৪৭ সেকেন্ডে মেরাজ। মেরাজের ঘটনা। শবে মেরাজ ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের...

রজব মাসের ২য় খুতবা ১৪৪২ হিজরী

শবে মেরাজ আকিদায়ে আহলে সুন্নাহ



بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلاً مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الأَقْصَى

পরম পবিত্র মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যান্ত-যা   সুরা বনী-ইসরাঈল ১৭: ]

 

সম্মানিত মুসল্লী আপনারা জানেন আমাদের প্রিয় নবী (দ) কে আল্লাহ তায়ালা এই রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাত মসজিদে হারাম থেকে লা মকান পযন্ত সফর করিয়েছেন

(ছুম্মা দানা ফাতাদাল্লা ওয়া কানা কাবা কাউসাইনি আও আদনা)

শুধু দুই ধনুকের ব্যবধান ছিল। কিন্তু প্রশ্ন হল-

 

-আল্লাহ কেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসার কথা বললেন?

আপনি চট্টগ্রাম থেকে মক্কা গেলেন এখন আপনি যদি বলেন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা গিয়েছেন, এটা কি সঠিক হল? এখন সকলের প্রশ্ন নবীকে আল্লাহ মেরাজের রাতে নিকটে নিয়ে গেছেন লা মকানে নিয়ে গিয়েছেন কিন্তু কুরআনে কেন বলা হয় মসজিদে হারাম টু মসজিদে আকসা? এর রহস্য কি?

 

যে অল্প সময়ে মেরাজের সফর হয়েছে সে সময়টুকুতে মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা যাওয়াও সম্ভব নয়। কারন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসায় যেতে হলে তৎকালিন জামানায়ও বাহন যোগে ১ মাস সময়ের প্রয়োজন এবং আসতে ১ মাস সময়ের প্রয়োজন।

 

এখন মসজিদে আকসার কথা এই জন্যই বলা হয়েছে আল্লাহ যদি বলত নবীকে লা মকান নিয়ে গিয়েছি তাহলে কাফেররা ক্রস কোয়াইশন করতে পারবে না, কিন্তু যখন বলা হয় মসজিদে আকসায় নিয়ে গেছি তখন মক্কার কাফেরেরা যেহেতু মসজিদে আকসার সম্পর্কে জানে তাই তারা ক্রস কোয়াইশন করার সুযোগ পেয়ে গেল।

 

যেমন এখানে অনেকে ঢাকার বায়তুল মুকাররম সম্পর্কে জানেন এখন আমি যদি বলি আমি গত রাতে বায়তুল মুকররম গিয়েছি তাহলে যারা এ ব্যপারে যাচাই করতে চান তাদের জন্য সহজ হবে।

 

তেমনি যেহেতু মক্কার কাফেররা বায়তুল মকদস সম্পর্কে জানে তাই আল্লাহ তাদের প্রশ্ন করে যাচাই করার জন্যই বায়তুল মকদসের কথা বয়ান করেছেন।

 

যদি আল্লাহ বলত আমার হাবিব মক্কা থেকে লা মকানে এসেছে তাহলে কাফেরেরা কিভাবে যাচাই করত? কারন লা মকানের নলেজ কোন কাফেরের ছিলনা।

 

তাই আল্লাহ সে জায়গার উল্লেখ করেছেন যেখানে এত অল্প সময়ে যাওয়া আসা করা অসম্ভব তবে সে জায়গাটি কাফেরদের জানা শুনা জায়গা যেন হয়।

 

যখন মসজিদে আকসার কথা বলা হল তখন কাফেরেরা প্রশ্ন করা আরম্ভ করে দিল?

