বাচ্চা আপনার সব কথা শুনবে, শুবার সময় বাচ্চার মাথায় হাত রেখে, ১১বার এই দোয়া পড়ে ফুঁক দিন
বাচ্চা আপনার সব কথা শুনবে, শুবার সময় বাচ্চার মাথায় হাত রেখে,
১১বার এই দোয়া পড়ে ফুঁক দিন
সম্মানিত দর্শক
শ্রোতা আল্লাহ তায়ালা ফরমান হে বনি আদম, (আমারতুকা ফাতাওয়াল্লাইত) আমি তোমাকে হকুম
দিয়েছি আর তুমি পিট দিয়ে দিয়েছ? (ওয়া নাহাইতুকা ফাতামাদাইত) আমি তোমাকে কিছু কাজ করতে
নিষেধ করেছি কিন্তু তুমি তাতে মশগুল হয়ে গেলে, (ওয়া সাতারতু আলাইকা সাতাজাররাত) আমি
তোমার দোষ গোপন করেছি কিন্তু তুমি বেপরোয়া হয়ে গেলে (ওয়া আরাজতু আলাইকা ফামা বায়ালাইত)
আমি তোমাকে ঢিল দিয়ে রেখেছি কিন্তু তুমি কোন পরোয়াই করনি।
আল্লাহ নারাজ
হয়ে যাবেন সে দিকে কোন খেয়ালই নাই। ফজর জুহর আসর মাগরীব এশা ছেড়ে দিচ্ছে। আল্লাহর হকুমের
অবাধ্য হচ্ছে কিন্তু আল্লাহ তবুও তাকে কোন দুঃখ পেরেশানিতে লিপ্ত করেননি। িএই জন্য
মসিবত দেননি যে আল্লাহ তার উপর সন্তুষ্ট, বরং আল্লাহ তাকে তার অবস্থার উপর ছেড়ে দিয়েছেন।
আল্লাহ মুলত ঢিল দিয়েছেন কিন্তু সে কোন পরোয়া করলনা।
এরপর ফরমান (এয়া
মান) হে ঐ জন? (ইজা মারিজা শাকা ওয়া বাকা) (ওয়া ইজা আফা তামাররাদা ওয়া আছা) যখন তুমি
অসুস্থ হয়ে যাও তখন অভিযোগ কর, কান্না কর, আবার যখন সুস্ত হয়ে যাও তখন বেপরোয়া হয়ে
যাও, আর নাফরমানি করা আরম্ভ কর।
(এয়া মান) হে
ঐ লোক? (ইজা দাআহুল আবিদু আদা ওয়ালাব্বাক) যখন কোন লোক তোমাকে ডাকে তুমি দৌঁড়ে দৌঁড়ে
যাও। লাব্বাইক বলতে থাক।
(ওয়া ইজা দাআল
জলিল আরাজা) (ওয়া নাআ ইনছাআলতানি আতাইতুক ওয়াইন দাআউতানি আজাবতুক)
আর যখন তোমার রব তোমাকে ডাকে তখন উল্টা পথ ধর, দুরে চলে যাও, যদি তুমি আমার কাছে চাইতে
তাহলে আমি দান করতাম, যদি তুমি আমার কাছে দোয়া করতে আমি তোমার দোয়া কবুল করতাম,
(ওয়া ইন মারিজতা
শাফাইতুক) যদি তুমি রোগাক্রান্ত হও শেফা দিব।(ওয়া ইন ছালিমতা রাজাকতুক) যদি তুমি সহি
সালামত থাক তাহলে তোমাকে রিযিক দান করব।
(ওয়া ইন আকবালতা
কাবিলতুকা) (ওয়া ইন তুবতা গাফারতু লাক) যদি তুমি আমার দিকে অগ্রসর হও আমি তোমাকে কবুল
করব।আর যদি তুমি তওবা কর তাহলে আমি তোমাকে ক্ষমা করব।
(ওয়া আনাত তাওয়্যাবুর
রাহিম) আর আমি তওবা কবুলকারী।রহমকারী।
আজ আল্লাহ রাব্বুল
ইজ্জত থেকে মুখ ফিরিয়ে আমরা চাই আমাদের সমস্যার সমাধান হয়ে যাক।
আজ আল্লাহ রাব্বুল
ইজ্জতের সাথে নাফরমানি করে আমরা কামনা করি আমাদের সন্তান আমাদের ফরমাবরদার হয়েযাক।
