কবর আযাব। কবর আয়াবের আজব ঘটনা।Qabar Azab | Jaalhaq

কবর আযাব। কবর আযাবের ভয়ংকর লোমহর্ষক ঘটনা



ল্লাহর নামে শুরু করছি যিনি বড়ই মেহেরবান ও নেহায়েত রহমকারী। আল্লাহ পাকের কাছে দোয়া আল্লাহ আপনার তামাম জায়েজ খাহেশাত পুরা ফরমাক।

আমিন- আযাবে কবরের এক খওফনাক কাহিনি

যখনই আমি কবরের পাশে পৌঁছলাম বিভিন্ন জানোয়ার তার শরীর ছিড়ে ছিড়ে খাচ্ছে,

দুনিয়াতে এমন লোকের কমতি নাই যারা কুদরতের সৌন্দর্য্য, এবং এই কায়েনাতে লুকায়িত আল্লাহর কুদরত জানার জন্য আসমানের উঁচু মকাম থেকে গভীর সমুদ্রে পর্যন্ত আর পাহাড়ের চুড়া থেকে নিয়ে ঘন জঙ্গল পর্যন্ত, কোনায় কোনায় নিজের কদম পৌঁছিয়েছেন। যার ফলাফল কখনো কখনো চমকপ্রদ তবে কখনো কখনো খুবই ভয়ানক হয়।

সে রকম একটি ঘটনা ডঃ আলী নিজের মুখে বলেন শীত কালের একটি সন্ধ্যা বেলায় আমি আমার ক্লিনিকে অবস্থান করছিলাম, সেদিন রোগী কিছু কম ছিল, তবুও সারাদিনের কাজের কারনে আমি খুবই ক্লান্ত ছিলাম। সেজন্য আমি আমার এসেসটেন্টকে বললাম আমি একটু উপরে আরাম করতে যাচ্ছি তুমি হেন্ডেল করে নিও। যদি কোন সিরিয়াস রোগী এসে যায় তাহলে আমাকে ডেকে নিও। এটা বলেই আমি উপরে চলে গেলাম। কেননা আমার থাকার বিশ্রামের জায়গা উপরেই ছিল। সে সময় আমার বয়স ৩৫ বছর ছিল।

দিনের বেলা আমি সরকারী হাসপাতালে ডিওটি দিতাম, আর রাতে আমার নিজস্ব ক্লিনিক চালাতাম। আমি আমার কামরায় এসে শুয়ে গেলাম, আর খুব দ্রুত আমার ঘুম এসে গেল, আমি জানতাম না এই সন্ধ্যাটি আমার জিন্দেগীর এক খওফনাক সন্ধ্যায় রুপান্তর হবে। এখনই আমার চোখ লেগেছে আর কিছু সময় অতিক্রম হল, হঠাৎ কারো চিৎকারের আওয়াজ ভেসে আসল। আমি জেগে নিচের দিকে দৌঁড়াতে লাগলাম। করিডোরে গিয়ে জানতে পারলাম এক লোক ব্যথার কারনে চিৎকার করছে। আমি সে রোগীকে প্রশ্ন করলাম কি হয়েছে, সে জবাব দিল ডাক্তার সাহেব আমার পায়ে খুব ব্যথা। আমি এসেসটেন্ট এর সহযোগীতায় রোগীকে বিছানায় শুয়ালাম। এরপর আমি তার পায়ের উপর থেকে কাপড় সরিয়ে দেখলাম আর আমি ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে গেলাম। কারন আমি আজ পযন্ত আমার ক্যারিয়ারে এমনটি দেখিনি। তার পায়ের গোস্ত লাল টকটকে ছিল দেখে মনে হচ্ছিল লাল গোস্ত যেন সিদ্ধ হচ্ছে। আমি এ দৃশ্য দেখে ভীত হয়ে গেলাম আর রোগীকে প্রশ্ন করলাম এটা কি অবস্থা? রোগী বলল জানিনা কি হয়েছে তবে ব্যথায় আমার প্রাণ বের হয়ে যাচেছ। এখন আপনিই আমার শেষ সাহারা।

