেনাবাহিনী প্রস্তুত হয়ে রয়েছে তোমাদের ওপর আক্রমণ করার জন্য , তাহলে আমার কথা কি তোমরা সত্য বলে মেনে নেবে ? লোকেরা জবাব দিল , হ্যাঁ , আমরা কখনো আপনার মুখে মিথ্যা কথা শুনিনি। একথা শুনে তিনি বললেন : তাহলে আমি তোমাদের সতর্ক করে দিচ্ছি , আগামীতে কঠিন আযাব আসছে । একথায় অন্যকেউ বলার আগে তাঁর নিজের চাচা আবু লাহাব বললো : “ তোমার সর্বনাশ হোক , তুমি কি এ জন্য আমাদের ডেকেছিলে ? ” অন্য একটি হাদীসে একথাও বলা হয়েছে , সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে ছুঁড়ে মারার জন্য একটি পাথর উঠিয়েছিল। ( মুসনাদে আহমাদ , বুখারী , মুসলিম , তিরমিযী , ইবনে জারীর ইত্যাদি)।
-কথা বলার সময় অহংকার না করাঃ আমরা কথা বলার সময় অহংকার করি, মানুষকে বড় বড় কথা বলি, নিজের বংশের অহংকার করি, নিজের ক্ষমতার অহংকার করি, অথচ দুনিয়ার মধ্যে সমস্ত আম্বিয়াদের ইমাম, রহমতুললিল আলামিন নবী যিনি না হলে কিছুই হত না, সে নবী জীবনে কখনো অহংকার করেনি। কাজেও নিরহংকার কথায়ও নিরহংকার ছিলেন আমাদের নবী।
নবীর অপরের প্রতি খেয়ালের ঘটনা
জারির বসার নবী নিজের চাদর দিলেন
অর্থ্যাৎ- হযরত জারির (রা) হতে বর্ণিত নবী করিম (দ) তার এক গৃহে প্রবেশ করলেন। গৃহটি লোকে পরিপূর্ণ ছিল। তাই জারির বসার স্থান না পেয়ে বাহিরে মাটিতে বসে গেল।নবী (দ) যখন তাকে বাহিরে বসতে দেখলে, তখন নিজের চাদরটি ভাজ করে জারিরের দিকে ছুড়ে মারলেন। এবং বললেন এই চাদরটি বিছিয়ে তার উপর বস। হযরত জারির সে চাদরটি তুলে তাতে চুমু খেলেন এবং চোখে লাগালেন।
ফায়দা- নবীর (দ) মত এমন সেরা চরিত্রের অধিকারীর পক্ষে এটা সম্ভব ছিলনা তিনি নিজে ভিতরে বিছানায় বসেবন এবং জারির বাহিরে মাটিতে বসবে, তাই তিনি নিজের গায়ের চাদর জারিরের দিকে ছুড়ে মারলেন। আর সাহাবী জারিরের পক্ষেও সম্ভব ছিলনা নবীর পবিত্র কাপড় বিছিয়ে তার উপর বসা।তাই তিনি সে কাপড়টি বিছালেননা বরং তাকে চুমু খেলেন, চোখে লাগালেন। এটাই হল যেমন নবী তেমন তার সাহাবার চরিত্র।
অনেকে মৃত্যুর সময়ও অহংকার করে- আবু জেহেল ও ইবনে মাসউদের ঘটনা
ঘটনা- মক্কায় আল্লার রাসুল (দ) সুরা রাহমান নাজিল হলে আবদুল্লাহ বিন মাসউদকে বললেন তা মুখস্থ করে নবীকে শুনানোর জন্য, আবদুল্লাহ বিন মাসউদের কন্ঠ খুব সুন্দর ছিল, তিনি সুরা রহমান মুখস্থ করে নবীকে শুনালেন, নবী খুব খুশী হলেন, এবার বলেন হুজুর আমি এই সুরাটি আবু জেহেলকে শুনাতে চাই। এই কথা বলে সে দিল দৌড় আর আবু জেহেলের সামনে সুরা রাহমান পড়তে আরম্ভ করল, আবু জেহেল েএকদম রেগে গিয়ে তাকে এক থাপ্পর মারল, আর থাপ্পরের চোটে ছোট বাচ্চা আবদুল্লাহ মাটিতে পড়ে গেল আর কান দিয়ে রক্ত বের হওয়া আরম্ভ হল, আল্লাহর নবী এ খবর শুনলেন তখন হযরত জিবরীল নবীর সামনে ছিল , জিবরীল হাসতেছে, নবী প্রশ্ন করলেন আরো জিবরীল তুমি হাসতেছ কেন? জিবরীল বলল কেন হাসলাম এর জবাব আমি পরে দিব।
মদীনায় যখন বদর যুদ্ধ শুরু হল আর সে বদর যুদ্ধে মায়াজ ও মুয়াব্বেজ নামক দুই শিশু আবু জেহেলকে ঘায়েল করে ফেলল সে বদরের মাঠে কাতরাচ্ছে আর আবদুল্লাহ বিন মসউদ যখন দেখলেন আবু জেহেল মরে নাই, তখন আবদুল্লাহ বিন মসউদ আবু জেহেলের বুকে বসে গেল, আবু জেহেল আবদুল্লাহ বিন মসউদকে দেখে বলে আরো আবদুল্লাহ তুমিতো গোলাম আর আমি হলাম একজন আরবের নেতা একজন নেতা হয়ে একজন গোলামের হাতে আমাকে মরতে হবে তা ভেবেই আমি ঘৃনায় মরে যাচ্ছি, যাক তুমি যখন আমার গলাটা কাটবে একটু বড় করে কাটবে যাতে মানুষ বুঝতে পারে আমি বড় নেতা ছিলাম।
এভাবেই আবু জেহেল মরার সময়ও অহংকার করা ছাড়ে না। আবদুল্লাহ বিন মসউদ আবু জেহেলকে কতল করে দিল আর মাথাটা কানের সাথে রশি বেঁধে নিজের কোমরের সাথে বেঁধে নবীর সামনে নিয়ে আসলে, আর তখন হযরত জিবরীল আমি নবীর সামনে ছিল আর এখনও তিনি হাসছেন তখন নবীজি প্রশ্ন করলেন হে জিরীল তুমি হাসছ কেন? জিবরীল জবাব দিল হে আল্লাহর রাসুল আপনার কি মনে আছে মিক্কায় একদিন এই আবু জেহেল আবদুল্লাহ বিন মসউদকে থাপ্পর মেরে কান ফটিয়ে দিয়েছিল, সেদিন আমি হাসছিলাম কারন আজকের দিনের এই দৃশ্য বা ঘটনা যে ঘটবে যে আবু জেহেল আবদুল্লাহকে মেরেছিল সে আবদুল্লাহই একদিন এ আবু জেহেলকে মারবে তা চিন্তা করেই আমি সেদিন হেসেছিলাম।
আমরা প্রতিনিয়ত কথাবলি আর কথা বলার ধরন যদি সুন্দর হয়, তাহলে আপনার কঠিন কথাও সামনের জন গ্রহণ করবে আর যদি কথা বলার ধরন ঠিক না হয় তাহলে সুন্দর কথাও সামনের জন কবুল করতে কষ্ঠ হবে।
যেমন একটি উদাহারন দিলে বুঝতে পারবেন্-
-বাদশার স্বপ্নের তাবিরঃ এক বাদশা স্বপ্নে দেখল তার সবগুলি দাঁত পড়ে গেল, এই স্বপ্ন দেখে তিনি একজন মুয়াব্বের বা স্বপ্নের ব্যাখ্যাকারীকে ডেকে তাঁর স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানলেন। ব্যাখ্যাকারী স্বপ্ন শুনে খুবই চিন্তায় পড়ে বলল বাদশা আপনার স্বপ্নের তাবিরতো খুবই ভয়াবক, আপনার এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা হল আপনার সব আত্মিয় স্বজন আপনার আগেই মারা যাবে।
এ ব্যাখ্যা শুনে বাদশা রেগে গেলেন আর তাকে গলা ধাক্কা দিয়ে দরবার থেকে বের করে দিলেন। অন্য একজন মুয়াব্বেরকে ডাকা হল, সে ছিল বুদ্ধিমান এবং কথা বলার ধরন তার সুন্দর। সে ব্যাখ্যা করল বাদশা সালামত আপনার স্বপ্নটি খুবই সুন্দর, আপনার স্বপ্নের জন্য আপনাকে মোবারক বাদ কারন আপনার পরিবারের মধ্যে আপনার হায়াত সবার চেয়ে বেশী হবে। এ কথা শুনে বাদশা খুশিহয়ে গেলেন আর তাকে পুরস্কার দিলেন।
অথচ দুইজনের ব্যাখ্যাই ছিল এক একজন এর কথা বলার ধরন সুন্দর না হওয়ায় গলা ধাক্কা খেয়েছে অন্যজন সুন্দর করে বুঝাতে পারার কারনে পুরস্কৃত হয়েছেন।
مَا يَلْفِظُ مِن قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ
সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্যে তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে। [ সুরা ক্বাফ ৫০:১৮ ]
যেহেতু আমাদের কথাগুলি আল্লাহর সৈন্যরা রেকড করছে সেহেতু আমাদের প্রথম কাজ হল-
১। যখনই কথা বলবেন উত্তম কথা বলাঃ
কারো সাথে কথাবার্তা উত্তম বিষয়ে হওয়া উচিত। রাসূল (ছাঃ) বলেন
وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ
যে লোক আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে অথবা চুপ থাকে’।
২। অনথক কথা বার্তা পরিহার করাঃ
আমরা অনেক সময় বেফায়দা কথাবার্তা বলি, এমন সব বিষয় নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলি যে সব কথায় আমাদের নাই কোন দুনিয়াবি ফায়দা, নাই কোন আথিক ফায়দা নাই কোন আখেরাতের ফায়দা
রাস্তায়, পার্কে, দোকানে বসে বসে আড্ডবাজি করার সময় এমন সব কথাবার্তা বলি যে সব কথা আল্লাহর প্রহরিরা রেকড করে যাতে ১টি অক্ষরও আমাদের জন্য কোন উপকারী না।
যুবক যুবতীরা যখন কথা বলে নাটকের কথা বলে, সিনামার কথা বলে, খেলাধুলার কথা বলে, খেলোয়াড়দের কথা বলে, নায়ক নায়িকাদের কথা বলে, এসব কথায় নাই কোন দুনিয়াবি ফায়দা নাই কোন আখেরাতের ফায়দা বরং এসব কথা দিয়ে আমরা নিজেদের গুনাহের পাল্লাকে ভারি করে ফেলি।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,
مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ-
(মিন হুসনি ইসলামিল মারঈ তারকুহু মালা এয়ানিহ)
‘মানুষের জন্য ইসলামের সৌন্দর্য হচ্ছে তার অনর্থক কথাবার্তা পরিহার করা’।
৩। অপ্রয়োজনীয় বাকবিতন্ডা না করা
তর্ক-বিতর্ক, ঝগড়া বা বাকবিতন্ডা কখনো ভাল ফল বয়ে আনে না। কাজেই অপ্রয়োজনে এসব থেকে দূরে থাকা একান্ত যরূরী। রাসূল (ছাঃ) বলেন,
أَنَا زَعِيمٌ بِبَيْتٍ فِى رَبَضِ الْجَنَّةِ لِمَنْ تَرَكَ الْمِرَاءَ وَإِنْ كَانَ مُحِقًّا
‘আমি সেই ব্যক্তির জন্য জান্নাতের পার্শ্বদেশে এক গৃহের যামিন হচ্ছি, যে ব্যক্তি সত্যাশ্রয়ী হওয়া সত্ত্বেও তর্কবিতর্ক বর্জন করে।
৪. কথাবার্তায় অশ্লীলতা পরিহার করা :
অশ্লীল কথা বলা বা কথাবার্তায় অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়। এগুলি সর্বতোভাবে পরিত্যাজ্য। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,
لَيْسَ الْمُؤْمِنُ بِالطَّعَّانِ وَلَا اللَّعَّانِ وَلَا الْفَاحِشِ وَلَا الْبَذِيءِ
‘মুমিন কখনো দোষারোপকারী ও নিন্দাকারী হ’তে পারে না, অভিসম্পাতকারী হ’তে পারে না, অশ্লীল কাজ করে না এবং কটূভাষীও হয় না’।
৫. ঠাট্টা-বিদ্রূপ ও কাউকে হেয় করার মানসিকতা ত্যাগ করা :
কউকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা এবং হেয় করার চিন্তা মন থেকে দূরে সরিয়ে দিতে হবে। আল্লাহ বলেন,
يَاأَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِنْ قَوْمٍ عَسَى أَنْ يَكُوْنُوْا خَيْرًا مِنْهُمْ وَلَا نِسَاءٌ مِنْ نِسَاءٍ عَسَى أَنْ يَكُنَّ خَيْرًا مِنْهُنَّ وَلَا تَلْمِزُوا أَنْفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ بِئْسَ الِاسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الْإِيمَانِ وَمَنْ لَمْ يَتُبْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ-
‘হে বিশ্বাসীগণ! কোন সম্প্রদায় যেন কোন সম্প্রদায়কে উপহাস না করে। হ’তে পারে তারা তাদের চাইতে উত্তম। আর নারীরা যেন নারীদের উপহাস না করে। হ’তে পারে তারা তাদের চাইতে উত্তম। তোমরা পরস্পরের দোষ বর্ণনা কর না এবং একে অপরকে মন্দ লকবে ডেকো না। বস্ত্ততঃ ঈমান আনার পর তাকে মন্দ নামে ডাকা হ’ল ফাসেক্বী কাজ। যারা এ থেকে তওবা করে না, তারা সীমালংঘনকারী’ (হুজুরাত ৪৯/১১)।
৬. তিনজন থাকলে দু’জনে কানে কানে কথা না বলা :
কোথাও তিনজন লোক থাকলে একজনকে বাদ দিয়ে দু’জনে কানে কানে কথা বলা যাবে না। কারণ এতে তৃতীয় ব্যক্তি মনে কষ্ট পায়। রাসূল (ছাঃ) বলেন,
إِذَا كُنْتُمْ ثَلَاثَةً فَلَا يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُونَ صَاحِبِهِمَا، فَإِنَّ ذَلِكَ يَحْزُنُهُ-
‘তোমরা তিনজন একত্র হ’লে একজনকে বাদ দিয়ে যেন দু’জনে কানে কানে কথা না বলে। কেননা তাতে সে চিন্তিত হ’তে পারে’
৭. অন্যের আমানত রক্ষা করা :
কোন ব্যক্তি কোন কথা আমানত হিসাবে বললে তা রক্ষা করা মুমিনের জন্য অবশ্য কর্তব্য। রাসূল (ছাঃ) বলেন,
لَا إِيمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ،
‘যার আমানতদারী নেই, তার ঈমান নেই’। অন্যের বলা কথার গোপনীয়তা রক্ষা করা যরূরী। সে ব্যক্তি মুখে গোপনীয়তা রক্ষার কথা না বললেও যখন সে ঐ কথা অন্যের সামনে বলতে চাইবে না কিংবা অন্য কেউ শুনুক সেটাও পসন্দ করবে না, তখন বুঝে নিতে হবে যে, সেটা গোপনীয় কথা-যা গোপন রাখাই যরূরী। রাসূল (ছাঃ) বলেন,
إِذَا حَدَّثَ الرَّجُلُ بِالْحَدِيْثِ ثُمَّ الْتَفَتَ فَهِىَ أَمَانَةٌ
‘কোন ব্যক্তি কোন কথা বলার পর মুখ ঘুরালে (কেউ শুনছে কি-না তা দেখলে) তা আমানতস্বরূপ’।
৮. রূঢ়তা ও কর্কশতা পরিহার করা :
কথা বলার ক্ষেত্রে নম্রতা অবলম্বন করা যরূরী। রূঢ়তা ও কর্কশতা মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়। আল্লাহ স্বীয় রাসূলকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ-
‘আর আল্লাহর রহমতের কারণেই তুমি তাদের প্রতি (অর্থাৎ স্বীয় উম্মতের প্রতি) কোমলহৃদয় হয়েছ। যদি তুমি কর্কশভাষী কঠোর হৃদয়ের হ’তে তাহ’লে তারা তোমার পাশ থেকে সরে যেত’ (আলে ইমরান ৩/১৫৯)।
বিরোধীদের সাথেও আল্লাহ নম্রভাষায় কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি মূসা ও হারূণ (আঃ)-কে উদ্দেশ্য করে বলেন,
اذْهَبَا إِلَى فِرْعَوْنَ إِنَّهُ طَغَى، فَقُولَا لَهُ قَوْلًا لَيِّنًا-
‘তোমরা দু’জন ফেরাঊনের নিকটে যাও। নিশ্চয়ই সে উদ্ধত হয়েছে। অতঃপর তার সাথে নরমভাবে কথা বল। হয়ত সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় করবে’ (ত্ব-হা ২০/৪৩-৪৪)।
-সম্পূণ ইসলাম ধর্মের সারাংশ
নবী করিম (দ) একদিন হযরত মুয়াজ (রা) কে বললেন হে মুয়াজ আমি কি তোমাকে গোটা দ্বীন ইসলামের খোলাছা বা সারাংশ বলব? মুয়াজ বলেন এয়া রাসুলাল্লাহ নিশ্চয়ই। হুজুর (দ) নিজের জিহ্বা ধরে বললেন (হুফফা হাজা) এই জিহ্বাকে কন্ট্রোল করে রাখ।
একনজরে কথা বলা আদব
# সালাম দিয়ে কথা শুরু করা
# নম্রতার সাথে কথা বলা
#সন্তানদেরকেও কিছু বুঝাতে হলে নম্রতার সাথে আদর করে বুঝাতে হবে, বকা দিয়ে ধমক দিয়ে কোন গুরুত্বপূণ কথা শুনাতে পারবেন না।
# কম কথায় মুল কথা বুঝায়ি দিতে হবে।
# এত দীঘ কথা বলবেন না যাতে শ্রোতা বিরক্ত হয়
# যখনই কথা বলবেন চিন্তা ভাবনা করে বলবেন, েএমন যেন না হয় এমন কথা বললেন যার জন্য পরে পসতাতে হয়,
# মিথ্যা মোটেও বলবেন না
# চোগলখুরি মোটেও করবেন না, শুনবেনও না
# কথায় কথায় কসম উঠাবেন না
# কেহ তার কথা শেষ করার আগে বলবেন না
# কারো সাথে বৈধ মশকরা কালেও মিথ্যা বলবেন না
# কারো পিছনে তার ব্যপারে এমন কথা বলবেন না যা সে অপছন্দ করে, যদিও সে দোষ তার মধ্যে থাকে, তাহলে সেটা হবে গিবত, আর যদি দোষটি তার মধ্যে না থাকে তাহলে বুহতান।
# কথা বলার সময় আওয়াজকে উঁচু হতে দিবেন না, বেহুদা তর্কে লিপ্ত হবেন না।
# শুনা কথা প্রচার করবেন না এধরনের কথা বেশী মিথ্যা হতে পারে
# কারো প্রসংশা কালে চাটুকারিতার আশ্রয় নিবেন না।
# ৩ জন থাকলে ২ জন কানে কানে বলবেন না।
# কথা স্পষ্ট ভাষায় বলবেন যেন সামনের লোক বুঝতে সহজহয়।
#কেহ কথা বললে তা মনযোগ দিয়ে শুনবেন, যদি অশ্লিল কথা ও গীবত না হয়, অশ্লিল কথা বললে তাকে নিষেধ করে দিন, কিংবা সেখান থেকে উঠে চলে যান।

কোন মন্তব্য নেই