খাজা গরীবে নেওয়াজ (রহ) এর জীবনী ও কারামত
গরীব নেওয়াজের আযব সব ঘটনা
হযরত মঈনুদ্দীন
চিশতিকে গরীবে নেওয়াজ কেন বলা হয়?
মুঈনুদ্দীন
চিশতির শায়খ হলেন ওসমান হারুনী আর ওসমান হারুনীর শায়খ হলেন খাজা শরীফ, হযরত খাজা শরীফ
একদিন তার মুরিদ ওসমান হারুনীকে ডেকে বলল আগামী শুক্রবার বাদ আসর আমার খানকায় একটি
দৃশ্যের অবতারনা হবে যারা এই দৃশ্য দেখবে তারা খোশনসিব হবে, তবে একথা তুমি প্রচার
করবেনা যদি তুমি প্রচার কর তাহলে তুমি বদ নসিব হবে, তখন হযরত ওসমান আরজ করলেন হুজুর
আমি কাউকে বলবনা তবে আমার মুরিদ মুঈনুদ্দীনকে বলার অনুমতি দেন, অনুমতি দেয়া হল এবং
বলা হল তবে তাকে বলে দিবে সে যেন আর কাউকে না বলে যদি বলে তাহলে সে বদনসিব হয়ে যাবে
আর যারা দেখবে তারা খোশনসিব হয়ে যাবে। হযরত ওসমান হারুনী যখন মুঈনুদ্দীনকে সব কথা বলল
মুঈনুদ্দীন সকলকে এই কথা প্রচার করতে লাগল, ফলে শুক্রবার আসরের আগে খাজা শরীফের খানকার
আশে পাশে হাজার হাজার লোক জমা হতে লাগল, এই অবস্তা দেখে খাজা শরীফ হযরত ওসমান হারুনীকে
ডাকলেন আর বললেন এত মানুষকে কে খবর দিয়েছে? হযরত ওসমান বললেন মনে হয় মুঈনুদ্দীন। তাকে
ডাকা হল, প্রশ্ন করা হল তুমি কেন এত লোককে এসব কথা বলেছ? এখন তুমি হবে বদবখত আর এরা
হবে খোশনসিব। তখন হযরত মুঈনুদ্দীন উত্তর দিলেন হুজুর আমি যখন শুনেছি খানকার অবতারিত
দৃশ্যটি যে দেখবে সেই খোশনসিব হবে আর আমি চিন্তা করলাম আমি বলে দিলে আমি বদনসিব হয়ে
গেলাম আর এই উছিলায় যদি আমার দয়াল নবীর হাজার হাজার উম্মত খোশনসিব হয়ে যেতে পারে তাতে
ক্ষতি কি? তাই আমি বদনসিব হওয়াকে কবুল করে নবীর উম্মতগনের সার্থে বলে দিয়েছি। একথা
শুনে খাজা শরীফ অত্যন্ত বিষ্মিত হলেন এবং বললেন হে মুঈনুদ্দীন তুমি দয়াল নবীর গরীব
উম্মতগনের সার্থে যে কাজটি করেছ তাতে আল্লাহও খুশি নবীও খুশী আর আমিও খুমি তুমি কখনো
বদ নসিব হতে পারনা বরং তুমিও খোশ নসিব যারা এসেছে তারা খোশ নসিব আর আজ থেকে তুমি হলে
গরীবে নেওয়াজ। (সুবহানাল্লাহ)
এটাই
ইসলামের শিক্ষা নিজের লাভ ক্ষতি চিন্তা না করে অন্যের উপকার করা।
ঘটনা-২: (কৃষকের
জন্য দিল্লি সামসুদ্দিন আলতামাস বাদশার দরবারে গমন)
এক
কৃষক গরীবে নেওয়াজের দরবারে আসল, সে এসে আরজ করে হুজুর আপনার মুরিদ কুতুবুদ্দিন আর
তার মুরিদ সামসুদ্দিন আলতামাস বাদশা, আমি একজন গরীব কৃষন কিন্তু বাদশা সামসুদ্দিন আলতামাস
আমার উপর বেশী কর আরোপ করে দিয়েছেন। এখন
সে কর পরিশোধ করা আমার সাধ্যের বাইরে। এখন আপনি যদি একটু সুপারিশ করেন তাহলে বাদশা
আমার সে টেক্স কম করবে বা মাফ করে দিবেন। গরীবে নেওযাজ এ কথা শুনে আজমির থেকে দিল্লি
সে কৃষককে সাথে নিয়ে দিল্লির দিকে রওয়ানা দিলেন। হযরত মঈন উদ্দীন চিশতি আজমির থেকে
দিল্লি শুধু এই কারনে রওয়ানা দিয়েছেন শুধুমাত্র একজন গরীব কৃষকের খাতিরে। তিনি যখন
দিল্লি পৌঁছলেন হযরত কুতুবুদ্দীন বখতেয়ার কাকি বাদশা সামসুদ্দিন সহ সকলেই গরীবে নেওযাজ
কে স্বাগতম জানালেন। বাদশার পীর কুতুবুদ্দীন হযরত গরীবে নেওযাজ এর মুরিদ, তাই কুতুবুদ্দীন
হুজুর গরীবে নেওযাজকে প্রশ্ন করলেন হুজুর আপনি কোন খবর না দিয়ে হঠাৎ দিল্লি কেন আসলেন?
