১০০% ওজিফার সরদার। সব আশা পুরণ। সকল অভাব দুর। দোয়া। আমল। ওজিফা। Dua Amol...
সকল অজিফার সরদার
সম্মানিত সুধী বৃন্দ আজ আমি
এমন এক অজিফার কথা বলব যে অজিফাটি পড়লে আপনার মুখ থেকে যাই বের হবে তাই আল্লাহ কবুল
করে নিবেন, আপনার কোন অভাব অপূণ থাকবে না, যারা সৌভাগ্যবান তারাই শুধু এই ওজিফাটি করতে
পারে
এ ওজিফা পাঠে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি
পায়। সর্বাবিধ বিপদ-আপদ দূরীভূত হয়। দেহ রোগমুক্ত থাকে। স্বাস্থ্য অটুট হয়। হায়াত
বৃদ্ধি পায়। যাবতীয় অভাব-অভিযোগ মোচন হয়। ইহকাল এবং পরকালের কল্যাণসহ দ্বীন-দুনিয়ার
সকল মক্বসূদ হাসিল হয়। নিয়মিত বেশি বেশি ওজিফাটি পাঠকারীর হাশরের মাঠে নবী করীম ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুপারিশ প্রাপ্তি ও মুক্তি লাভের আশা করা যায়। ওজিফাটি পাঠের
সর্বাপেক্ষা স্বাদের ও মধুর বিশেষত্ব এই যে,
এটি পাঠের উছিলায় পাঠক উন্নতির পথে অগ্রসর হয়। তার সমগ্র জীবনের সকল প্রকার
গুনাহ্ মাফ হয়ে যায় এবং স্বপ্নযোগে নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দীদার
নছিব হয়। অর্থাৎ জিয়ারত বা দর্শন লাভ হয়। আর সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তির জন্য দোযখ হারাম
এবং বেহেস্ত অনিবার্য হয়ে যায়।
প্রথমে আসুন সে ওজিফাটির ব্যপারে
১টি বাস্তব ঘটনা শুনি
এক বুযুর্গ ব্যক্তি ঘন জঙ্গলে
চলে যাচ্ছিলেন। জঙ্গলের আশে পাশের লোকজন বুযুর্গকে জঙ্গলের ভিতর যেতে নিষেধ করলেন।
কারন জঙ্গলটি খুবই ভয়ানক, কারন সেখানে হিংস্র প্রাণীরা প্রতি পদে পদে আক্রমণ করতে পারে।
বুযুগ জবাব দিলেন আমার মালিক আল্লাহ সুতরাং আমার কোন ভয় নাই। বুযুর্গ ব্যক্তিটি গ্রামের
লোকজনের কথায় কান না দিয়ে জঙ্গলে চলে গেলেন রাতে আর ফিরে এলেন না। তখন গ্রামের লোকজন
সকালে সে বুযুর্গের খোঁজে সকলে জঙ্গলে ঢুকে গেল, তারা ভাবল বুযুর্গকে বনের হিংস্র প্রাণি
মেরে খেয়ে ফেলেছে। কিন্তু গ্রামের লোকজন বনের গভিরে দেখল সে বুযুর্গ ঘন জঙ্গলের ভিতর
আল্লাহর এবাদতে মশগুল। সকলে বুযুর্গকে সাথে নিয়ে গ্রামে চলে এল। সকলেই বুযুর্গকে প্রশ্ন
করল হুযুর এমন ভয়ানক জঙ্গলে আপনি কিভাবে রাত কাটালেন? তিনি জবাব দিলেন আমি খুব আরামে
বিনা টেনশনে সারা রাত কাটিয়েছি। সকলে প্রশ্ন করল আপনাকে কি বনের ভয়ংকর প্রাণী ও ভয়ানক
