ইসলামের দৃষ্টিতে ভালোবাসা দিবস। অভিশপ্ত ভালবাসা দিবসের ৫টি গল্প

 অভিশপ্ত ও ভয়ংকর ভালবাসা দিবসের বিশ্বসেরা ৫টি গল্প

ইসলামের দৃষ্টিতে ভালোবাসা দিবস

 


১৪ ফেব্রুয়ারী আসছে বিশ্ব কি দিবস জানি? আপনারা বলেন ভালোবাসা দিবস- আজ আমি সে দিনটিকে উপলক্ষ করে ৫টি বিশ্বসেরা বাস্তব গল্প বলব যা আপনাকে এই দিবসটি পালনের ব্যপারে সঠিক পথ দেখাবে- শেষ পযন্ত  শুনেই দেখুন পছন্দ না হলে আলোচনাটি উইথড্র করব।

ভালবাসার গল্প-১

-সুন্দর সাহাবী মরসদ বিন মরসদের ঘটনা

হযরত মরসদ বিন মরসদ ইসলাম গ্রহণের আগে আরবী নারীরা তার সৌন্দর্য়্যে পাগল ছিল, তিনিও বেশ কয়জনের সাথে লাইন মারত, তিনি যখন ইসলাম কবুল করেন তখন হুজুর (দ) তাকে ১টি নসিহত করেন দৃষ্টিকে অবনত রাখবে।

তিনি যখন মুসলমান হয়ে গেলেন তখন তার পুরানা প্রেমিকা ডাক দিত কিন্তু তিনি তার দিকে ফিরেও তাকাতো না, তখন প্রেমিকা প্রশ্ন করল, কি ব্যপার হযরত মরসদ জবাব দিল আমি মুহাম্মদে আরাবীর গোলাম হয়ে গেছি, তিনি আমাকে হকুম দিয়েছেন দৃষ্টি অবনত রাখতে সুতরাং এই দৃষ্টি আর কোন বেগানা নারীর দিকে উঠবেনা।

 

ভালবাসার গল্প-২

-উমায়ের তাবেয়ীকে বন্ধ ঘরে নারীর প্রলোভন

হযরত উমায়ের (রহ) এক মুসলিম নওজোয়ান মুসলিম সেনাপতি, তাকে রোমানরা গ্রেফতার করে নিয়ে গেল, আর তাকে প্রস্তাব দিল তুমি খ্রিষ্টান হয়ে যাও তোমাকে মুক্তি দেয়া হবে এবং নারী বাড়ী ধন সব কিছু দেয়া হবে, কিন্তু তিনি রাজি হলেন না, তখন তারা ষড়যন্ত্র করে তাকে এক রুমে মদ শুকরের গোস্ত একজন অত্যন্ত সুন্দরী নারী দিয়ে বন্ধী করে রাখল, কিন্তু ৩ দিন ৩ রাত সে চোখ তুলে সে সুন্দরী খ্রিষ্টান নারীর দিকে চোখ তুলেও তাকান নি।

সে মহিলা তাকে বলল (মান এয়ামনাউকা মিন্নি) তোমাকে কে আমার দিকে তাকাতে বাধা দিচ্ছে? হযরত উমায়ের জবাব দিলেন আমাকে তিনি দেখছেন যিনি তোমাকে আমাকে সকলকে দেখছেন।

সে মহিলা এই মুসলমান নেককার মুজাহিদের ধার্মিকতা ও তাকওয়া দেখে মুসলমান হয়ে গেল এবং হযরত উমায়েরকে শত্রুদের জেল থেকে পলায়ন হতে সাহায্য করল। তার লজ্জাশীলতা তাকে শত্রু ও বিপদ থেকে মুক্তি দিয়ে দিল।

 