গরীবে নেওয়াজ বললেন এই গরীব কৃষকের উপর তোমার মুরিদ বাদশা সামসুদ্দিন এ বছর টেক্স বেশী
ধার্য্য করেছে, সে গরীব কৃষক আমার কাছে এসেছে আমি যেন তার পক্ষ হয়ে বাদশার কাছে সুপারিশ
করে দেই যাতে তার টেক্স কম করে দেয়া হয়, তখন কুতুবুদ্দীন বললেন হুজুর আপনি একটা চিঠি
লিখে দিলেইতো কাজ হয়ে যেত, আপনি কেন এত কষ্ট করে এখানে এলেন? তখন গরীবে নেওয়াজ জবাব
দিলেন চিঠি লিখে দিলে কাজ হয়ে যেত কিন্তু এই গরীব কৃষকের সাথে আমি আসাতে তার অন্তরে
যে খুশী পৌঁছেছে তাতো হতনা, যখন মানুষ কোন মানুষকে খুশী করে তখন আল্লাহও খুশি হয়ে যান।
গরীবে নেওয়াজ বলেন যদি আল্লাহ ওয়ালা হতে চাও প্রথমে আল্লাহর বান্দাদের খেদমত কর।তাহলে
তুমি আল্লাহ ওয়ালা হতে পারবে। প্রিয় ভাই ও বোনেরা এটাই হল দ্বীন, এখন আমরা মনে করি
শুধু তসবীহ পাঠ করাই দ্বীন। আমি তসবীহকে অস্বীকার করছিনা, অবশ্যই তসবীহ পড়া উচিত। আল্লাহ
তায়ালা তৌফিক দিলে সকলেরই তসবীহ পড়া উচিত।
হযরত
ফরিদ উদ্দীন গনজে শকর (রহ) বলেন বেশী বেশী তেলাওয়াত করা, নফল নামাজ পড়া, নফল রোজা রাখা
এসব তো একজন বৃদ্ধ নারীও করতে পারে, কিন্তু আসল এবাদত হল মানুষের বিপদে আপদে সঙ্গ দেয়া।
আর হুজুর গরীবে নেওয়াজ এই আমল দ্বারাই মানুষের মন জিতেছেন।
ঘটনা-৩ রাজপাল-আবদুল্লাহ
বিয়াবানি-রিজালুল গায়েব- খাজা হুসাম উদ্দীন শরফুদ্দিন চিশতি ২য় সন্তান, শাহজালালের
সাথী, হাইকোট মাজারে শুয়ে আছেন
হযরত
মুসা (আ) এর বিরুদ্ধে ফেরাউন যেমন যাদুগরদের দিয়ে ষড়যন্ত্র করেছেন, তেমনি হযরত মুঈনুদ্দীন
চিশতি (রহ) এর বিরুদ্ধে রাজা পিত্তিরাজ যাদুগরদের লেলিয়ে দেন, আর তৎকালিন বড় যাদুগর
ছিল রাজপাল, সে একদিন নিজের যাদুর শক্তি দেখাতে গিয়ে হুজুর গরীবে নেওয়াজের সামনে বাতাসে
উড়া আরম্ভ করল, গরীবে নেওয়াজ নিজের খরমকে নির্দেশ দেয়ার সাথে সাথে সে খরম উড়তে উড়তে
রাজপালকে পিটানো আরম্ভ করল আর পিটানি খেয়ে সে হুজুরের পায়ে এসে পড়ল আর তওবা করে নিল,
আর বলল হুজুর যেখানে আমার যাদুর শেষ সেখানে আপনার খোদা প্রদত্ত শক্তির শুরু, আজ আমি
তওবা করছি আমাকে কলমা পড়িয়ে মুসলমান বানিয়ে দিন, আর আমার জন্য দোয়া করুন আমি যেন দীর্ঘ
হায়াত পাই এবং রেজালুল গায়েব বা অদৃশ্য থাকতে পারে যাতে মানুষ আমাকে না দেখে, আর আমি
অদৃশ্য থেকেই আপনার ভক্তদেরকে খেদমত করতে পারি। খাজা গরীবে নেওয়াজ দোয়া করলেন আর তাই
হল।
খাজা
গরীবে নেওয়াজের ২য় পুত্র হলেন খাজা হুসাম উদ্দীন শরফুদ্দীন চিশতি, তিনিও রেজালুল গায়েব
হয়ে যান কতিথ আছে তিনি এক সময় হযরত শাহজালাল ইয়েমেনীর সাথে বাংলাদেশে চলে আসেন এবং
হাইকোট মাজারে তিনি আজো শুয়ে আছেন।
ঘটনা-৪ : রাজপুত
বিষাক্ত খন্জর নিয়ে গেল মারতে হয়ে গেল মুসলমান
রাজা