হে মুহাম্মদ যদি আপনি মসজিদে আকসায় গিয়ে থাকেন তাহলে বলুন দেখি তাতে পিলার কয়টি? এর ধরন কেমন? এসব প্রশ্ন করছিল। আর হুজুর (দ) এভাবে উত্তর দিচ্ছিলেন যেন মসজিদে আকসা হুজুর (দ) এর সামনেই রয়েছে। সুবহানাল্লাহ।

 

যদি এত অল্প সময়ে মসজিদে আকসা যাওয়া ইমপসিবল না হয় তাহলে লা মকানে যাওয়াও ইমপসিবল নয়। সে জন্য কুরআনে শুধু মসজিদে আকসা পযন্ত সফরের বয়ান দেয়া হয়েছে।

 

-সুবহানাল্লাজি বলে কেন আয়াত শুরু হল?

আল্লাহ তায়ালা এই সফরের সকল দায় দায়িত্ব নিজের উপর নিয়ে নিয়েছেন, যদি নবী বলত আমি গিয়েছি তাহলে সকলে এতেরাজ করত কিন্তু যিনি সবশক্তিমান তিনি যখন বলে দিলেন আমি নিয়ে গেছি তখন আর কারো পক্ষে নবীর প্রতি আঙ্গুল তোলার সুযোগ বাকী রইলনা।

 

-নবীর (দ) যোগ্যতা বনাম মুসার (আ) যোগ্যতা

তবে যিনি সফরে গিয়েছেন তিনিও আবার যেন তেন নন, যে যত বেশী শক্তি রাখেন সে ততদুর সফর করতে পারেন, আমরা আজে এখানে, মুসা (আ) তুর পাহাড়ে, আর ঈসা ও ইদ্রিস আসমানে, আর আমাদের নবীর যোগ্যতা বেশী তাই তিনি লা মকান পযন্ত পৌঁছে গেছেন।

 

মানুষের জন্য যাঅসম্ভব, আল্লাহর পক্ষে তা সম্ভব আল্লাহর কুদরতি ক্ষমতার সামনে অসম্ভব বলে কিছুই নেই সর্বজিনিসের ওপর আল্লাহ ক্ষমতাবান আর রাসূলের মেরাজ সম্পর্কিত আয়াতে তো স্বয়ং আল্লাহ বলে দিয়েছেন- সমস্ত দুর্বলতা থেকে পবিত্র যে আল্লাহ তিনিই নিজের বান্দাকে রাতারাতি নিয়ে গেছেন এখানে নবী মেরাজেগেছেনবলা হয়নি; বরং তাকে স্বয়ংআল্লাহ নিয়ে গেছেনবলে উল্লেখ করা হয়েছে

 

-আর মেরাজ হলো মুজিযা আর মুজিযার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই
বৈজ্ঞানিকরা যেসব নিয়মতত্বের আবিষ্কার করেন, মেরাজ সেসবের বিরোধী যেমন আগুন মানুষকে পোড়ায় কিন্তু ইব্রাহীম ()কে অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপের পরও তিনি পোড়া যাননি এসবই বিজ্ঞানীদের জ্ঞান বা সিদ্ধান্ত বিরোধী নবী-রাসূলগণের জাতীয় অসংখ্য মুজিযা আছে, যাবিজ্ঞানের সূত্রে ব্যাখ্যা করা যায় না 

 