আমি সব ডাক্তারের দ্বারা চিকিৎসা করিয়েছি, আপনার অনেক নাম শুনেছি, অনেক আশা নিয়ে এখানে এসেছি। আমি তাকে সান্তনা দিলাম। তবে চিন্তায় পরে গেলাম এমন রোগ আমি জীবনে কখনো দেখিনি, যা খুবই বিষ্ময়কর, কারন তার পা দেখে মনে হচ্ছিল গোস্ত যেন আগুনের লাভাতে সিদ্ধ হচ্ছে। আমি ভয় করছিলাম এই ইনফেকশন যদি গোটা শরীরে ছড়িয়ে পরে তাহলে রোগীর প্রাণের ভয় আছে।

আমি খুবই টেনশনে আছি, কারন একেতো অজানা রোগ দ্বিতীয়ত তার চিৎকার চেচামেচিতে পরিবেশ আরো ভীতিকর। তার চিৎকারে বাকী রোগীরাও আতংকিত। আমি রিপোট নিয়ে তার কাছে চলে গেলাম। আর তাকে বুঝাতে লাগলাম - দেখ আমি একজন অন্যান্য ডাক্তারের মত ডাক্তার, আর তোমার এই রোগ আমার কাছে একটি অজানা রোগ, আমি জানিনা এর কি চিকিৎসা, তবে আমার ভয় হচ্ছে তোমার এই রোগ যদি সারা শরীরে ছড়িযে পরে তাহলে তোমার প্রাণের খতরা আছে। তাই আমি মনে করি তোমার পা কেটে ফেললেই তোমার প্রাণের জন্য নিরাপদ।

কিন্তু রোগী কেঁদে কেঁদে বলল ডাক্তার সাহেব আমার পা না কেটে সুস্থ হয়ে যাওয়ার চিকিৎসা দিন আপনি যত টাকা চান আমি আপনাকে দিব। তার এমন আকুতি শুনে আমি আমার মেডিকেলের অন্যান্য ডাক্তারদের সাথে একটি মিটিং এর আয়োজন করলাম, তাদের সাথে পরামর্শ করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে তার পা কেটে ফেলাই একমাত্র চিকিৎসা। এ কথা শুনে রোগী খুব কান্না শুরু করল।

সে আমাকে তার এই রোগের কারন জানিয়ে বলল, ডাক্তার সাহেব আমি একজন ধনী ঘরের সন্তান, আমার শখ ছিল এডভেনচার করা, নানা ভয়ংকর সফরে যাওয়া। একবার আমি এক মিশনে গেলাম যেটা এক পুরানো শহর, দুর দুরান্ত পযন্ত শুধু ময়দান আর ময়দান, কোন গাছ পালা ছিলনা যার ছায়ায় আমরা আরাম করতে পারি, অনেক দুর যাওয়ার পর একটি কবরস্থান দেখলাম। যেখানে বড় বড় বেশ কিছু ছায়াদার গাছ দেখলাম, যা দেখে আমরা খুশী হলাম।

আমাদের টিমে ১২ জন ছিল আমরা সকলে সে কবরস্থানে গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। প্রচন্ড গরম আর সফরের ক্লান্তির কারনে আমার ঘুম এসে গেলে, আমার সাথীরা সকলে কিছুক্ষন বিশ্রাম করে চলতে শুরু করল কিন্তু আমি বললাম তোমরা যাও আমি আর একটু বিশ্রাম নিয়ে তোমাদের সাথে মিলিত হব। তারা সকলে যখন চলে গেল, আমি একা হয়ে গেলাম, নিস্তব্ধতার মাঝে আমি একজন লোকের চিৎকার শুনতে পেলাম, সে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করছিল।

আমি উঠে গেলাম আর সে চিৎকারের শব্দ যেদিক থেকে আসছিল সেদিকে গেলাম, দেখলাম একটি কবর থেকে এই আওয়াজ আসছে, কবরের কাছে যেতেই যা দেখলাম তাতে আমার বেহুশ হয়ে যাওয়ার অবস্থা। সে কবরের মাটি ছিলনা, মাটি সরে গিয়েছিল, দেখলাম অপরিচিত এক ইদুরের মত জানোয়ার যেটি খরগোশের সাইজের সমান হবে, তার শরীরকে খুব খারাপ ভাবে চিরে চিরে খাচ্ছিল।