পৃত্তিরাজ এক রাজপুতকে বলল তুমি যদি গরীবে নেওয়াজকে কতল করতে পার তাহলে তোমাকে আমার
অর্ধেক রাজত্বি দিয়ে দিব। সে রাজি হয়ে গেল, কথামত সে এক খন্জর বিষের মধ্যে চুবিয়ে রাখল।
যাতে খন্জর দিয়ে বেশী ঘায়েল না হলেও বিষ ক্রিয়ায় মারা যায়। সে প্রস্তুতি নিল আর একটি
ঢিলে ঢালা কাপড় পরিধান করে কোমরে সে বিষাক্ত খন্জর নিয়ে গরীবে নেওয়াজের দরবারে রওয়ানা
দিল, রওয়ানা দিবার আগে সে পৃত্তিরাজের সাথে পুনরায় দেখা করল আর বলল মহারাজ আপনি বলেছেন
গরীবে নেওয়াজকে কতল করলে অর্ধেক রাজত্তি দিয়ে দিবেন, কথা কি ঠিক আছে? পৃত্তিরাজ সায়
দিল হ্যাঁ কথা ঠিক আছে। কথা মত সে রাজপুত গরীবে নেওয়াজের দরবারে পৌঁছে তার মজলিশে গিয়ে
বসে গেল, হাজার হাজার লোক গরীবে নেওযাজের মজলিশে তকরীর শুনছে, তকরীর শেষ হলে সকলেই
চলে যেতে লাগল, অনেকে গরীবে নেওয়াজের সাথে মুসাফাহা করছিল, কিন্তু সে লোকটি দুরে দাঁড়িয়ে
রইল আর সুযোগের অপেক্ষায় ছিল, তখন খাজা গরীবে নেওয়াজ তাকে ডাক দিল আর বলল হে রাজপুত
সকলেই নিজ নিজ কাজ করে চলে যাচ্ছে আস তুমি তোমার কাজ করে নাও, সে হতচকিয়ে উঠে বরল হুজুর
আমিতো আপনার তকরীর শুনার জন্য এসেছি, তখন গরীবে নেওয়াজ বললেন কেহ কি তকরীর শুনার জন্য
বিষি মিশ্রিত খন্জর নিয়ে দরবারে আসে? সে বলল না হুজুর আমি সেটা আমার আত্মরক্ষার জন্য
রেখেছি, তখন গরীবে নেওয়াজ বললেন তাহলে পৃত্তিরাজের সাথে অর্ধেক রাজত্তির বিনিময়ে আমাকে
হত্যা করার জন্য কে শপথ নিয়েছে? সে কি তুমি নও? এ কথা যখন শুনল তখন সে রাজপুত কাপঁতে
লাগল আর গরীবে নেওয়াজের পায়ে পরে গেল, আর বলল হুজুর আমার ভুল হয়ে গেছে আমি আপনাকে চিনতে
পারিনি। আপনি বরং আমার খন্জর দিয়েই আমাকে কতল করে দিন তবেই আমার শাস্তি হবে। গরীবে
নেওয়াজ জবাব দিলেন আমি এখানে মানুষকে হত্যা করতে আসিনি, আমি এসেছি শান্তির বাণি পৌঁছাতে,
যদি আমি মারা মারি করতাম তাহলে ৯০ লাখ মানুষ এই ধর্মের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করতনা।
ঘটনা-৫: পৃত্তিরাজের
জামাতার ষড়যন্ত্র
পৃত্তিরাজও গরীবে
নেওয়াজকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে ব্যথ হয়েছেন, পৃথ্তিরাজের জামাতা এলাকার বাদশা সেও
গরীবে নেওয়াজকে হত্যা করতে গরীবে নেওয়াজকে দাওযাত দিল, কিন্তু গরীবে নেওয়াজ বলল আমি
দাওয়াত কবুল করলাম তবে আমি বাদশার দরবারে যায়না যদি খাবার আমার আস্তানায় পাঠিয়ে দেয়া
হয় তাহলে খুবই ভালো হবে, কথা মোতাবেক বাদশা গরীবে নেওয়াজের জন্য অনেক ধরনের মজাদার
খাবার পাঠালেন কিন্তু তাতে বিষ মিশিয়ে দিলেন, গরীবে নেওয়াজ খাবার দেখে মুচকি হাসলেন
আর বললেন খাবার আমার জন্য আর বিষ বাদশার জন্য এ কথা বলার সাথে সাথে খাবার থেকে সব বিষ