-আকাশ ভ্রমন নতুন নয় কারন আদম হাওয়া আসা, ঈসার আকাশ ভ্রমণ

আসমান থেকে পৃথিবীতে কিংবা পৃথিবী থেকে আসমানে মানুষের আসা-যাওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয় আমাদের নবীর আগেও তাসংঘটিত হয়েছে হযরত আদম . তার স্ত্রী হাওয়া-তারা দুজনেই মানুষ সৃষ্টির পর থেকেই তারা সপ্তম আসমানে অবস্থিত জান্নাতে বসবাস করছিলেন এক পর্যায়ে আল্লাহ তাদেরকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিয়েছেন আদম হাওয়া .কে আল্লাহ্ জান্নাত থেকে দুনিয়ায় নেমে আসতে বলেছেন; আর তারা হাত ধরাধরি করে নেমে এসেছে- ব্যাপারটাতো এমন নয় সপ্তম আকাশ থেকে পৃথিবীতে নেমে আসা চাট্টিখানি কথা নয় এখানেও যে কুদরতী সিঁড়ির প্রয়োজন ছিলো, তাঅবান্তর নয় এছাড়া হযরত ঈসা .কে ইহুদিরা হত্যা করতে চেয়েও হত্যা করতে পারেনি আল্লাহ স্বীয় অসীম কুদরতে ঈসা নবীকে সশরীরে আসমানে তুলে নিয়েছেন

بَل رَّفَعَهُ اللّهُ إِلَيْهِ وَكَانَ اللّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا

বরং তাঁকে উঠিয়ে নিয়েছেন আল্লাহ তা'আলা নিজের কাছে। আর আল্লাহ হচ্ছেন মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।সুরা নিসা :১৫৮ ]

-নবীর কয়েক স্থানে নামাজ এয়াসিরব, বেথেলহেম, ও বায়তুল মকদস এতে বুঝা যায় বরকতময় স্থানে নামাজ পড়া দোয়া করা জায়েজ। সে জন্য আহেল সুন্নাত ওয়াল জামাতের লোকেরা বরকতময় স্থান জেয়ারত করে সেখানে দোয়া করে, তবে জেয়ারত করা আর পুঁজা করা এক নয়, যারা জেয়ারত গাহকে সিজদা করে সেটা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা নয়।

-হযরত মুসা (আ) কবরে জিন্দা

মুসলিম শরীফের হাদীসের বণনা অনুযায়ী মিরাজ যাত্রা মুসা (আ) এর কবরের পাশ দিয়ে হয়েছিল এবং হুজুর (দ) এরশাদ করেন (ওয়া হুয়া কায়েমুন ইউছাল্লি ফি কবরিহি) মুসা বলেন (আশহাদু আন্নাকা রাসুলুল্লাহ) আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আপনি আল্লাহর রাসুল।

 

-মৃতদের নামাজ নাই কিন্তু সকল নবীদের নিয়ে নামাজ

হুজুর (দ) যখন মেরাজ এর সফর করেন তখন সকল নবী ভিন্ন ভিন্ন দেশ থেকে মসজিদে আকসায় এসে জমা হয়ে যান, আর সকলেই জানেন মৃতদের জন্য কোন নামাজ নাই অথচ নবীজি সকল নবীদের নিয়ে নামাজ পড়েছেন, এখন যারা বলেন নবীগন মরে গেছেন তাদের কাছে প্রশ্ন সকলেই জানেন মৃত্যুর পর কোন নামাজ নাই এরপরও নবীজি সমস্ত আম্বিয়াগনকে নিয়ে নামাজ পড়েছেন এতে কি প্রমাণিত হয়না যে নবীগন জীবিত।

 

- সে নামাজে হযরত সুলায়মান (আ) ও ছিলেন (আসেফ বিন বরখিয়া)

আপনারা হযরত সুলায়মান (আ) কে জানেন তার একটি সিংহাসন ছিল যা হাওয়াতে উড়ত, আর তিনি একদিন তার মন্ত্রী আসেফ বিন বরখিয়াকে বলেন তুমি রানি বিলকিসের সিংহাসন কতক্ষনে আনতে পারবে সে বলল চোখের পলকে আনতে পারব, এখন যে নবী আমাদের নবীর পিছনে দাঁড়িয়ে মুক্তাদি হয়ে নামাজ পড়েছেন সে নবীর উম্মতের যদি এই হালত হয় মুহুর্তে শত শত মাইল দুর থেকে রানি বিলকিসের সিংহাসন নিয়ে আসতে পারেন তাহলে সকল আম্বিয়াদের সরদারের কি অবস্থা হতে পারে একবার চিন্তা করে দেখুন।