মৃত লাশের উপর জঙ্গলী জানোয়ার হামলা করছে ভেবে আমি আমার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে সে প্রাণীকে  তাড়ানোর চেষ্টা করলাম, কিন্তু তাতে কাজ হলনা। তখন আমি আরো একটু আগে বেড়ে পা দিয়ে সে প্রাণীটিকে লাথি মারলাম তখন আমার মনে হল কেহ যেন আমার পায়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। আর মনে হচ্ছিল যেন পায়ের গোস্তগুলি আগুনে সিদ্ধ হচ্ছে।

ডাক্তার সাহেব তখন আমি ভয়ে আতংকে চিৎকার করে দৌঁড়ানো আরম্ভ করলাম আমার চিৎকার শুনে আমার সাথীরা এগিয়ে আসে আর আমাকে তারা দ্রুত হাসপাতাল নিয়ে আসে। কিন্তু আজ পযন্ত কোন ডাক্তারই আমার সঠিক চিকিৎসা দিতে পারেনি। আর এই ঘটনাও আমি কোন ডাক্তারকে বলিনি, আমি এখন আপনার সাহায্য চাই।

ডাক্তার সাহেব বলেন আমি রোগীর সব ঘটনা শুনে আমার পীর হাজী সাহেব এর কাছে গেলাম, পীর হাজী সাহেব কে রোগীর সব ঘটনা বললাম, হাজী সাহেব আমার সাথে আমার ক্লিনিকে চলে আসল, রোগীর সাথে সাক্ষাতের পর হাজী সাহেব আমাকে বললেন, আমাকে ১ রাতের আমল করতে হবে, যাতে আমি এর জন্য কোন রূহানী চিকিৎসা বের করতে পারি,

পরের দিন সকালে পীর সাহেব বললেন আমি বুঝতে পেরেছি এই রোগীটি মুলত একজন নেককার লোক, কিন্তু কবরস্থানে যে মৃত লোক ছিল সে আলমে বরযখে কোন আযাবে লিপ্ত ছিল, আর সে প্রাণীটিও আলমে বরযখের আযাবের অংশ ছিল, যদি দুনিয়াবী কোন রোগ হত তাহলে তার কোন একটা রুহানী এলাজ আমি বলতে পারতাম, কিন্তু কবর জগতের এমন অজানা আযাবের কোন এলাজ আমার কাছে নাই।

এই রোগী আলমে বরযখের দৃশ্য এ জন্য দেখেছে এবং তাকে এই আযাবের সাক্ষী এই জন্য বানানো হয়েছে যাতে কবরের আযাবের সত্যতাকে মানুষ অস্বীকার না করে। তাকে দেখে দুনিয়ার মানুষ যেন নসিহত গ্রহণ করে। এমন ঘটনা প্রায় ঘটে যাতে মানুষ ইবরত হাসিল করে। নসিহত গ্রহণ করে।

যেহেতু সে অসহ্য যন্ত্রনায় আছে সেহেতু তার শরীরের সে অংশ কেটে ফেলাটাই সমাধান। ডাক্তার সাহেব হাজী সাহেবের কথাগুলি রোগীকে যখন বলল সে অবশেষে পা কেটে ফেলতে রাজি হল, আমরা অপারেশনের মাধ্যমে তার পা কেটে ফেলি আর সে এখনো সেভাবেই জীবন যাপন করছে।

মুহতারাম আজিজ দোস্ত আসলে মৃত্যু হল দুনিয়া থেকে পর্দা করার নাম, আর কবর জগত হল ভিন্ন একটি জগত, সে কবর হয়ত মৃত লোকের জন্য একটি জান্নাতের টুকরা হতে পারে কিংবা জাহান্নামের ঘর। আর সে কবরে যখন আযাব হবে তখন আপনার অনুভুতি তেমনই থাকবে যেমন দুনিয়াতে থাকে বরং দুনিয়ার চেয়েও বেশী থাকবে। তাই একবার ভেবে দেখুন অন্ধকার কবরে সাপ বিচ্ছু ও বিষাক্ত প্রাণীর সাথে বসবাস করা তাদের ছোবল খাওয়া কতটা ভয়ংকর হবে।

কোন মন্তব্য নেই

borchee থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.