একটি কথা মনে
রাখবেন আপনি যার ফরমাবরদা করার কথা তার ফরমাবরদারী যদি না করেন তাহলে যারা আপনার ফরমাবরদারী
করার কথা তারাও আপনার সাথে ফরমাবরদারী করবেনা। আপনি আল্লাহর নাফরমানি করতে থাকলে আপনার
অধিনস্ত আপনার সন্তান সন্ততি স্ত্রী পুত্র কন্যা তারাও আপনার সাথে নাফরমানি করবে এটাই
নিয়ম। আজ সন্তান নাফরমান কেন হল? আপনার নাফরমানির কারনেই হয়েছে।
এক বুযুগ বলেন
আমি যখনই আমার সওয়ারী বা আমার সন্তানকে নাফরমানি করতে দেখি, তখন আমি সিজদায় চলে যায়
এবং আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রাথনা করি, কারন বুযুগ বলেন আমি মনে করি আমার এমন কোন গুনাহ
হয়ে গেছে যার ফলশ্রুতিতে আমার সওয়ারী বা আমার সন্তান নাফরমান হয়ে গেছে। তাই আমি নিজের
গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিই।
আল্লাহর
নাফরমানি করেও আজ আমরা তা বুঝতে পারিনা, তার কারন হল- আমরা রাত দিন নাফরমানিতে মোবতালা
হয়ে গেছি, তার উদাহারন এমন যে আপনি একটি খুশবুর দোকানে থাকেন, সে দোকানে শুধুই খুশবু
আর খুশবু, যখন সামান্য দুর্গন্ধও হয় তখন সকলেই তা অনুধাবন করতে পারে, কারন কি? কারন
পরিবেশটাই হল খুশবু দার তাই সামান্যতম দুর্গন্ধও অসহ্য।
কিন্তু
আপনি যদি কোন দুর্গন্ধময় এলাকায় থাকেন সেখানে থাকতে থাকতে আপনার কাছে সে দুর্গন্ধ স্বাভাবিক
হয়ে যাবে, তখন আপনি ময়লার স্তুপের পাশে দাঁড়িয়ে থাকলেও দুর্গন্ধ বুঝতে পারবেন না। আজ
আমাদের সকলের অবস্থাও এমন যে আমরা নাফরমানির স্তুপের পাশে নাফরমানির বাজারে নাফরমানির
পরিবেশে বসবাস করছি তাই এখন অহরহ নাফরমানি করেও দেখেও বুঝতে পারিনা যে আমরা নাফরমানির
মধ্যে আছি।
আজ
আমাদের উপর অহরহ যে মসিবত আসে তার কারন আমরা খুঁজি কিন্তু বুঝতে পারিনা, অথচ এই মসিবত
সমুহের একমাত্র কারন আল্লাহর অসন্তুষ্টি। আল্লাহর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়াই আমাদের
মসিবতের একমাত্র কারন।
আপনি
নিজে চিন্তা করুন- আল্লাহর কি প্রয়োজন আমাদেরকে মসিবত দেয়া? আল্লাহ আমাদেরকে অনেক মহব্বত
করেন। একজন মা তার পালিয়ে যাওয়া সন্তানের ফিরে আসার জন্য ততটা অপেক্ষা করেনা, যতটা
রব তায়ালা তার গুনাহগার বান্দার তওবার অপেক্ষা করেন,
কিন্তু
আজ আমাদের কাছে সময় নাই যে আমরা আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জতের কাছে মাফ চাইব।
আজ
আপনার সন্তান নাফরমান এর জন্য আপনি আপনার সন্তানকে দোষ দিবেন না, যত মিডিয়া আছে প্রযুক্তি