বের হয়ে একটি পেয়ালায় জমা হয়ে গেল, গরীবে নেওয়াজ তা বাদশার খাদেমকে দিয়ে দিল, এদিকে
বাদশা যে গরীবে নেওযাজের জন্য খাবারে বিষ মিশিয়েছেন তা সকলেই জেনে গেল ফলে সে প্রজাদের
কাছে হেয় প্রতিপন্ন হল এবং তার মাও তাঁকে এমন কাজের জন্য ধিক্কার দিল, ঐদিকে গরীবে
নেওয়াজ একটি কথা বলেছিলেন খাবার আমার জন্য বিষ বাদশার জন্য, তার সে কথা সত্য হয়ে গেল,
বাদশা প্রজাদের কাছে হেয় হওযার যন্ত্রনায় এবং মায়ের ধিক্কার খেয়ে এক পর্যায়ে সে বিষ
গুলি খেয়ে মারা গেল।
(আলা ইন্না আউলিয়া আল্লাহে লা খাউফুন আলাইহিন
ওয়ালাহুম এয়াখজানুন)
ঘটনা-৬: হিন্দু
যুবক ও গরীবে নেওয়াবের মুহব্বতের কান্না
এক
হিন্দু যুবক তার আসা যাওয়ার পথে খাজা গরীবে নেওয়াজ এর কান্নার আওয়াজ শুনতে পেত, সে
একদিন তার মাকে প্রশ্ন করে মা মুসলমানদের যে বুজুগ আছেন তিনি কাঁদেন কেন? মা উত্তর
দিল তুমি একদিন তার কাছে গিয়ে জিজ্ষেক করে নাও, মায়ের অনুমতি পেয়ে যুবক গরীবে নেওয়াজের
কাছে আসে আর প্রশ্ন করে হুজুর আপনি কাঁদেন কেন? তখন গরীবে নেওয়াজ বলে আমি আমার পীর
ও মুর্শিদের মহব্বতে কাঁদি। তখন যুবক বলে দুঃখে কাঁদে জানি মহব্বতেও কি মানুষ কাঁদে?
গরীব নেওয়াজ বলল হ্যাঁ, তখন যুবক বলে তাহলে আমিও মুহব্বতে কাঁদতে চাই আপনি কি আমাকে
মহব্বতে কিভাবে কাঁদে শিখিয়ে দিবেন? তখন গরীবে নেওয়াজ বললেন অবশ্যই তুমি শিখতে পারবে
তবে তোমাকে আগে মুসলমান হতে হবে এবং আমার মুরিদ হয়ে আমার সাথে থাকতে হবে, সে যুবক বলল
আমি আমার মায়ের এজাজত নিয়ে তারপর ইসলাম কবুল করে আপনার মুরিদ হব, সে মাকে সব কথা বলল
মা জবাব দিলেন বেটা আমি জানি তুমি খুবই জিদ্দী, যা মাথায় ঢুকে তা করেই ছার, যদি তোমার
ইচ্ছা হয় তাহলে যাও মুসলমান হয়ে যাও, সে চলে গেল আর গরীবে নেওযাজের হাতে ইসলাম কবুল
করে মুরিদ হয়ে গেল আর গরীবে নেওয়াজের সাথে থাকতে লাগল, গরীবে নেওয়াজের সাথে খাওয়া দাওয়া
নামাজ রোজা সেহরী ইফতার সব একসাথে, এভাবে বেশ কিছু দিন যাওয়ার পর সে যুবক সুলতানুল
হিন্দ গরীবে নেওয়াজের ভক্ত হয়ে গেল, এবার গরীবে নেওয়াজ যুবককে বলল বেটা তোমার ৩ দিনের
ছুটি এই ৩ দিন তুমি আমার সাথে দেখা করবেনা, যুবক ছুটি পেয়ে মায়ের কাছে চরে যায়, কিন্তু
সে ঘরে গিয়ে কিছু খায় না, কথা বলেনা, মাকে বলে মা আমি এতদিন হুজুরের সাথে ছিলাম খুব
ভাল ছিলাম কিন্তু এখন হুজুরকে ছেড়ে আসার পর আমার বুকের ভিতর শুধু ফাঁকা ফাঁকা মনে
হচ্ছে, কিছু খেতে ইচ্ছে করছেনা, মা চিন্তিত হয়ে গেল, রাত যখন হল সে ঘুমাতে পারেনা শুধুই
এপাশ ওপাশ করতে লাগল, আর নামাজ পড়তে লাগল, কিন্তু তবুও কিছুতেই সে শান্তি পাচ্ছেনা,
সারা রাত নির্ঘুম কাটিয়ে দিল, সকালে উঠে সে কাঁদতে লাগল মা জিজ্ঞেস করে কাঁদছিস কেন?