 

- নামাজ পাওয়ার আগে নামাজ পড়ানো

আমরা তখনই নামাজ পড়ি যখন আমরা মা বাবা বা ওস্তাদ থেকে নামাজ শিখি, আর মিরাজে যাওয়ার পর নামাজ পাবেন কিন্তু তার আগেই নবী (দ) অন্য নবীদেরকে নামাজ পড়ান, তাহলে বুঝা যায় উম্মত নামাজ পেয়ে শিখে তারপর পড়তে পারে, আর নবী নামাজ তখনও পড়াতে পারেন যখন নামাজের হকুম হয়ও নাই। তাহলে কিভাবে বলা যায় যে নবী আমাদের মত?

 

- সিদরাতুল মুনতাহা থেকে জিবরাইলের যাত্রা শেষ নবী আমাদের মত নয় এটা জিবরাইলের আকিদা

জু সিদরা মুনতাহা জিবলি আমিকা

ওহ সিদরা মুবতাদা পেয়ারে নবিকা

হুজুর (দ) ও জিবরাইল (আ) যখন সিজদারাতুল মুনতাহায় পৌঁছেন সেখানে গিয়ে জিবরাইল (আ) বলেন আমি আর এক চুলও অগ্রসর হলে আমি জ্বলে যাব, এখানেও অবাক করার বিষয় হল যে নুরানী জগতে হযরত জিবরাইলের মত নুরী ফেরেশতা যেতে পারেনা সেখানে হুজুর (দ) রওয়ানা দিলেন এখন বলেন সে নবী কি আমাদের মত মানুষ?

দেখুন নবীকে নিজের মত মনে না করা এটা দুনিয়ার কারো দেয়া আকিদা নয় বরং ফেরেশতা কুল সরদার হযর জিবরাইল (আ) এর দেয়া আকিদা।

 

আর যে আকিদা জিবরিলের সে আকিদা অবশ্যই সকল ফেরেশতারও কারন ফেরেশতাদের মধ্যে কোন ফেরকাবন্দী নাই। তাই যে আকিদা জিবরিলের সে আকিদা আজরাইলেও হবে,

জিবরিলের আকিদা হল নবী বেনজির, নবী বেমেছাল, নবী অতুলনীয়, তাই নবী সিদরা ক্রস করে যেতে পারলেও জিবরীল যেহেতু নবীর মত নয় সে তা ক্রস করতে পারবেনা। তাই সুন্নীরা যারা নবীকে অতুলনীয় মনে করেন বেনজির মনে করেন বেমেছাল মনে করেন তাদের জন্য ভয় নাই।

 

- ৫০ থেকে ৫ ওয়াক্ত বার বার কেন কম করালো নবী এলমে গায়েব জানেন না?

নবীজি যখন ৫০ ওয়াক্ত নামাজ পেলেন হযরত মুসা (আ) কম করানোর জন্য পাঠালেন এভাবে ৯ বার যাওয়ার পর ৪৫ ওয়াক্ত কম করালেন, আর যতবার পাঠানো হয় নবীজির চোখের মধ্যে আল্লাহর নুরের ঝলক আসে সে ঝলক হযরত মুসা (আ) দেখে শান্তি পান, তাই তিনি বার বার নবীজিকে পাঠিয়েছেন আর আল্লাহ তায়ালা সেটা ভালো করেই জানেন। এখন একদল প্রশ্ন করেন নবী যদি এলমে গায়েব জানতেন তাহলে এভাবে বার বার কেন গেলেন? একবারে কেন কমালেন না? এখন এই প্রশ্ন যদি নবীর শানে করা হয় তাহলে আল্লাহর শানেও একই প্রশ্ন উঠে নাউজুবিল্লাহ, কারন আল্লাহও জানেন নামাজে শেষ পযন্ত কত হবে? তবুও অল্প অল্প কেন কমালেন? কারন আল্লাহও পছন্দ করছেন বার বার নবী আসুক আর নবীও পছন্দ করছেন বারবার দীদার লাভ করা যাক।

