আগামী মে মাসে ইমাম মাহদী আসবে? ২০২২ সালে দাজ্জাল ২০২৩ সালে ঈসা (আ) এর আগ...
২০২১
এর মে মাসে ইমাম মাহদী এবং ২০২৩ সালে হযরত ঈসা (আ) এর আগমণ হবে?
আগামী
২ মাস পর ২০২১ এর মে মাসে ইমাম মাহদী এর আগমন ঘটবে এবং ২০২৩ সালে গিয়ে হযরত ইসা (আ)
এর নুজুল হবে এই বিষয়ে স্কলারগন হাদীস শরীফের আলোকে বিস্তারিত লিখে ও বলে যাচ্ছেন,
সে বিষয়টি আজ আমি আপনাদের সামনে পরিস্কার করে দিব ইনশা আল্লাহ, সকলের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত
গুরুত্বপূণ তাই সম্পূণ আলোচনা না শুনা পযন্ত ক্ষান্ত হবেন না।
সম্মানিত
সুধী!
এতে
কোন সন্দেহ নাই যে ইসলামিক এসকোথলজি আশরাতুছ সাআ এর এই জ্ঞান যা অত্যন্ত পেঁচানো জ্ঞান।
আর এই জ্ঞানকে হাসিল করার জন্য একে বুঝার জন্য, আমাদের সময় ব্যয় করতে হবে, কোয়ালিটি
টাইম দিতে হবে, পাকিস্তানের একজন প্রসিদ্ধ স্পিকার যাকে এই বিষয়ের মুহাক্কিক মানা হয়,
তিনি তাঁর এক লেকচারের শেষে বলেন ২০২১ এর মে মাসে ইমাম মাহদী (আ) আত্মপ্রকাশ করতে পারেন।
আর ২০২৩ হযরত ইসা (আ) এর নাজিল হওয়ার বছর হতে পারে।
সে
মুহাক্কিক সাহেব এর একজন ভক্ত যিনি অনেক বড় একজন ব্যবসায়ী এবং ব্যবসার কাজে তিনি বিভিন্ন
দেশে সফর করেন, যখনই তিনি তাঁর সে বক্তব্য শুনলেন তখন থেকেই তিনি তার সকল সফর বাতিল
করা আরম্ভ করলেন এবং এ বিষয়টির ব্যপারে তিনি পাকিস্তানের আরো একজন স্কলার আল্লামা সাকিব
সামি কে প্রশ্নকরেন তখন তিনি সে বিষয়টি নিয়ে তাঁকে জবাবে বলেন
অবশ্যই
সে মুহাক্কিক আলেম একজন অনেক বড় জ্ঞানি, তিনি আমাদের অনেক সিনিয়র আমি তাঁকে অনেক সম্মান
করি, কিন্তু তাঁর কথাটি তার নিজস্ব মতামত তবে হাদীস শরীফের আলোকে তার সে মতটিতে ভুল
রয়েছে। তাছাড়া তিনি দাবীটি জোড়ালো ভাবে করেননি বরং তিনি শুধু সম্ভাবনার কথা বলেছেন।
কিন্তু কেহ যখন কোন একটা দাবী করেন আর সে দাবীটির কারনে যদি কোন হাদীসের অস্বীকার আবশ্যক
হয়ে যায় আর সে দাবী যদি মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার হয়ে যায় এবং সোস্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল
হয়ে যায়, তখন তার ব্যাখ্যা বিশ্লেষন খুবই জরুরী হয়ে যায়।
আপনারা
অনুধাবন করতে পারেন এই বিষয়টি কতটুকু স্পর্ষকাতর, যখন আমরা এই এলম এর ব্যপারে হাদীস
শরীফের আলোকে বয়ান করব তখন মানুষ আমার নিজস্ব মত হিসেবে গন্য করবেনা, এখন হাদীসের আলোকে
যদি আর ২ মাস পর ইমাম মাহদী (রা) এর আত্মপ্রকাশ ঘটে আর ২০২৩ সালে হযরত ইসা (আ) এর আগমন
ঘটে তাহলে এখন আমরা কোন দ্বীনি ও দুনিয়াবি কাজ করার ব্যপারে কিভাবে চিন্তা করব? এখনতো
দাজ্জাল আসার কথা, এখনতো আমাদেরকে দাজ্জালের সাথে লড়াই করার সময় এসেছে। এখন আমাদের
ইমাম মাহদী (রা) এর বাহিনিতে যোগ দেয়া সময় এসেছে।
যদি
এ বছর মে মাসে ইমাম মাহদী (আ) এর আগমন ঘটবে বলে হাদীসের আলোকে প্রচার করা হয় তাহলে
মানুষ তাদের সকল কাজ কম বাতিল করে দিবে। যাতে ইমাম মাহদীর বাহিনির সিপাহি হতে পারে।
কিন্তু
যিনি এই দাবী করেছেন তার দাবী মোতাবেক 2021 সালের মে মাসে ইমাম মাহদীর আগমনকে অনেক
কষ্টের সাথে মেনে নিলেও হাদীস শরীফের আলোকে এটাও মানতে হবে যে বতমানে আমরা ফিতনায়ে
উমিয়ার ১২ বা ১৮ বছর অতিবাহিত করছি। এক হাদীসে ফিতনিয়ায়ে উমিয়ার ব্যপারে ১৮ বছর বয়ান
করা হয়েছে আর অন্য হাদীসে ১২ বছর বয়ান করা হয়েছে। অর্থ্যাৎ তার মতে ফিতনায়ে সাররা,
ফিতনায়ে আহলাছ ও ফিতনায়ে দোহায়মা অতিহাবিত হয়ে গেছে। আর এখন আমরা সে সময় অতিবাহিত করছি যাকে হাদীসে ফিতনায়ে
উমিয়া বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কেননা ফিতনায়ে উমিয়ার শেষ মুহুতে ইমাম মাহদী (রা) এর
আগমনের প্রথম স্পষ্ট আলামত প্রকাশিত হবে। যাকে অসংখ্য সহিহ হাদীস শরীফে বয়ান করা হয়েছে।
সহিহ
মুসলিমের হাদীস সৈয়্যদুনা হযরত আবু হুরায়রা (রা) ফরমান নবী করিম (দ) এরশাদ করেন (লা
তাকুমুস সাআ হাত্তা এয়াহসিরাল ফুরাতু আন জাবালিন মিন জাহাব) কিয়ামত ঐ সময় পযন্ত কায়েম
হবেনা যতক্ষম ফুরাত নদী থেকে সোনার পাহাড় প্রকাশিত হবেনা।
আর
আল এশায়া লি আশরাতিছ সাআ - এটি ইমামে বারজানজির কিতাব, এই বিষয়ে যারা কথা বলতে চান
তারা কমপক্ষে এই কিতাবটি পড়ে নিবেন। ইমাম বারজানজি লিখেন ফুরাত নদী শুকিয়ে যাওয়ার ফলে
সে নদী থেকে সোনার পাহাড় প্রকাশ পাওয়া এটাকে ইমামে মাহদী (রা) এর আগমনের আলামত উল্লেখ
করা হয়েছে, সুতরাং যতক্ষন ফুরাত নদী শুকিয়ে যাবেনা এবং তার থেকে সোনার পাহাড় আবিস্কার
হবে না ততক্ষন ইমাম মাহদী (আ) আত্মপ্রকাশ করবেন না।
আর
তেমনি ভাবে সহিহ বুখারীর হাদীস হযরত আবু হুরায়রা (রা) বর্ননা করেন নবী করিম (দ) এরশাদ
করেন (ইউশিকুল ফুরাতু
আন এয়াখছিরা আন কানজিন মিন জাহাবিন ফামান হাদারাহু ফালা এয়াখুজ মিনহু শাইয়্যান)
নবী করিম দ) এরশাদ করেন অতি সন্নিকটে ফুরাত নদী থেকে এক স্বণের পাহাড় বের হবে আর যারা
সেখানে উপস্থিত থাকবে তারা যেন সে সোনার পাহাড় থেকে কিছু না নেয়,
দেখুন
এই হাদীসের মধ্যে ফুরাত নদী শুকিয়ে যাওয়া এবং তার মধ্যে সোনার পাহাড় বের হওয়া ইমাম
মাহদীর আগমনের আগের একটি স্পষ্ট আলামত। এটা শুধু মুসলমানদের আকিদা নয় বরং খ্রিষ্টান
ধর্মেও কেয়ামতের আগে ফুরাত নদী শুকিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ আছে,
তবে
এই কথার মধ্যে সন্দেহ নাই যে খুব দ্রুত ফুরাত নদী শুকিয়ে আসছে, আর ফুরাত নদী থেকে স্বর্ণের
পাহাড় যে কোন সময় বের হতে পারে, অনেকে এই পাহাড় এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তেল পেট্রোল
বলে দাবী করেন - কিন্তু ফুরাত নদীর ৩টি সেকশন যার ১টি অংশ তুর্কির পাশ দিয়ে অতিক্রম
করেছে, আর মধ্যম অংশ সিরিয়াতে আর অপর অংশ ইরাকের উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে, আর এই ফুরাত
নদীর ২৮% বর্তমান তুর্কির অধিনে,
কিছুদিন
আগে তুর্কিতে সোনা খনি আবিস্কার হল তখন যারা এতদিন সোনার পাহাড়কে তেল পেট্রোল বলে ব্যাখ্য
দিয়ে আসছিল তাদের সে দাবী থেকে তারা সরে এসেছে। তবে আমি এটা দাবী করছি না যে তুর্কির
সে সোনা ফুরাত নদীর সে সোনা যার কথা নবী করিম (দ) বলেছেন,
আর
ফুরাত নদী থেকে স্বর্নের পাহাড় বের হওয়ার পর পরই ইমাম মাহদী প্রকাশিত হবেন না বরং তার
পর এক মহাযুদ্ধ শুরু হবে, লোকেরা এই সোনাকে অর্জন করার জন্য একে অপরের সাথে লড়াই করবে,
অনেক বড় ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ হবে, একজন বাদশার মৃত্যু হবে, আর এই খাজানার জন্য ৩ জন শাহজাদার
মৃত্যু সংগঠিত হবে,
আর
মনে রাখবেন এই যুদ্ধে ইমাম মাহদী (রা) নিজে অংশগ্রহণ করবেন না, ফুরাত নদীর স্বর্ণের
জন্য যে যুদ্ধ হবে সে যুদ্ধে ইমাম মাহদী (রা) শরীক হবেন না। তখনও তার বায়আত এর সিলসিলা
শুরু হবেনা, এরপর সে সময়টি আসবে রমজানুল মোবারকের ১ম রাত চন্দ্র গ্রহণ আর দুপুরে সুর্য
গ্রহণ হবে, আর মাহে রমজানে চন্দ্র গ্রহণ ২ বার হবে, আর যখনই জমিন ও আসমান সৃষ্টি হয়েছে
এমনটি ২য় বার হয়নি, আর এই সময়ে নেক নফসে জাকিয়্যা কে শহিদ করে দেয়া হবে, যিনি ইমাম
মাহদী (রা ) এর জামানায় হবেন।
সে
সময় একজন সুফিয়ানি জালেম বাদশা হবেন যে হযরত আমিরে মুয়াবিয়ার ভাই এজিদের বংশের লোক
হবে, যে জামে মসজিদ দামেস্কের মধ্যে প্রকাশ্যে যেনা করবে প্রকাশ্যে মদ পান করবে, আর
তখন ইমাম মাহদী (রা) এর প্রকাশের খবর শুনবে তখন সে জালেম বাদশা ইমাম মাহদীর বিরুদ্ধে
তার সৈন্য পাঠাবে। ইমাম মাহদী (আ) এর আগমন এর আগে সুফিয়ানিদের ধ্বংসাত্মক কাজ সীমাহীন
বেড়ে যাবে।
আর
এই সময় শাম দেশের একটি বস্তি হারাছতা নামক বস্তি জমিনে ধসে যাবে, আর এসব ঘটনা ইমামে
মাহদী (রা) এর আগমনের আগেই সংগঠিত হবে।
এখন
যদি এই বছর ২০২১ সালের মে মাসে ইমাম মাহদী (রা) আগমন হয় তাহলে এই সব ঘটনার প্রতি আমাদের
দৃষ্টি রাখতে হবে,
এখন
চিন্তা করুন ইমাম মাহদী আগমনের আগের এই সমস্ত ঘটনা কি সংগঠিত হয়ে গেছে? আর এই সব আলামত
মাত্র ২ মাসের মধ্যে সংগঠিত হওয়া সম্ভব?
হযরত
নুয়াইম বিন হাম্মাদ হযরত সাঈদ বিন মুসায়্যেব (রা) থেকৈ নকল করেন শাম দেশে এত বেশী ফিতনা
ছড়াবে, এক জায়গায় যখনই ফিতনা বন্ধ হবে অন্য স্থানে শুরু হয়ে যাবে, ততক্ষন পযন্ত সে
ফিতনা বন্ধ হবে না যতক্ষন আসমান থেকে এক আহ্বান কারীর আহ্বান না আসবে যে তোমাদের আমির
অমুক, অর্থ্যাৎ তখন ইমাম মাহদী (রা) এ আগমন হয়ে গেছে। এই হাদীস নুয়াইম বিন হাম্মাদ
এর কিতাবুল ফিতনে আছে। যিনি ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের ওস্তাদ।
অপর
রেওয়ায়েতে আছে আসমান থেকে এই আওয়াজ আসবে (হাজা খলিফাতুলল্লাহি) ইনি আল্লাহর খলিফা মাহদি
তার অনুসরন কর। সে আওয়াজ পূব ও পশ্চিম প্রান্তে ছড়িয়ে পরবে। আর সে আওয়াজ এমন হবে ঘমন্ত
কেহ থাকলে সে আওয়াজে তার ঘুম ভেঙ্গে যাবে। আর তখন ইমাম মাহদী মদীনায় হবে আর মদীনা শরীফ
থেকে মক্কায় পৌঁছেই দায়িত্ব পালন শুরু করে দিবেন।
কিছু
সময় অতিবাহিত হওয়ার পর ইমাম মাহদী (রা) এর উপর হামলার জন্য সুফিয়ানিরা তাদের সৈন্য
প্রেরণ করবে, আর সুফিয়ানিদের এই ফৌজ বায়দা নামক স্থানে গিয়ে সকলে জমিনে ধসে যাবে। যেহেতু
সুফিয়ানিদের জমিনে ধসে যাওয়া ইমামে মাহদীর প্রকাশের আলামত সেহেতু তখন দুনিয়ার সকল আল্লাহওয়ালা,
নেক মুত্তাকিরা, অলি আল্লাহরা, শাম দেশের বড় বড় আবদালগন মক্কা মুকাররমায় কাবার সামনে
মকামে ইবরাহিম ও হাজরে আসওয়াদ এর মাঝে ইমাম মাহদী (রা) এর হাতে বায়েত করবেন।
হযরত
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) এর মতে আসহাবে কাহাফের ভায়েরাও ইমাম মাহদীর হাতে বায়াত
গ্রহণ করবেন।
আর
ইমাম বদরুদ্দীন আইনী (রহ) ওমদাতুল কারি সহিহ বুখারীর শরাহ তে নিজের গবেষনার আলোকে এই
হাদীসের সনদকে মরফু লিখেছেন।
তেমনি
ভাবে হযরত মনসুর যিনি আহলে বায়ত থেকে হবেন আর তার লকব হবে আল হারেস, আর এই মনসুর ইমাম
মাহদী (রা) এর ভাই বা চাচাত ভাই হবেন। আর তার ডান হাতে একটি কালো তিল হবে, আর সে উক্ত
সময়ে মাশরিকের শেষ সিমায় হবেন, এবং সে ইমাম মাহদীর পক্ষ হয়ে সুফিয়ানিদের সাথে জিহাদ
করবে।
এরপর
ইমাম মাহদী সুফিয়ানিদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য শামের সিমানায় পৌঁছে যাবেন, আর সুফিয়ানিদেরকে
গ্রেফতার করে ইমাম মাহদী (রা) এর সামনে হাজির করা হবে, আর ইমাম মাহদী (রা) সুফিয়ানিদের
হত্যা করবেন, আর তখন সুফিয়ানিদের সকল জুলুম অত্যাচার শেষ হবে।
এরপর
জমিন তার ভিতর থেকে স্বর্ণের পাহাড় বের করে দিবে, কাবাতুল্লায় যে খাজানা দাফন আছে ইমাম
মাহদী (রা) সেগুলি বের করে ফি সবিলিলল্লাহ দান করবেন।ইমাম মাহদী বেশী বেশী মানুষের
মাঝে সোনা চান্দি বিলি করবেন, তখন মানুষ এত বেশী সম্পদশালী হবেন যে কারো কোন প্রকারের
অভাব থাকবেনা।
মানুষের
অভাবহীন হওয়া এবং জমিনের উবরতার অবস্থা এমন হবে যে শুস্ক লাকড়ি যদি শুস্ক জমিনে রোপন
করা হয় তা সবুজ শ্যামল হয়ে ফুলে ফলে ভরে যাবে। আর ধন দৌলতের আধিক্যতা এবং মুসলিম দুনিয়ার
অর্থনৈতিক উন্নতির অবস্থা এমন হবে যে জীবিত লোকেরা আকাংখা করবে হায় যদি ঐ সব লোক এখন
জীবিত হত যারা অভাব অনটনে দিন অতিবাহিত করেছিল? তারা আজকের মুসলমানদের সুখ স্বচ্ছলতা
দেখে নিত।
দেখুন
আজ দুনিয়ার সকল কাফের শক্তি ইসলামের চেরাগকে নিভিয়ে দেয়ার জন্য চেষ্টা প্রচেষ্টায় লিপ্ত,
আর সারা বিশ্বের মুসলমানরা অত্যন্ত নির্যাতিত নিপীড়িত ও অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছে,
এ অবস্থায় যখন মুসলমানদের হতাশার শেষ নেই, ঠিক তখন আমরা এই সব হাদীস সমুহ শুনি তখন
আশার আলো দৃষ্টিগোচর হয়, আর এটাই সে আশা যা আমাদের ভিতর হিম্মত ও শক্তি এবং মেহনতের
জজবা তৈরী করে। সে দিন বেশী দুরে নয় যেদিন উম্মতে মুসলিমাকে উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে
পুনরায় অধিষ্ঠিত করা হবে।
জামে
তিরমিযির হাদীস (লা তাজহাবু্দ্দুনিয়া হাত্তা এয়ামলিকাল আরাবা
রাজুলু মিন আহলি বাইতি) সুবহানাল্লাহ অর্থ্যাৎ দুনিয়া সে সময় পযন্ত ধ্বংস হবেনা
যতক্ষন আমার আহলে বায়ত থেকে একজন পুরুষ আরবদের শাসক না হয়।
(এয়ামলাউল আরদান কিসতান ওয়া আদলান কামা মুলিয়াত জুলমান ওয়া জাওরা) সে আহলে বায়তের পুরুষটি পৃথিবীকে ন্যায়
নীতি ও ইনসাফ দিয়ে এমনভাবে ভরিয়ে দিবেন যেমন এই জমিন জুলুম দ্বারা ভরে ছিল।
এখন
বিবেকের কাছে প্রশ্ন- এতক্ষন আমি ইমাম মাহদী (রা) এর আগমনের আগে যে সব আলামতের কথা
হাদীসের আলোকে বয়ান করেছি তা কি প্রকাশিতে হয়ে গেছে? যদি না হয় তাহলে আর মাত্র ২ মাস
পর অর্থ্যাৎ মে মাসে ইমাম মাহদীর প্রকাশ ঘটবে, তাহলে কি এই ২ মাসের মধ্যে এই সব কিছু
ঘটে যাওয়া সম্ভব?
যদি
আমরা মেনেও নিই এই ২ মাসের মধ্যে ফুরাত নদী শুকিয়ে যাওয়া, স্বর্ণের পাহাড় বের হয়ে আসা,
এবং এসব ঘটনা দুর্ঘটনা, যুদ্ধ বিগ্রহ হয়েও যায়, সারা বিশ্বের মানচিত্রও বদলে যায়, এবং
এই বছরের মে মাসে যদি সত্যি সত্যি ইমাম মাহদীর প্রকাশ ঘটে যায়, যদি আমরা এটাকে মেনেও
নিই, তাহলে আমি প্রশ্ন করতে চাই, ২০২৩ সালে হযরত ইসা (আ) কিভাবে নাজিল হবেন?
কেননা
যারা দাবী করেছেন ২০২১ সালে হযরত ইমাম মাহদীর প্রকাশ হবে এবং ২০২৩ সালে হযরত ইসা (আ)
নাজিল হবেন, আর এই দাবীর পক্ষে তারা বিভিন্ন হাদীস পেশ করছেন এবং এই হাদীসের সাথে সাথে
কিছু গোপন জ্ঞান রহস্য ও এলমুল আদাদ এর সাহায্য গ্রহণ করা হচ্ছে, আমরা এসব জ্ঞানকে
অস্বিকার করিনা, কিন্তু যখন এসব রহস্যময় জ্ঞান এর সাথে প্রকাশ্য হাদীসের সাথে বিরোধ
দেখা যায় তখন তা গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা।
কারন
যারা দাবী করছে ২০২১ সালে ইমাম মাহদী আর ২০২৩ সালে হযরত ইসা (আ) এর নাজিল হবে, তাদের
জন্য সহিহ হাদীস দ্বারা প্রমাণ করব ইমাম মাহদীর প্রকাশের পর তার হকুমত ৭-৯ বছর পযন্ত
হবে। আর সে সময়টিতে খোরাসান থেকে কালো পতাকা সহ এক দল সৈন্য ইমাম মাহদীকে সাহায্য করার
জন্য আসবে। আর গযওয়ায়ে হিন্দও এই সময়টিতে হবে। আর ইমাম মাহদীর সময়টিতে গযওয়ায়ে হিন্দ
এর অস্বিকার করা সম্ভব নয়। আর এই জামানাতেই বায়তুল মকদসও মুসলমানদের কব্জায় এসে যাবে।
এই জামানাটি ইমাম মাহদীর বিজয়ের জামানা হবে। ইমাম মাহদী বড় বড় হকুমতের তক্তাকে উল্টে
দিবেন। আর এই সময়টিতে দুনিয়ার সকল ইহুদী ইসফাহান এলাকায় আবাদ হবে। যা ইরানের একটি জায়গা।
বায়তুল মকদস বিজয় হয়ে যাবে।
আর
ইমাম মাহদীর বিজয় দেখে দুনিয়ার সকল ইহুদী তাদের নেতা যাকে আমরা দাজ্জাল বলে থাকি সে
দাজ্জালের অপেক্ষায় ইরানের এলাকা ইসফাহানে একত্রিত হয়ে যাবে। আর এই ইসফাহানের ব্যপারে
ইমামে নববী (রহ) বিস্তারিত বয়ান করেছেন। বতমানেও ইরানের সে ইসফাহানে ইহুদীরা অধিক সংখ্যক
অধিবাসী। আর এটাই সে এরিয়া যাতে দুনিয়ার সকল ইহুদী হিজরত কর জমা হয়ে যাবে। এবং দুনিয়ার
সকল ইহুদী তাদের সকল মতবাদ মতপাথক্য ভুলে তাদের নেতা দাজ্জালের পতাকাতলে একত্রিত হয়ে
পুনরায় বায়তুল মকদসকে নিজেদের কব্জায় নেয়ার জন্য চেষ্টা চালাবে। আর তখন দাজ্জাল সেখান থেকে ৭০ হাজার ইহুদীকে নিয়ে
বের হবে এবং সারা দুনিয়ায় ফিতনা ছড়িয়ে পড়বে।
িএখানে
বলে রাখি ফুরাত নদীর সোনার পাহাড়ের জন্য যে যুদ্ধ হবে তাতে ইমাম মাহদী (রা) শামিল হবেন
না। কিন্তু ইমাম মাহদীর জামানার শেষ ভাগে যখন আল মালহামাতুল কুবরা হবে সবচেয়ে বড় মহাযুদ্ধ
হবে যাকে বাইবেলে আমে গেডেন বলা হয়েছে, সে যুদ্ধে ইমামে মাহদী (রা) শামিল হবেন। আবার
সে আল মালহামাতুল কুবরা বা আমে গেডেন এ দাজ্জাল শামিল হবেন না।
আপনারা
কি বুঝেছেন? ফুরাত নদীর স্বণ নিয়ে যে যুদ্ধ তাতে ইমাম মাহদী শামিল হবেন না। কিন্তু
নিজের ৭ বছর বা ৯ বছরের জামানায় আল মালহামাতুল কুবরায় ইমাম মাহদী (রা) শামিল হবেন।
আর সে বড় মহা বিশ্বযুদ্ধে দাজ্জাল শামিল হবেনা।
এই
ধারাবাহিকতা যদি আপনি মনে রাখেন তাহলে আপনার পরে গিয়ে হাদীস সমুহ বুঝতে সহজ হবে।
মালহামাতুল
কুবরায় ইমাম মাহদী (রা) নিজে মুসলমানদের নেতৃত্ব দিবেন, আর এই মালহামাতুল কুবরা ইমাম
মাহদী (রা) এর জামানার ৭ম বছরে হবে। আর এই যুদ্ধে রোমীয়দের ৯ লাখ ৬০ হাজার সৈন্য ইসলামের
বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। এটা এত বেশী ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ হবে পৃথিবীর ইতিহাসে এমন যুদ্ধ
আর হয়নি। আর সে সময় উন্নতমানের টেননোলজি অস্ত্র শস্ত্র থাকবেনা। আর এই যুদ্ধে দুনিয়ার
অধিকাংশ শহর ধ্বংসস্তুপে পরিণত হবে। আর সারা দুনিয়ার মধ্যে শুধু সে শহরই বাকী থাকবে
যেখান থেকে ইবরাহিমি মাজহাবের শুরু হয়েছিল। আর এটা নিউক্লিয়ার ওয়েপেনস এর ব্যবহারের
ফলে হতে পারে। এই মারাত্মক নিউক্লিয়ার ওয়েপেনস এর কারনে দুনিয়ার মানচিত্রই বদলে যাবে।
আর এই মহাযুদ্ধের ফলে তখন উন্নতমানের টেকনোলজি আর বাকী থাকবে না। তখন পুরানা যুগের
সে ঘোড়া, তরবারী, তির ধনুক এর জামানা ফিরে আসবে। কেননা হাদীসে তলোয়ার ঘোড়া তির ধনুকের
জিকির পাওয়া যায়।
আর
ইমাম মাহদীর জামানায় মুসলমানদের যে উন্নত জীবনধারা দেখা যাবে তা এই ৭ বছরের মধ্যেই
হবে যা আল মালহামাতুল কুবরা শুরু হওয়ার আগে হবে। অর্থ্যাৎ মুসলমানদের সুখময় সময়টি সবচেয়ে
বড় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে হবে। আর এই আল মালহামাতুল কুবরার পর ইমাম মাহদী (রা)
কুসতুনতুনিয়াও জয় করবেন এবং রোম দেশও দখল করবেন। আর কুসতুনতুনিয়া ও রোম বিজয়ের সময়
পযন্ত দাজ্জালের আবির্ভাব হবেনা।
অর্থ্যাৎ
আল মালহামাতুল কুবরার কয়েক বছর পর কুসতুনতুনিয়া ও রোম বিজয় হবে, এরপর দাজ্জালের আবির্ভাব
হবে। আর তারপর দাজ্জাল ইরানের ইহুদীদের এলাকা ইসফাহান থেকে ৭০ হাজার ইহুদীর সৈন্য নিয়ে
বের হবে, আর সারা পৃথিবীতে ফিতনা ছড়িয়ে দিবে, যখন দাজ্জালের ফিতনা মারাত্মক আকার ধারন
করবে তখন হযরত ইসা (আ) এর নুজুল দামেস্কের জামে মসজিদে হবে। আর হযরত ইসা (আ) দাজ্জালের
বিরুদ্ধে লড়াই করে তাকে হত্যা করবেন।
এখন
আমরা যদি ইমাম মাহদীর আত্মপ্রকাশ ২০২১ এর মে মাসে মেনেও নিই, তাহলে ইমাম মাহদীর আত্মপ্রকাশের
পরের এই ঘটনাসমুহের জন্য অনেক বছরের প্রয়োজন,
হাদীস শরীফের আলোকে ইমাম মাহদীর আত্মপ্রকাশের পর তার হকুমত চলবে কমপক্ষে ৭ বছর,
অন্যান্য বণনায় ৯ বছরের কথা উল্লেখ আছে। তাহলে বুঝা যায় হযরত ইমাম মাহদী (রা) এর আত্ম্প্রকাশের
পর কমপক্ষে ৭ বছর পর হযরত ইসা (আ) নাজিল হবেন। এবং হযরত ইসা (আ) এসে দাজ্জালকে কতল
করবেন।
এখন
যারা দাবী করছে ২০২১ সালের মে মাসে হযরত ইমাম মাহদী (রা) আগমন হবে তাহলে আর বাকী আছে
মাত্র ২ মাস আর এই ২ মাসে এসব আলামত প্রকাশ হওয়া খুবই অসম্ভব। এখন যদি আমরা এই কথাকে
মেনেও নিই, তবুও হযরত ইসা (আ) এর নাজিল হওয়ার জামানা পযন্ত কমপক্ষে ১০-১২ বছর লেগে
যাবে। কেননা ৭ বছর হবে ইমাম মাহদীর জামানা, এরপর মহাযুদ্ধ আল মালহামাতুল কুবরা, এরপর
আসবে দুর্ভিক্ষের জামানা, এরপর ৩ বছর কেটে যাবে, এরপর কুসতুনতুনিয়া ও রোম বিজয় হবে,
এরপর দাজ্জালের আবির্ভাব, এরপর দাজ্জালের ফিতনার জামানা, এরপর হযরত ইসা (আ) এর আগমন
হবে,
তাহলে
যদি মেনে নেয়া হয় ২০২১ সালে ইমাম মাহদীর আত্মপ্রকাশ হবে, তাহলে সহিহ হাদীসের আলোকে
২০৩৫ সালে হযরত ইসা (আ) এর আগমনের আশা করা যায়। কিন্তু ২০২৩ সালে হযরত ইসা (আ) এর আগমন
কোন ভাবেই সম্ভব নয়।
সম্মানিত
দশক শ্রোতাদের জন্য আজ আমি আহাদীসের আলোকে কেয়ামতের আলামতের ধারাবাহিকতার যে নকশা দাঁড়
করিয়েছি, সে তরতিব বা ধারাবকিতাকে বুঝে নিন, আর তা মনে রাখার জন্য ১টি আরবী শব্দ মনে
রাখবেন (মুদ্দাঈ) মিম, দাল, আইন, ইয়া। আর মিম দ্বারা মাহদী, দাল দ্বারা দাজ্জাল, আইন
দ্বারা ঈসা, ইয়া দ্বারা এয়াজুজ মাজুজ।
প্রথমে
ইমাম মাহদী আসবে, তারপর দাজ্জাল আসবে, তারপর হযরত ইসা আসবে, আর সবশেষে এয়াজুজ মাজুজ
বের হবে।
ইমাম
মাহদী (রা) এর আগমনের আগের যে সব আলামত বয়ান করেছি তা বারবার শুনুন আর মুখস্থ করে রাখুন
, নিজের সন্তানদেরকেও এসব জানিয়ে দিন, এটা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত জরুরী এলম।
যা
হাদীস শরীফের আলোকে ধারাবাহিক ভাবে বয়ান করা হয়েছে, সুতরাং এ বিষয়ে আর কোন ধরনের সংশয়
এর অবকাশ থাকবেনা। যে কেহ যেন তেন ভাবে দাবী করে দিতে পারবেনা যে ২০২১ সালের মে মাসে,
যদি ২০২১ সালে মাহদী (রা) আসবে মেনেও নেয়া হয় ২০২৩ সালে হযরত ইসা (আ) এর আগমন হবে সে দাবী অসাড়
ও অসম্ভব দাবী বলে বিবেচিত হয়। তবে সবশেষে প্রত্যেকের কাছে অনুরোধ এখন বেশী বেশী নেক
আমল করা দান সদকা করা তওবা এসতেগফার করা, দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য প্রতি জুমার
দিন সুরা কাহাফ পড়া প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত জরুরী। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে
তৌফিক দান করুন। আমিন

কোন মন্তব্য নেই