আছে এসবকে দোষ দিবেন না। মনে রাখবেন সন্তান আপনার জন্য নেয়ামত, স্ত্রী আপনার জন্য নেয়ামত,
আপনার ঘর সংসার আপনার জন্য নেয়ামত, কিন্তু যখন আপনি আল্লাহর দিক থেকে বিমুখ হয়ে যাবেন,
আল্লাহর হকুমকে অমান্য করবেন, আল্লাহর নাফরমানি করবেন তখন আপনার সে নেয়ামতকে আল্লাহ
রাব্বুল ইজ্জত জেহমত বানিয়ে দিবেন। তখন আপনার সন্তান আপনার প্রাণের দুষমন হয়ে যাবে,
স্ত্রী আপনাকে ঘরে শান্তিতে থাকতে দিবেনা, ঘর আছে কিন্তু সে ঘরে আপনার শান্তি আসবেনা।
তাই
আল্লাহর সাথে সম্পক মজবুত করতে হবে, যদি আল্লাহর সাথে সম্পর্ককে দৃঢ় করতে পারেন তাহলে
আপনার সন্তান ফরমাবরদার হয়ে যাবে,
আর
যখন আপনি আল্লাহর সাথে সম্পক করবেন তখন আল্লাহ আপনাকে মহব্বত করতে থাকেন আর জিবরাইলকে
ডেকে বলেন হে জিবরাইল আমি একে মহব্বত করি তা তুমি এলান করে দাও, তখন হযরত জিবরাইল আসমান
ও জমিনে ঘোষনা করে দেন তখন সারা কায়েনাত সে বান্দার সাথে মহব্বত করা আরম্ভ করে।
এমনকি
বিভিন্ন পশু পাখি এমনকি পাথর পযন্ত সে বান্দার সাথে মহব্বত করা আরম্ভ করে, আজ আমরা
পেরেশানিতে লিপ্ত শুধু মাত্র আল্লাহ থেকে বিমুখ থাকার কারনে।
সে
জন্য আমি আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পককে দৃঢ় করার জন্য এত লম্বা লেকচার দিলাম, অনেকে
কমেন্ট করে শুধু অজিফা বলে দিন, কিন্তু শুধু অজিফা বলে দিলে আমি মনে করি আমি হক আদায়
করিনি।
আপনি
যত বেশী ওজিফা করে নিন কিন্তু যতক্ষন আল্লাহর নাফরমানি ছাড়বেন না কোন ওজিফা কাজ করবেনা।
এবার
আসুন মুল ওজিফাটি আলোচনা করি- এই ওজিফাটি করার আগে অবশ্যই তওবা করে নিবেন, এবং আল্লাহ
নারাজ হন এমন কাজ থেকে বিরত থাকবেন।
ওজিফাটি
হল আল্লাহর গুনবাচক নাম থেকে (এয়া হাসিব এয়া হাকিম এয়া হাফিজ এয়া হালিম) ৪টি আসমায়ে
মোবারাকা (এয়া হাসি বু এয়া হাকিমু এয়া হাফিজু এয়া হালিমু) আল্লাহর এই নামসমুহ কাগজে
লিখে সে কাগজ পানিতে ভিজাবেন আর সে পানি বাচ্চাকে পান করাবেন।
প্রতিদিন
ফযরের নামাজের পর এবং মাগরিবের নামাজের পর পান করাবেন। ৩ দিন আপনি এই ওজিফাটি করুন
৩ দিনের মধ্যেই ইনশা আল্লাহ আপনি এর উপকার দেখতে পাবেন।
অথবা
প্রতিদিন রাতে শোবার আগে বাচ্চার মাথায় হাত রেখে আল্লাহর এই ৪টি গুনবাচক নাম (এয়া হাসি বু এয়া হাকিমু এয়া হাফিজু এয়া হালিমু)
১১ বার করে পড়ে আগে পরে দরুদ শরীফ পাঠ করে বাচ্চার মাথায় ফুক দিবেন ইনশা আল্লাহ আপনার
সন্তান আপনার ফরমাবরদার হয়ে যাবে।

কোন মন্তব্য নেই