মুলত আল্লাহ এটাও জানেন নবী হযরত মুসা (আ) পাঠাচ্ছেন, আর এই মুসা আগে তুরের ওসিলায় আল্লাহর তজল্লী দেখেছেন আর এখন নুরের ওসিলায় দেখতে চান। এটাই হল মুল হেকমত।

আর আল্লাহ ধীরে ধীরে কমানোর হেকমত হল আমার কলিম আমার হাবিবের মাধ্যমে আমার জলওয়া দেখে নিক।

 

- ১ বার আল্লাহ নিয়েছেন ৯ বার নিজে গেছেন

এই নামাজ কম করানোর ব্যপারে মুফাসসিরিনে কেরাম বলেন ১ম বার আল্লাহ নিয়ে গেছেণ, বোরাক রফরফ জিবরিল এসবের সাহায্যে, কিন্তু যখন হযরত মুসা (আ) এর সাথে আসমানে সাক্ষাৎ করে বার বার ৯ বার যাচ্ছিল তখন কিন্তু বোরাক রফরফ জিবরিলের সহযোগীতা ছাড়া নবী স্বয়ং নিজেই গেছেন, এতে এটাই বুঝা যায় নবী আল্লাহ কাছে যেতে এসব বোরাক রফরফ এর মুহতাজ নন, বরং নবীকে ১ বার আল্লাহ নিয়ে গেছেন আর ৯ বার নিজে নিজে চলে গেলেন। সুবহানাল্লাহ।

 

-হযরত আবু বকর (রা) এর আকিদা

নবী যখন মিরাজ থেকে ফিরে আসলেন তখন মক্কার কাফের সহ সকলেই তা নবীর মুখে শুনতে পেলে হযরত আবু বকর (রা) কে আবু জেহেল বলল হে আবু বকর তোমার নবী এমন এমন বলছে সে নাকি মক্কা থেকে বায়তুল মকদস গিয়েছে, তখন হযরত আবু বকর বলেন যদি আমার নবী বলে থাকেন তাহলে অবশ্যই গিয়েছেন এতে সন্দেহের কোন অবকাশ নাই।

 

আবু বকর (রা) বিনা দলিলে নবীর শান ও মান মেনে নিয়েছেন। আর যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা নবীর শান ও মান হাজারো দলিল দিলেও আবু জেহেলের মত মানতে নারাজ ।

 

-কায়সারে রোম এর প্রশ্ন হযরত দাহিয়া বিন খলিফার কাছে

তফসীরে ইবনে কসিরের ৩য় খন্ডের ২৭ নং পৃষ্ঠায় এ হাদীস উল্লেখ আছে

মহানবী (দ) যখন কায়সারে রোম এর কাছে দাওয়াত দিয়ে হযরত দাহিয়া বিন খলিফাকে পাঠান, দাওয়াত পাওয়ার পর তিনি মক্কার কিছু ব্যবসায়ীকে ডেকে পাঠান আর তার মধ্যে আবু সুফিয়ান ও তার দল ছিল, কায়সার যখন নবীর ব্যপারে প্রশ্ন করল আবু সুফিয়ান নবীকে মিথ্যাবাদী প্রমাণ করার জন্য বলেন তিনি দাবী করেন রাতের কিছু সময়ে তিনি মক্কা থেকে বায়তুল মকদস আসেন এ কথা যখন বলেন তখন সে দরবারে বায়তুল মকদসের প্রধান খাদেম উপস্থিত ছিলেন তিনি বলেন হ্যাঁ সে রাতের ব্যপারে আমি জানি, কায়সার তার দিকে ফিরে প্রশ্ন করেন কি জান? সে বণনা দিল আমার অভ্যাস মত আমি রাতে বায়তুল মকদস এর সব দরজা বন্ধ করি কিন্তু সেদিন আমি কোন ভাবেই ১টি দরজা বন্ধ করতে পারিনি, সকালে এসে দেখি সে দরজার পাশে বড় পাথরে কোন বাহন বাঁধার চিহ্ন এতে বুঝা গেল সে রাতে নবী এই মসজিদে এসেছেন।