জ্বিনেরা কষ্ট দেয় নি? ভয় লাগায়নি? তখন বুযুর্গ জবাব দিল আমি একটি হাদীস শুনেছি যে
কেহ যদি নবী করিম (দঃ) এর উপর একবার দরুন পাঠ করবে আল্লাহ তায়ালা তার উপর ১০টি রহমত
নাযিল করেন। আমি এ হাদীসের উপর পূর্ণাঙ্গ ঈমান নিয়ে দরুদ পাঠ করে আমি সে জঙ্গলে সারা
রাত কাটিয়েছি কারন যার উপর মহান রবের ১০ রহমত নাযিল হচ্ছে তাঁকে দুনিয়ার কোন শক্তি
কিভাবে ক্ষতি করতে পারবে? আল্লাহ তায়ালা আমার এ একিন ও বিশ্বাসের কারনে আমাকে হেফাজত
করেছেন দরুদ শরীফের বরকতে আল্লাহর রহমতে এখনও আমি আপনাদের সামেন ছহি ছালামত আছি। সুবহানাল্লাহ।
নবী করিম (দঃ) এরশাদ করেন যখনই
তোমাদের কোন পেরেশানি আসে তখন তোমরা আমার উপর বেশী বেশী দরুদ পাঠ কর তাহলে আল্লাহ তাবারাকা
ওয়াতায়ালা তোমাদের পেরেশানি দুর করে দিবেন। আর বেশী দরুদ এর সংখ্যার ব্যপারে ওলামায়ে
কেরাম বলেন ৩০০ বার অথবা ৩১৩ বার। অথ্যাৎ কেহ দিনে ৩ শত বা ৩১৩ বার দরুদ পাঠ করে তাহলে
সে অধিক দরুদ পাঠকারী হিসেবে গণ্য হবে।
অপর এক রেওয়ায়েতে আছে নবী করিম
(দঃ) এরশাদ করেন- যে ব্যক্তি প্রতিদিন হাজার বার দরুদ পাঠ করে সে ততক্ষন মৃত্যু বরণ
করবে না যতক্ষন নিজের স্থান জান্নাতে দেখতে না পাবে। হাদীসের ব্যখ্যাকারী গণ বলেন এটা
মুলত জান্নাতে প্রবেশের সুসংবাদ।
অভাব দুর করার জন্য সবচেয়ে
আফযল অজিফা হল দরুদে পাক পাঠ করা। নবী করিম (দঃ) এরশাদ করেন যে ব্যক্তি প্রতিদিন আমার
উপর ৫০০ বার দরুন পাঠ করবে তাঁর সকল অভাব অনটন দুর হয়ে যাবে।
অপর এক রেওয়ায়েতে আছে নবী করিম
(দঃ) এরশাদ করেন- আমি স্বপ্নে দেখলাম আমার এক উম্মত পুলসিরাতে এসেছে। আর সে পুলসিরাত
পার হচ্ছিল হঠাৎ তার পা কেঁপে উঠল। এমন সময় সে পুলসিরাত থেকে জাহান্নামে পড়ে যাওয়ার
উপক্রম হল। এমন সময় সে দুনিয়ায় মহব্বতের সাথে আমার উপর যে দরুদ পাঠ করেছিল সে দরুদ
এসে উপস্থিত হয়ে গেল আর সে উম্মতের হাত ধরে তাঁকে পুলসিরাত পার করে দিল।
তিরমিযি শরীফের হাদীস হযরত
উবাই ইবনে কা'ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, একদা আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ্!
আমি আপনার নামে অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করি; অতএব দরুদ পাঠের জন্য আমি কতটুকু সময় নির্দিষ্ট
করব?