ভালবাসার গল্প-৩

বাগদাদে এক নওজোয়ান এক কাপড়ের দোকানে কাজ করত, বাগদাদের এক মহিলা কাপড় কিনে সাথে সে জোয়ানকে ঘরে এ জন্য আনল যে সব কাপড় ঘরের মেয়েদের পছন্দ হবে তা রাখবে বাকী গুলি তার দিয়ে ফেরত দিবে, কিন্তু সে দুষ্টু মহিলা তাকে ঘরে নিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে কু প্রস্তাব দিল, তখন সে নওজোয়ান আল্লাহ ওয়ালা ছিল যার অন্তরে আল্লাহর ভয় ছিল সে বলল মুহতারামা আমার খুব পায়খানার হাজত হয়েছে আমাকে আগে টয়লেট করার ব্যবস্থা করে দিন, তাকে টয়লেট দেখিয়ে দেয়া হল যুবকটি ট/য়লেটে গিয়ে সারা শরীরে পায়খানা লাগিয়ে বের হয়ে আসল, তখন সে মহিলা তার এই অবস্থা দেখে তাকে ছেড়ে দিল। ঘরে এসে ময়লা ধুয়ে নিল রাতে যখন ঘুমালো হযরত ইউসুফ (আ) স্বপ্নে আসল আর বলল হে মুহাম্মদ (দ) এর উম্মত তুমি একজন সাধারণ উম্মত হয়ে সে কাজ করেছ যে কাজ আমি একজন পয়গাম্বর হয়ে করেছি। সেদিন থেকে তার শরীর থেকে মেশকের মত খুশবু বের হত সকলে তাকে মিশকি হুজুর বলে ডাকত। এমনকি তার মৃত্যুর পর তার কবর থেকেও মিশকির খুশবু ছড়াতো।

ভালোবাসা দিবসের গল্প-৪

সবচেয়ে বড় গুনাহ হল শিরিক আর কেহ যদি নিজেকে বড় খোদা বলে সেটা আরো বড় গুনাহ, কিন্তু যে ফেরাউন মুসা (আ) এর যুগে নিজেকে খোদা দাবী করেছে বলেছে (আনা রাব্বুকুমুল আলা) আমি বড় খোদা নাউজুবিল্লাহ। সে ফেরাউনকে আল্লাহ পানিতে ডুবিয়ে মেরেছে, আর সে ফেরাউন ও তার জাতি থেকেও ভয়াবহ আযাব দিয়েছেন লুতের জাতিকে

বিকৃত পাপাচারে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল লুত (.)-এর জাতি ইরাক ফিলিস্তিনের মধ্যবর্তী স্থানে এই জাতিটির বসবাস ছিল এই জাতির কেন্দ্রীয় শহর ছিলসাদুমনগরী

একদিন আল্লাহর গজব নাজিল হয় ওই পাপাচারী জাতির বিরুদ্ধে। তাদের ওপর মহাপ্রলয় নেমে আসে। এক শক্তিশালী ভূমিকম্প পুরো নগরটি সম্পূর্ণ উল্টে দেয়।  পাশাপাশি আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো কঙ্কর নিক্ষিপ্ত হতে থাকে। ওই মহাপ্রলয়ের হাত থেকে কেউ রেহাই পায়নি। ওই জনপদের ধ্বংসাবশেষ এখনো বিদ্যমান

লুত (.)-এর জাতির ধ্বংসস্থলটি বর্তমানেবাহরে মাইয়েতবাবাহরে লুতনামে খ্যাত। এটি ডেড সি বা মৃত সাগর নামেও পরিচিত। ফিলিস্তিন জর্দান নদীর মধ্যবর্তী স্থানে বিশাল অঞ্চলজুড়ে নদীর রূপ ধারণ করে আছে এটি। জায়গাটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ নিচু। এতে কোনো মাছ, ব্যাঙ, এমনকি কোনো জলজ প্রাণীও বেঁচে থাকতে পারে না। কারণেই একেমৃত সাগরবলা হয়

সাদুম উপসাগরবেষ্টিত এলাকায় এক ধরনের অপরিচিত উদ্ভিদের বীজ পাওয়া যায়, সেগুলো মাটির স্তরে স্তরে সমাধিস্থ হয়ে আছে। সেখানে শ্যামল উদ্ভিদ পাওয়া যায়, যার ফল কাটলে তার মধ্যে পাওয়া যায় ধুলাবালি ছাই

এখানকার মাটিতে প্রচুর গন্ধক পাওয়া যায়। এই গন্ধক উল্কাপতনের অকাট্য প্রমাণ

 

ভালবাসার গল্প-৫

নবী হজরত ইউসুফ (.)-এর বাদশাহি মুকুট নসিব হয়েছে কেননা তিনি সর্বদা লাজুকতার পরিচয় দিতেন যখন হজরত ইউসুফ (.)-কে বিবি জুলাইখা গোনাহের প্রতি আহ্বান করল, কিন্তু হজরত ইউসুফ (.) জুলাইখার আহ্বানে অস্বীকৃতি জানালেন এমনকি তিনি আল্লাহর আশ্রয় চেয়েছেন জুলাইখার সামনে নিজের পবিত্রতা এবং ইজ্জত বিলিয়ে দেননি 