 

- চমৎকার অজানা তথ্য

#আল্লাহর নবীর জীবনে ৩৪ বার মেরাজ হয়েছে ৩৩ বার হয়েছে স্বপ্নযোগে আর ১ বার হয়েছে স্বশরীরে।

 

#মেরাজ কেন হল?

নবীর প্রিয় চাচা আবু তালেবও মারা গেল স্ত্রী খদিজাও মারা গেল, নবী গেলেন তায়েফ, তায়েফ বাসী নবীকে সাপোট করল না, নবী সেখান থেকে মক্কায় ফিরে আসার সময় ৪০ জন জিন কালমা পড়ে মুসলমান হল, নবীর মনটা খুবই ভারাক্রান্ত তাই আল্লাহ নবীকে মেরাজ নিলেন সান্তনা দিতে।

 

#নবী সে রাতে শুয়ে ছিলেন চাচাত বোন উম্মে হানির ঘরে, নবী যে বিছানায় শুয়ে ছিলেন সে বিছানায় আরো ২ জন ছিল ১ জন হল হযরত আলীর বড় ভাই হযরত জাফর এবং অন্যজন হযরত আব্বাস (রা) তাদের মাঝখানে আমার নবীজি শুয়ে ছিলেন।

 

#জিবরিল আমিন যার ৬০০ শত পাখা, যিনি নবীর কাছে এসেছিলেন ২৪ হাজার বার, তিনি উম্মে হানির ঘরের ছাদ ফাক করে নবীর কাছে আসলেন নবীকে নিয়ে গেলেন মাকামে ইবরাহিম ও  জমজমের মাঝখানে

 

#নবীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হল এবং ওপেন হাট সার্জারী করা হল, আর নবীর হার্ট বের করা হল আর জমজমের পানি দ্বারা তা ধৌত করা হল।

৪ বার শক্কে ছদর হয় ৪,১২,৪০ ও ৫১ তম বছরে নবীর শক্কে ছদর হয়।

 

#বোরাকে করে যাত্রা বরকুন অথ বিদ্যুৎ আর বিদ্যুৎ এর গতি প্রতি সেকেন্ডে ১ লক্ষ ছিয়াশি হাজার মাইল আর বোরাকের গতি ছিল বিদ্যুতের গতি ছিল কোটি কোটি গুন গতি সম্পন্ন।

 

#পথে এক বৃদ্ধ মহিলার সাথে ও এক বৃদ্ধ পুরুষের সাথে দেখা হল জিবরাইল বলেন বৃদ্ধ মহিলা হল দুনিয়া আর এই মহিলার মত দুনিয়াও বুড়া হয়ে গেছে, আর বৃদ্ধ পুরুষটি হল শয়তান আপনি যদি তার ডাক সাড়া দিতেন তাহলে আপনার জাতি গোমরাহ হয়ে যেত।

 

# বায়তুল মুকাদ্দাসে নবী দুধ ও মদ থেকে দুধ নিলেন - যদি মদ নিত তাহলে সকল উম্মত গোমরাহ হয়ে যেত  

# এরপর উর্দ্ধাকাশে যাত্রা শুরু হল

১ম আসমানে হযরত আদম

২য় আসমানে হযরত ঈসা ও এয়াহিয়া

৩য় আসমানে হযরত ইউসুফ

৪থ আসমানে হযরত ইদ্রিস

৫ম আসমানে হযরত হারুন

৬ষ্ঠ আসমানে মুসা

৭ম হযরত ইবরাহিম

 

 

কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.