সে বলে মা তুমিকি আমার হুজুরের কাছে গিয়ে একটু আমার জন্য অনুমতি আনতে পারবে? আমি হুজুরকে
ছাড়া থাকতে পারবনা, হুজুর যেন আমাকে অনুমতি দেন আমি তার কাছে যাব, না হয় আমি এভাবেই
মরে যাব, মা ছেলে এই অবস্থা দেখে তাড়াতাড়ি হুজুর গরীবে নেওয়াজের দরবারে গেলেন আর সব
খুলে বললেন গরীবে নেওয়াজ বললেন ঠিক আছে তুমি তাকে পাঠিয়ে দাও, সে দৌঁড়ে দৌঁড়তে আসে
আর হুজুর গরীবে নেওয়াজের কদমে পরে আর কাঁদতে থাকে, ভরা মজলিস, সকলেই যুবকের দিকে তাকিয়ে
আছে, হুজুর গরীবে নেওয়াজ প্রশ্ন করে তুমি কি ১ দিন কিছু খেয়েছ? সে বলে না কিছুই খেতে
পারিনি, তারপর প্রশ।ন করে তুমি কি গত রাতে
ঘুমিয়েছ? সে জবাব দেয় হুজুর একফোটাও ঘুমাতে পারিনি, শুধুই কেঁদেছি এবং আমি বুঝতে পেরেছি
কেন আপনি আপনার শায়খের জন্য কাঁদেন, তখন যুবকের কথা শুনে হুজুর গরীবে নেওয়াজ কাঁদতে
লাগল যুবকও কাঁদতে লাগল আর মজলিশে আগত সকলেই কাঁদতে লাগল। গোটা মজলিশে এক অদ্ভুৎ পরিস্থিতির
উদ্ভব হল। এভাবেই হুজুর গরীবে নেওয়াজ মহব্বতের
দ্বারা মানুষের মন জয় করেছেন মানুষের কাছে ইসলাম প্রচার করেছেন।
ঘটনা-৭: আগুন গরীবে
নেওয়াজের জুতা জ্বালায়নি
হুজুর
গরীবে নেওয়াজের সাথে এক অগ্নিপুঁজারীর সাক্ষাৎ হয় তিনি তাকে প্রশ্ন করেন তুমি আগুনের
পুঁজা কেন কর? সে জবাব দিল এজন্য আগুনের পুঁজা করি যাতে এই আগুন আমাকে না জ্বালায়,
আপনি যদি আগুনের পুঁজা না করেন তাহলে এই আগুন আপনাকেও জ্বালিয়ে ফেলবে। তখন গরীবে নেওয়াজ
বললেন আগুন আমাকে জ্বালাবে? এই আগুন আমাকে নয় আমার পায়ের জুতাকেও জ্বালাবেনা বলে নিজের
পায়ের জুতাটি আগুনে ফেলে দিনে দেখা গেল আগুন ঠান্ডা হলে গেল এবং জুতাকে জ্বালাতে পারলনা।
সুবহানাল্লাহ।
এভাবে
যারা আল্লাহ ওয়ালা আল্লাহ তাদের জন্য সবকিছুকে অনুগত করে দেন। (ইন্নাল্লাহা আলা কুল্লি
শায়্যিন কাদির) নিশ্চয়ই আল্লাহ সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

কোন মন্তব্য নেই