তখন মিথ্যা এবং চক্রান্তের জালে ফাঁসিয়ে তাকে জেলে পাঠানো হয়। জেলখানার কষ্টকে তিনি হাসিমুখে বরণ করে নেন। কিন্তু লজ্জা অন্তরের পবিত্রতা বিকিয়ে দিতে রাজি হননি। 

জন্য আল্লাহ পাক তাকে শুধু জেলখানা থেকে বের করেননি বরং তাকে দুনিয়ার ধনভাণ্ডারের মালিক বানিয়েছেন। বানিয়েছেন মিসর অধিপতি। 

আমরাও যদি নবী হজরত ইউসুফ (.)-এর মতো নিজের ইজ্জত-সম্মানের হেফাজত করতে পারি। গোনাহ-পাপাচার থেকে বেঁচে থাকি। তাহলে আমাদেরকেও ইজ্জত সম্মান নিয়ামতের মুকুট পরাবেন মহান আল্লাহ

শুধু রাজপ্রাসাদ এবং মুকুটই নয় বরং লজ্জাশীল ব্যক্তি আল্লাহর নিকট অনেক মাকবুল হয়ে যায়। আল্লাহ তার দোয়া ফিরিয়ে দেন না। তাকে বিপদ-মুসিবতে ফেলেন না। সর্বোপরি তাকে সব রকমের সংকট থেকে বাঁচিয়ে আগলে রাখেন

আজ ভালোবাসা দিবসের নামে যে বেহায়াপনা চলছে এটা মুসলমানের জন্য নয়

# মুসলমানের ভালবাসা হবে আল্লাহ সাথে প্রতিদিন ৫ বার নামাজের মাধ্যমে

# মুসলমানের ভালবাসা হবে নবীর সাথে প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যায় দরুদ শরীফ পাঠর মাধ্যমে

# মুসলমানের ভালবাসা হবে স্ত্রী সাথে প্রতিদিন তাঁর সাথে হাসি মুখে কথা বলার মাধ্যমে তাঁকে সালাম দেয়ার মাধ্যমে, তাঁর মুখে খাবারের লোকমা তুলে দেয়ার মাধ্যমে

# মুসলমানের ভালবাসা হবে মা বাবার সাথে প্রতিদিন তাদের খেদমত করার মাধ্যমে।

# ‍মুসলমানদের ভালবাসা হবে সন্তানদের সাথে তাঁদেরকে সু শিক্ষায় শিক্ষিত করার মাধ্যমে

# মুসলমানদের ভালবাসা হবে প্রতিবেশীর সুখে দুঃখে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে

# মুসলমানদের ভালবাসা হবে ভাই বোনের সাথে তাঁদের বিপদে ঝাপিয়ে পড়ার মাধ্যমে।

# মুসলমানদের ভালবাসা হবে অপর মুসলমানের সাথে আপন ভায়ের মত আচরন করার মাধ্যমে।

 

 

#হে নওজোয়ান ভায়েরা আজ আপনার হাতের মুঠোয় বেহায়ায়ীর যন্ত্র, নিচের চোখকে কন্ট্রোল করুন,

 

#হে আমার ভায়েরা আজ আপনি স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটিতে যাচ্ছেন বেগানা নারীর প্রতি দৃষ্টি পড়া কু দৃষ্টি দেয়া সহজ, কিন্তু হযরত উমায়ের এর মত নিজের দৃষ্টিকে নত রাখুন

 

#হে আমার মুসলমান ভায়েরা আজ বাজারে মার্কেটে চাকরীতে গেলেই বেগানা নারীর প্রতি দৃস্টি পড়লে কু দৃষ্টি দেয়া সহজ, কিন্তু আপনার সে বাকা দৃষ্টিও আল্লাহ দেখছেন তা মনে করে কন্ট্রোল করুন। তাহলেই  আপনার এই হায়া শরম লজ্জা আপনাকে দুনিয়াতেও কামিয়াবী দিবে হযরত ইউসুফের মত আখেরাতেও সফলতার মুকুট পরিধান করাবে।

 

কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.