_ হযরত ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ''যতটুকু
তুমি চাও। আমি বললাম, ''এক চতুর্থাংশ সময়। আঁ_ হযরত ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বললেন, ''যতটুকু তুমি চাও; আর যদি আরও বেশি কর, তবে তোমার জন্য ভালো হবে। আমি বললাম,
অর্ধেক সময়? আঁ_ হযরত ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যতটুকু তুমি চাও' আর যদি
আরও বেশি কর, তবে তা তোমার জন্য ভালো হবে। আমি বললাম_ তবে দুই তৃতীয়াংশ সময়। আঁ_
হযরত ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যতটুকু তুমি চাও আর যদি আরও বেশি কর, তবে
তা তোমার জন্য ভালো হবে। আমি বললাম, আমি আপনার উপর দরুদ পাঠের জন্য আমার সমুদয় সময়
নির্দিষ্ট করব। আঁ_ হযরত ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তবে তোমার যাবতীয়
সমস্যা সমাধানের জন্য যথেষ্ট হবে এবং তোমার দ্বীন ও দুনিয়ার সকল উদ্দেশ্য পূর্ণ হবে
আর তোমার সমস্ত গোনাহ্ মাফ হবে। (তিরমিযী)
এবার আসুন প্রতিদিন কোন দরুদটি
পাঠ করা উচিত তা জেনে নিই – মনে রাখবেন আমাদের নবী দরুদ শরীফ পাঠ করার জন্য তাগাদা
দিয়েছেন কিন্তু কোন নির্দিষ্ট সিগাহ বলে দেন নি। এটাও উনার একটি রহমত বলা যায়।
অনেকে দরুদে ইবরাহিমি ছাড়া অন্য কোন দরুদ পাঠ করাটাকে নিরুৎসাহিত করেন- এ বিষয়ে
ওলামায়ে কেরাম বলেন সকলের ঐক্যমতে আফযল দরুদ হল দরুদে ইবরাহিমি। নবী করিম (দঃ)
সাহাবাদের আফযল দরুদ হিসেবে দরুদে ইবরাহিমির শিক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা
আমাদেরকে দরুদ ও ছালাম পাঠ করার হকুম দিয়েছেন এখন আমরা যদি শুধু দরুদে ইবরাহিমি
পাঠ করি তাতে দরুদ আছে কিন্তু ছালাম নাই। নিঃসন্দেহে দরুদে ইবরাহিমি ফজিলতময় দরুদ,
কিন্তু এতে ছালাম না থাকায় নামাজ ছাড়া অন্য সময় যখন আমরা দরুদ ও ছালাম পাঠ করব
তাতে এমন ছিগাহ যুক্ত দুরুদ ছালাম পাঠ করা উচিত যাতে দরুদও আছে ছালামও আছে। সুতরাং
ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াছাল্লাম। আসসালাতু আসসালামু আলাইকা এয়া রাসুলাল্লাহ। এ সব
দরুদের মধ্যে দরুদও আছে ছালামও আছে।
আবার অনেকে বলে থাকেন দরুদ পাঠ
করতে হবে শুধুমাত্র যা আহাদীসে করিমা দ্বারা প্রমাণিত এ ছাড়া অন্য কোন ছিগাহ
দ্বারা তৈরী দরুদ পাঠ করা জায়েজ নাই।
এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম বলেন যে
সব দরুদ প্রচলন আছে যা আহাদীসে করিমা দ্বারা প্রমাণিত নয়, তার অর্থের দিকে যদি
খেয়াল করা যায় তাতে দেখা যায় এ সবই দরুদ ও ছালাম যা খুবই অথবহ ও তাৎপর্যপূর্ণ। যা
বড় বড় মশায়েখ ও বুযুগগণ ও আল্লাহওয়ালাগণ রচনা করেছেন, এমনও দেখা গেছে অনেকে এসব
দরুদ রচনা করার ফলে স্বপ্নে প্রিয় নবীর পক্ষ থেকে মোবারকবাদও পেয়েছেন। উপহার
পেয়েছেন। যারা এসব দরুদ পাঠ করেছেন তারা এ দরুদ ও ছালাম পাঠের ফলে উপকৃত হয়েছেন।
আর তাছাড়া সুরা ফাতেহায় আল্লাহ তায়ালা এসব আল্লাহ ওয়ালা ও নেয়ামত প্রাপ্ত
বান্দাদের ব্যপারে শিক্ষা দিয়েছেন (ইহদিনাস সিরাতাল মুসতাকিম সিরাতাল্লাজিনা আন
আমতা আলাইহিম) হে আল্লাহ আমাদেরকে সোজা রাস্তায় চালাও তাদের রাস্তায় যারা তোমার
নেয়ামত প্রাপ্ত বান্দা। সুতরাং এসব আল্লাহওয়ালাগণ যেহেতু একটা বিষয়ে আমাদেরকে
তলকিন করছেন তা অনুসরনেই আমাদের জন্য বরকত রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই